Monday, June 15, 2015

জামায়াত-বিএনপিকে দলে ভেড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ:কালের কন্ঠ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জামায়াত নেতা আফজাল হোসেন পিন্টু ডজনখানেক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। গত ১২ মে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যো
গদান করেন। একই দিনে স্থানীয় সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মতিউর রহমানও আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মইনুদ্দীন মণ্ডলের সভাপতিত্বে এ যোগদান অনুষ্ঠান হয়। এর কিছুদিন আগেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-বিএনপির সহস্রাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। এভাবে সারা দেশেই বিরোধীদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ২০ দলীয় জোটের সরকারবিরোধী কোনো কর্মসূচি নেই। জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজপথে গণবিক্ষোভও নেই। আপাত শান্ত এ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দীর্ঘস্থায়ী রূপ দিতে চায় ক্ষমতাসীনরা। তারা এ লক্ষ্যে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের দলে ভেড়ানোর কৌশল নিয়েছে। গত দুই মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিপক্ষ দলের ১০ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে আওয়ামী লীগে নেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের দলে টানার প্রক্রিয়া আরো জোরালো হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক কয়েকজন নেতা। দলীয় সূত্রগুলো জানায়, সরকারের গত মেয়াদে প্রতিপক্ষ জোটের নেতাকর্মীদের দলে না নেওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে নির্দেশনা ছিল। সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম এক বছরও এ নির্দেশনা বলবৎ ছিল। কিন্তু মাস তিনেক আগে প্রতিপক্ষের বিষয়ে দলের কঠোর অবস্থান পরিবর্তন হয়। মার্চের প্রথম সপ্তাহে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিএনপির বেশ কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য দেখা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় সংসদে দুই দফায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিএনপির ওই সাবেক সংসদ সদস্যদের আওয়ামী লীগে যোগদানের বিষয়ে কথা হয়। এর পরই সারা দেশে বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের দলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'প্রতিপক্ষ জোটের নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগে যোগদানে আমাদের কোনো কৃতিত্ব নেই। এ বিষয়ে আমরা কোনো কৌশলও গ্রহণ করিনি। এটি তাদের নেতৃত্বের ব্যর্থতার ফল। তাদের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে ভেঙে পড়েছে। এ জন্য আওয়ামী লীগে যোগদান করছে।' তিনি আরো বলেন, 'সরকারের গত মেয়াদে প্রতিপক্ষ জোটের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগে যোগদানের চিন্তাও করত না। তাদের সামনে আশা ছিল যে তারা ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু তাদের দুর্ভাগ্য তারা ক্ষমতায় আসতে পারেনি, আমাদের সৌভাগ্য আমরা ক্ষমতায় আছি। এখন তাদের সামনে কোনো আশার বাণী নেই। ফলে হতাশাগ্রস্ত নেতাকর্মীরা বাঁচার তাগিদেই এখন আওয়ামী লীগে আসছে।' আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আওয়ামী লীগ গণমানুষের একটি রাজনৈতিক দল। এখানে কোনো মানুষকে আসতে বাধা দেওয়ার কিছু নেই। সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে সুদূরপ্রসারী উন্নয়নের লক্ষ্যে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে এগোনোতে দোষের কিছু দেখি না।' তিনি আরো বলেন, 'রাজনীতিতে দরজা বন্ধ করতে নেই। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, যে দলই তাদের দরজা বন্ধ করেছে তারাই ক্ষতির মুখে পড়েছে।' আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, 'বিএনপির সন্ত্রাসের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে ও আওয়ামী লীগের উন্নয়নের রাজনীতিতে আকৃষ্ট হয়ে সারা দেশে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগে যোগদান করছে। আওয়ামী লীগে যোগদান করতে কারো বাধা নেই; শুধু জামায়াত-শিবির ও রাজাকার বাদে।' গতকাল রবিবার বিকেলে চাঁদপুরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। স্থানীয় বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীর আওয়ামী লীগে যোগদান উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'কিছুটা জায়গা না দিলে তাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাবে। আর পিঠ ঠেকে গেলে যে কেউ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে- এটা স্বাভাবিক। আমরা এখন ২০ দলীয় জোটকে তেমন অবস্থায় ঠেলে দিতে চাই না। এ ছাড়া সরকার এখন আর অস্থিতিশীল অবস্থায় নেই। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রতিকূলতা কাটিয়ে সরকার স্থিতিশীল অবস্থায় এসেছে। এ সময়ে সরকারের নজর দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার দিকে। এ জন্য জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। জনগণের একটি বড় অংশকে বিরুদ্ধে রেখে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন সম্ভব নয়। ফলে প্রতিপক্ষ জোটের নেতাকর্মীদেরও দলে নেওয়ার কৌশল নিয়েছে আওয়ামী লীগ।' নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতারা বলেন, 'যেসব নেতাকর্মীকে দলে নেওয়া হচ্ছে তারা তো নেতৃত্বে আসছে না। পরীক্ষামূলকভাবে আমরা তাদের রাখছি, তাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করব। যদি নতুন দলে আসা নেতাকর্মীরা তাদের কাজের মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রমাণ করতে পারে তবে দলে জায়গা পাবে। আর তাদের আমরা দলে না নিলে তারা তো আর রাজনীতি থেকে সরে যাবে না। তারা জামায়াত-বিএনপিতেই থেকে যাবে। অনেক এলাকা আছে, যেখানে জামায়াত-বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। এসব এলাকায় আমাদের হারানোর কিছু নেই। বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও ও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এসব এলাকায় ২০ দলীয় জোটের অনেক নেতাকর্মী এখন অনুতপ্ত ও হতাশ। আমরা সে সুযোগটা নিতে চাই। এ কারণে তাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে।' নতুন যোগদান করা নেতাকর্মীরা সুযোগ বুঝে আবার পুরনো দলে ফিরে যাবে কি না জানতে চাইলে ওই নেতারা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় না এলে তারা দল ত্যাগ করবে না। আর বিএনপিতে ফিরে গেলেও সেখানে আগের জায়গা পাবে না। কারণ বিএনপিতে থেকে যাওয়া নেতাকর্মীরা তাদের ভালোভাবে গ্রহণ করবে না। ফলে বিএনপিতে অবাঞ্ছিত হয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকে আওয়ামী লীগেই থেকে যাবে। স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের নেতারা কেন আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে জানতে চাইলে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, তাঁরা জামায়াতের হলেও নতুন প্রজন্মের এবং তাঁরা অনুতপ্ত। তাই তাঁদের সুযোগ দেওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ২০ দলীয় জোটের কমপক্ষে ১০ হাজার নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগে যোগদান করছে। গতকালও চাঁদপুরে ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক ও ফরাজীকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দানেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। দানেশের সঙ্গে দুই শতাধিক বিএনপি কর্মীও যোগ দেয়। এর আগে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জয়পুরহাট জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বিএনপির ৮ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। এর এক সপ্তাহ আগে ৬ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচবিবি উপজেলা জামায়াতের মজলিসে শুরার কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সালামের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘোষণা দেয়। সংবাদ সম্মেলনে জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সামছুল আলম দুদু উপস্থিত ছিলেন। গত শুক্রবার নাটোরের সিংড়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে শতাধিক বিএনপিকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করে। তারা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলবদল করে। একই দিনে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মৌকরণ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কুদ্দুস তালুকদারের নেতৃত্বে মৌকরণ এবং লাউকাঠি ইউনিয়নের দুই শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করে। এ সময়ে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া ফুল দিয়ে যোগদানকারীদের শুভেচ্ছা জানান। একই দিনে জামালপুরের বকশীগঞ্জে উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সওদাগরের নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করে। তারা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে দলে ভেড়ে। ৬ জুন ভোলা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও বিএনপি নেতা মঞ্জুর আলম আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এর আগে ৮ মে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের শরিক বিজেপির প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। সেদিন ভোলা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সামসুদ্দিন রাঢ়ি, জেলা ছাত্রদলের নেতা মীর পাভেল, আশরাফ শিশিরসহ নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। ৬ জুন জামালপুরের সরিষাবাড়ীর সাতপোয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ইউনিয়ন বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ চৌধুরীর উপস্থিতিতে এ যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। এর দুই দিন আগে ৪ জুন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ফজর আলী মেম্বারের নেতৃত্বে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ৮০ জন নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ২৪ মে নোয়াখালীতে বিএনপি-জামায়াতের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৩ মে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেদোয়ান চৌধুরী নয়ন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুলের হাত ধরে আওয়ামী লীগে আসেন। ১৫ মে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। শ্রমিক দলের সহসভাপতি দীলবার ও লতব্দী ইউনিয়ন বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক আক্তার হোসেন মেম্বারসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষের হাতে ফুল দিয়ে যোগদান করে। ৯ মে গাজীপুরের টঙ্গীতে বিএনপি নেত্রী ও সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর রিনা হালিম এবং স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা শরীফ হোসাইনের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতের দুই শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করে। তারা টঙ্গির বোর্ডবাজার এলাকায় শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেলের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এর আগের দিন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চরবংশী ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মজিবুল হক গাজী, যুবদল নেতা সফিক ঢালি ও মনির হোসেন ঢালিসহ দুই শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। ২ মে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজানের নেতৃত্বে বিএনপি ও ছাত্রদলের প্রায় আড়াই হাজার নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য হাবীবে মিল্লাত মুন্নার উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগে যোগদান করে। এর আগে ১৭ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল আকন্দের নেতৃত্বে দুই শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। ২১ এপ্রিল জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আব্দুল কুদ্দুস সরকারের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। এর তিন দিন আগে ১৮ এপ্রিল পাবনা সদর উপজেলার চর তারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে আসে। ১৪ এপ্রিল কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে স্থানীয় আট বিএনপি-জামায়াত নেতাসহ সহস্রাধিক কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। বাংলা বর্ষবরণের এক অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের হাতে ফুল দিয়ে তারা আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। ৫ এপ্রিল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ইউনিয়ন জামায়াতের সহসভাপতি সাব্বিরুল হক তালুকদার শামীমের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে আসে। একই দিনে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার দুল্লা ইউনিয়নের সাত ইউপি সদস্যসহ দুই হাজারের বেশি বিএনপি নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়।