াপ করে মন্ত্রিসভা এ নীতিমালার অনুমোদন দেয়। এর পর থেকে সাংবাদিক ও টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি এ নীতিমালার সমালোচনা করে আসছেন। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই নীতিমালাকে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের একটি অশুভ চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। আর নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করতে এটি সরকারের একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। গেজেটে জাতীয় সম্প্রচার কমিশন গঠনের কথা বলা হলেও কবে তা করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ নেই। বলা হয়েছে, সম্প্রচার ও সম্প্রচার কমিশন-সম্পর্কিত আইন, বিধিমালা ও নীতিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত তথ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রচার-সম্পর্কিত সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে এটাই সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়। নীতিমালা অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কোনো বাহিনীর প্রতি কটাক্ষ বা অবমাননাকর দৃশ্য বা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। অপরাধীদের দণ্ড দিতে পারেন, এমন সরকারি কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার মতো দৃশ্য বা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। আলোচনামূলক অনুষ্ঠানে (টক শো) বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য তথ্য পরিহার করতে হবে। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারে এমন কোনো বিদ্রোহ, নৈরাজ্য ও হিংসাত্মক ঘটনা প্রদর্শন করা যাবে না। বিজ্ঞাপন প্রচারেরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ মানতে হবে। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অশুভ চেষ্টা: গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সরকারের দুর্নীতি, অপশাসন ও সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড যাতে জনসমক্ষে প্রকাশ না পায়, সে কারণেই নতুন সম্প্রচার নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার, বাক্-স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করে সরকার অতীতের মতো একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের হীন উদ্দেশ্য নিয়ে ওই নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বলে আমরা মনে করি। এই নীতিমালার মাধ্যমে টক শো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।’ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নীতিমালা: জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল নাগরিক ঐক্য আয়োজিত আলোচনায় সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ বলেন, ‘নীতিমালা নিয়ে একটা পাগলামি হচ্ছে। তবে পাগলরা করছে কি না আমি জানি না।’ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, বিষয়টা মোটেও গণমাধ্যমসংক্রান্ত নয়, এটা রাজনৈতিক। এসেছে নীতিমালার মোড়কে। এটিকে নীতিমালার ‘মুখোশে’ নিয়ন্ত্রণের ‘কায়দা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই নির্বাচনের পর থেকে নানা কারণে দেশের অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো দুর্বল হয়ে পড়ায় গণমাধ্যমকেই এখন সরকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও রোবায়েত ফেরদৌস এ নীতিমালা যেন আইনে পরিণত না হয়, তার জন্য সোচ্চার হতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। সঞ্চালকের বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, গায়ের জোরে সরকারি নিয়ন্ত্রণ চাপিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের চেষ্টা করছে সরকার। বাতিলের দাবি: জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই নীতিমালা বেসরকারি বেতার-টিভির হাত-পা বেঁধে দেওয়ারই অপপ্রয়াস। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি অবিলম্বে বাতিল করা হোক।
Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Friday, August 8, 2014
‘গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধে সরকারের অশুভ চেষ্টা’:প্রথম অালো
াপ করে মন্ত্রিসভা এ নীতিমালার অনুমোদন দেয়। এর পর থেকে সাংবাদিক ও টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি এ নীতিমালার সমালোচনা করে আসছেন। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই নীতিমালাকে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের একটি অশুভ চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। আর নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করতে এটি সরকারের একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। গেজেটে জাতীয় সম্প্রচার কমিশন গঠনের কথা বলা হলেও কবে তা করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ নেই। বলা হয়েছে, সম্প্রচার ও সম্প্রচার কমিশন-সম্পর্কিত আইন, বিধিমালা ও নীতিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত তথ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রচার-সম্পর্কিত সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে এটাই সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়। নীতিমালা অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কোনো বাহিনীর প্রতি কটাক্ষ বা অবমাননাকর দৃশ্য বা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। অপরাধীদের দণ্ড দিতে পারেন, এমন সরকারি কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার মতো দৃশ্য বা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। আলোচনামূলক অনুষ্ঠানে (টক শো) বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য তথ্য পরিহার করতে হবে। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারে এমন কোনো বিদ্রোহ, নৈরাজ্য ও হিংসাত্মক ঘটনা প্রদর্শন করা যাবে না। বিজ্ঞাপন প্রচারেরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ মানতে হবে। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অশুভ চেষ্টা: গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সরকারের দুর্নীতি, অপশাসন ও সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড যাতে জনসমক্ষে প্রকাশ না পায়, সে কারণেই নতুন সম্প্রচার নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার, বাক্-স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করে সরকার অতীতের মতো একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের হীন উদ্দেশ্য নিয়ে ওই নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বলে আমরা মনে করি। এই নীতিমালার মাধ্যমে টক শো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।’ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নীতিমালা: জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল নাগরিক ঐক্য আয়োজিত আলোচনায় সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ বলেন, ‘নীতিমালা নিয়ে একটা পাগলামি হচ্ছে। তবে পাগলরা করছে কি না আমি জানি না।’ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, বিষয়টা মোটেও গণমাধ্যমসংক্রান্ত নয়, এটা রাজনৈতিক। এসেছে নীতিমালার মোড়কে। এটিকে নীতিমালার ‘মুখোশে’ নিয়ন্ত্রণের ‘কায়দা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই নির্বাচনের পর থেকে নানা কারণে দেশের অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো দুর্বল হয়ে পড়ায় গণমাধ্যমকেই এখন সরকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও রোবায়েত ফেরদৌস এ নীতিমালা যেন আইনে পরিণত না হয়, তার জন্য সোচ্চার হতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। সঞ্চালকের বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, গায়ের জোরে সরকারি নিয়ন্ত্রণ চাপিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের চেষ্টা করছে সরকার। বাতিলের দাবি: জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই নীতিমালা বেসরকারি বেতার-টিভির হাত-পা বেঁধে দেওয়ারই অপপ্রয়াস। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি অবিলম্বে বাতিল করা হোক।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment