চ-সংকটের কারণে ঈদ উপলক্ষে এবার বাড়তি টিকিট ছাড়া হয়নি। ঢাকা থেকে প্রতিদিন ১৭ হাজার ৬২১টি এবং চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছয় হাজার ৬৮৬টি টিকিট দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ঈদের যাত্রী পরিবহন। যাত্রার দিন ২০ থেকে ২৫ শতাংশ যাত্রী দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট কিনে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করবে বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আশা করছে। রেলের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত সাত-আট বছরে রেলের ভৌত অবকাঠামোগত কিছু উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু যাত্রীসেবা বাড়াতে হলে কোচ ও ইঞ্জিনের প্রয়োজন। কিছু ইঞ্জিন আমদানি হয়েছে। কিন্তু কোচ আমদানি মোটেই হয়নি। তিনি বলেন, জমি কিনে লাঙল লাগিয়ে সার ছিটানো হয়েছে। কিন্ত বীজ বোনা হয়নি। তাই কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এই কর্মকর্তা স্বীকার করেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে এক-তৃতীয়াংশ যাত্রীর চাহিদাও রেল পূরণ করতে পারেনি। মহাসড়কগুলোর অবস্থা ভালো নয়। বর্ষাকাল চলছে। তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে নিরাপদ ভ্রমণের জন্য যাত্রীরা ট্রেনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। জানতে চাইলে রেলের মহাপরিচালক মো. তাফাজ্জল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কোচ-সংকট রয়েছে। এটা মানতে হবে। তার পরও সীমিত সম্পদ দিয়ে আমরা এবারের ঈদে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, যাত্রীরা ভালোভাবে গন্তব্যে যেতে পারবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় আমরা বাড়তি যাত্রী পরিবহন করতে পারছি না। তবে যাত্রী পরিবহন গত বছরের তুলনায় কমও হবে না। বাড়তি কোচ লাগানো সম্ভব হলে হয়তো আরও কিছু বাড়তি যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হতো।’ রেলওয়ের যান্ত্রিক প্রকৌশল দপ্তর সূত্র জানায়, গতকাল বাড়তি একটি কোচ সংযোজন হয়েছে। সেটি হয়েছে ঢাকা-সিলেট রেলপথের আন্তনগর কালনি এক্সপ্রেসে। কালনির লোকোমোটিভ ইঞ্জিন ১৫টি কোচ পরিবহন করতে পারে। কিন্তু এটা চলছে চারটি কোচ নিয়ে। গতকাল একটি নতুন কোচ পাওয়ায় এই ট্রেনের কোচের সংখ্যা পাঁচটিতে উন্নীত হয়েছে। ঈদে আন্তনগর ট্রেনেই সর্বাধিক যাত্রী পরিবহন হয়। তাই এসব ট্রেনের টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। রেলওয়ে যান্ত্রিক প্রকৌশল দপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মাসে কারখানা থেকে মেরামত হয়ে রেলের বহরে ২০টি কোচ যুক্ত হয়। জুনে যুক্ত হয়েছিল ২৫টি এবং মে মাসে আটটি। একইভাবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১৫-২০টি কোচ বিকল হচ্ছে প্রতি মাসে। চলতি মাসে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত পূর্বাঞ্চলের ঢাকা বিভাগে ১৫টি এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ছয়টি কোচ বিকল রয়েছে। প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘রেলের বহরে যত কোচ আছে, তা মেরামতের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ইরান থেকে আমদানি করা সবগুলো কোচ মেরামত করে চালানোর উপযোগী করা সম্ভব। ঈদের পর ধীরে ধীরে সেই কোচ মেরামত করা হবে।’
Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Saturday, July 26, 2014
ঈদে বাড়তি যাত্রী পরিবহন করতে পারছে না রেলওয়ে:প্রথম অালো
চ-সংকটের কারণে ঈদ উপলক্ষে এবার বাড়তি টিকিট ছাড়া হয়নি। ঢাকা থেকে প্রতিদিন ১৭ হাজার ৬২১টি এবং চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছয় হাজার ৬৮৬টি টিকিট দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ঈদের যাত্রী পরিবহন। যাত্রার দিন ২০ থেকে ২৫ শতাংশ যাত্রী দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট কিনে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করবে বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আশা করছে। রেলের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত সাত-আট বছরে রেলের ভৌত অবকাঠামোগত কিছু উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু যাত্রীসেবা বাড়াতে হলে কোচ ও ইঞ্জিনের প্রয়োজন। কিছু ইঞ্জিন আমদানি হয়েছে। কিন্তু কোচ আমদানি মোটেই হয়নি। তিনি বলেন, জমি কিনে লাঙল লাগিয়ে সার ছিটানো হয়েছে। কিন্ত বীজ বোনা হয়নি। তাই কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এই কর্মকর্তা স্বীকার করেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে এক-তৃতীয়াংশ যাত্রীর চাহিদাও রেল পূরণ করতে পারেনি। মহাসড়কগুলোর অবস্থা ভালো নয়। বর্ষাকাল চলছে। তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে নিরাপদ ভ্রমণের জন্য যাত্রীরা ট্রেনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। জানতে চাইলে রেলের মহাপরিচালক মো. তাফাজ্জল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কোচ-সংকট রয়েছে। এটা মানতে হবে। তার পরও সীমিত সম্পদ দিয়ে আমরা এবারের ঈদে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, যাত্রীরা ভালোভাবে গন্তব্যে যেতে পারবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় আমরা বাড়তি যাত্রী পরিবহন করতে পারছি না। তবে যাত্রী পরিবহন গত বছরের তুলনায় কমও হবে না। বাড়তি কোচ লাগানো সম্ভব হলে হয়তো আরও কিছু বাড়তি যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হতো।’ রেলওয়ের যান্ত্রিক প্রকৌশল দপ্তর সূত্র জানায়, গতকাল বাড়তি একটি কোচ সংযোজন হয়েছে। সেটি হয়েছে ঢাকা-সিলেট রেলপথের আন্তনগর কালনি এক্সপ্রেসে। কালনির লোকোমোটিভ ইঞ্জিন ১৫টি কোচ পরিবহন করতে পারে। কিন্তু এটা চলছে চারটি কোচ নিয়ে। গতকাল একটি নতুন কোচ পাওয়ায় এই ট্রেনের কোচের সংখ্যা পাঁচটিতে উন্নীত হয়েছে। ঈদে আন্তনগর ট্রেনেই সর্বাধিক যাত্রী পরিবহন হয়। তাই এসব ট্রেনের টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। রেলওয়ে যান্ত্রিক প্রকৌশল দপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মাসে কারখানা থেকে মেরামত হয়ে রেলের বহরে ২০টি কোচ যুক্ত হয়। জুনে যুক্ত হয়েছিল ২৫টি এবং মে মাসে আটটি। একইভাবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১৫-২০টি কোচ বিকল হচ্ছে প্রতি মাসে। চলতি মাসে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত পূর্বাঞ্চলের ঢাকা বিভাগে ১৫টি এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ছয়টি কোচ বিকল রয়েছে। প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘রেলের বহরে যত কোচ আছে, তা মেরামতের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ইরান থেকে আমদানি করা সবগুলো কোচ মেরামত করে চালানোর উপযোগী করা সম্ভব। ঈদের পর ধীরে ধীরে সেই কোচ মেরামত করা হবে।’
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment