কেটের নিয়ন্ত্রক। এখানে দলীয় লোকের বাইরে নতুন কারও পক্ষে লঞ্চ নামানোর সুযোগ নেই। বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, মাওয়া-কাওড়াকান্দি পথে ৮৭টি লঞ্চের অনুমোদন আছে। অধিকাংশ লঞ্চ ৩০-৪০ বছরের পুরোনো। লঞ্চের নকশা অনুমোদন, নিবন্ধন, চলাচলের অনুমতি ও ফিটনেস সনদ দেয় নৌ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিআইডব্লিউটিএ এবং সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর। কিন্তু সরকারের এই দুই সংস্থার পাশাপাশি পদ্মার দুই পারের সরকারদলীয় রাজনীতিক-লঞ্চ মালিকদেরও অলিখিত অনুমোদন নিতে হয়। মূলত তাঁরাই ঠিক করেন, কার লঞ্চ আর পরিবহন এই পথে চলবে। বিআইডব্লিউটিএর তথ্য অনুযায়ী, দু-তিন বছরে এই পথে পাঁচটি নতুন লঞ্চ নেমেছে। পাঁচটিরই মালিকপক্ষ আওয়ামী লীগের নেতা কিংবা এই দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। এই পাঁচটি লঞ্চ হলো: ঐশী খান, ফাহিম-তামিম, সুপারসনিক-১, লিপু খান-১ ও শাহ পরান। সর্বশেষ এই পথে চালানোর ‘অনুমতি’পেয়েছে এমভি শাহ পরান। এর মালিক মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের ইয়াকুব ব্যাপারী, যাঁকে এই অনুমতি পেতে বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে হয়েছে। তিন বছর আগে লঞ্চটি কিনলেও মালিক সমিতির বাধায় তা তিনি নদীতে নামাতে পারেননি। মালিক সমিতি এই নিয়ে ১১ দিন ধর্মঘটও করেছে। প্রায় দুই বছর চেষ্টার পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে লঞ্চটিতে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ পান। ইয়াকুব ব্যাপারী এখন কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। নৌ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, শাহ পরান নামানোর পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদে নৌপরিহনমন্ত্রীর দপ্তরে এক বৈঠকে এই পথে আর কোনো লঞ্চ চলাচলের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, নৌ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও মাদারীপুরের শিবচরের সাংসদ নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী), বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান ও মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পাঁচটি লঞ্চের মধ্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পরিবারের সার্বিক শিপিং লাইনসের মালিকানাধীন এমভি ঐশী খান। সার্বিক পরিবহনের বাসও ঢাকা-মাদারীপুর পথে চলাচল করে। শাজাহান খান মাদারীপুর সদর আসনের সাংসদ। ফাহিম-তামিমের মালিক ফজলুল হক মুন্সী মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক। সুপারসনিকের মালিক মহসীন উদ্দিনও শিবচর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তবে দলের বর্তমান কোনো কমিটিতে পদ নেই। লিপু খান লঞ্চের মালিক বশির উদ্দিন। তিনি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার একটি প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য। আওয়ামী লীগ, বিএনপি—দুই দলের সঙ্গেই এই পরিবারের সদস্যরা যুক্ত। জানতে চাইলে সর্বশেষ নামানো শাহ পরানের মালিক ইয়াকুব ব্যাপারী প্রথম আলাকে বলেন, লঞ্চের নিবন্ধন, চলাচলের অনুমতি, ফিটনেসসহ যাবতীয় সনদ থাকার পরও দুই বছর লঞ্চটি নামাতে দেয়নি মালিক সমিতি। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার পর নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও স্থানীয় সাংসদ নূর-ই-আলম চৌধুরী মালিক সমিতির নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে শাহ পরান নামানোর সুযোগ করে দেন। তবে তিনি দাবি করেন, তিনি আগে রাজনীতি করতেন না। এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে শাজাহান খানের মন্ত্রণালয়। তাঁর পরিবার একাধারে মাওয়া-কাওড়াকান্দি পথে চলাচলকারী একটি লঞ্চ ও পরিবহন কোম্পানির মালিক। আবার নবম সংসদে নৌ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন লিটন চৌধুরী। তিনি মাদারীপুরের শিবচরের সাংসদ। কাওড়াকান্দি ঘাটটি এই উপজেলায়। ফলে তাঁর পরিবারের সরাসরি লঞ্চ ব্যবসা না থাকলেও এই পথের ব্যবসায় তাঁদের প্রভাব আছে। জানতে চাইলে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘লঞ্চ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট আছে, আমি তা ভেঙে দেব। মালিকদের চাপেই এই পথে নতুন লঞ্চ নামতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখন মালিকেরা ধর্মঘট করলেও এই সিন্ডিকেট আমি ভাঙব।’ আপনার পরিবারেরও লঞ্চ আছে। মালিকের সিন্ডিকেট ভাঙলে তো আপনার পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, ‘আমার পরিবারের একটা লঞ্চ। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই।’ সরকারদলীয় লোকদের মাওয়া-কাওড়াকান্দি পথে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে নৌমন্ত্রী বলেন, ‘এই পথে এখনো বিএনপির লোকজনই বেশি। সর্বশেষ কয়েকটা লঞ্চ আমাদের দলের লোকজন পেয়েছে। এর পরও বিএনপির মালিকেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।’ মাওয়া-কাওড়াকান্দি পথে চলাচলকারী লঞ্চের মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর চৌধুরী লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সমিতির সহসভাপতি আতাহার ব্যাপারী শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চের মালিক লৌহজংয়ের দক্ষিণ মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি আবার ঢাকা-মাওয়া পথে চলাচলকারী ইলিশ পরিবহনেরও অন্যতম মালিক। ইলিশ পরিবহনের আরেকজন মালিক একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী আকবর। জানতে চাইলে লঞ্চ মালিক সমিতির সহসভাপতি ও ব্যাপারী এক্সপ্রেস-২-এর মালিক আতাহার ব্যাপারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয় তো কিছুটা কাজে আসেই। তবে লঞ্চ নামানোর ক্ষেত্রে মালিক সমিতিকে কোনো টাকা দিতে হয় না। অন্য কাউকে দিতে হয় কি না, সেটা আমি জানি না।’ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর চৌধুরী বলেন, ‘আমি রাজনীতিতে এতটা সক্রিয় নই। অনেকেই আছেন রাজনীতি, পরিবহন ও লঞ্চ ব্যবসা একসঙ্গে করেন। এতে দোষের কিছু নেই।’ তবে এই সবকিছুর ফল ভোগ করে যাত্রীরা। কীভাবে এই ঝুঁকি বাড়ে, তা জানা গেল ঘাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকেই। মাওয়া-কাওড়াকান্দির পথে রাতে লঞ্চ চলাচল নিষেধ। মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দিনে প্রতিটি লঞ্চ তিনবার (তিন সিঙ্গেল) যাতায়াত করে। বাকি সময় যাত্রী থাকলেও লঞ্চগুলো অলস বসে থাকে। ফলে সব লঞ্চই ঠাসাঠাসি করে যাত্রী পরিবহন করে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দিয়ে দক্ষিণের জেলাগুলোতে যেতে ঢাকা-মাওয়া পথের তুলনায় ৭০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়। আবার মাওয়া রুটে সড়কের অবস্থাও তুলনামূলক ভালো। ফলে মাওয়া-কাওড়াকান্দি পথে মানুষের যাতায়াত দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু রাজনীতিক মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে সেই তুলনায় লঞ্চ বাড়ছে না। আবার বেশি লাভের লোভে লঞ্চগুলো চলাচল কমিয়ে গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহন করে। এতে মালিকদের পরিবহন খরচ কমে আর মুনাফা বাড়ে। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি তৈরি হয় সাধারণ মানুষের। (প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন প্রথম আলোর মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি তানভীর হাসান)
Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Tuesday, August 12, 2014
রাজনীতিকদের হাতে জিম্মি লঞ্চ ব্যবসা:প্রথম অালো
কেটের নিয়ন্ত্রক। এখানে দলীয় লোকের বাইরে নতুন কারও পক্ষে লঞ্চ নামানোর সুযোগ নেই। বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, মাওয়া-কাওড়াকান্দি পথে ৮৭টি লঞ্চের অনুমোদন আছে। অধিকাংশ লঞ্চ ৩০-৪০ বছরের পুরোনো। লঞ্চের নকশা অনুমোদন, নিবন্ধন, চলাচলের অনুমতি ও ফিটনেস সনদ দেয় নৌ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিআইডব্লিউটিএ এবং সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর। কিন্তু সরকারের এই দুই সংস্থার পাশাপাশি পদ্মার দুই পারের সরকারদলীয় রাজনীতিক-লঞ্চ মালিকদেরও অলিখিত অনুমোদন নিতে হয়। মূলত তাঁরাই ঠিক করেন, কার লঞ্চ আর পরিবহন এই পথে চলবে। বিআইডব্লিউটিএর তথ্য অনুযায়ী, দু-তিন বছরে এই পথে পাঁচটি নতুন লঞ্চ নেমেছে। পাঁচটিরই মালিকপক্ষ আওয়ামী লীগের নেতা কিংবা এই দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। এই পাঁচটি লঞ্চ হলো: ঐশী খান, ফাহিম-তামিম, সুপারসনিক-১, লিপু খান-১ ও শাহ পরান। সর্বশেষ এই পথে চালানোর ‘অনুমতি’পেয়েছে এমভি শাহ পরান। এর মালিক মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের ইয়াকুব ব্যাপারী, যাঁকে এই অনুমতি পেতে বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে হয়েছে। তিন বছর আগে লঞ্চটি কিনলেও মালিক সমিতির বাধায় তা তিনি নদীতে নামাতে পারেননি। মালিক সমিতি এই নিয়ে ১১ দিন ধর্মঘটও করেছে। প্রায় দুই বছর চেষ্টার পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে লঞ্চটিতে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ পান। ইয়াকুব ব্যাপারী এখন কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। নৌ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, শাহ পরান নামানোর পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদে নৌপরিহনমন্ত্রীর দপ্তরে এক বৈঠকে এই পথে আর কোনো লঞ্চ চলাচলের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, নৌ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও মাদারীপুরের শিবচরের সাংসদ নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী), বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান ও মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পাঁচটি লঞ্চের মধ্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পরিবারের সার্বিক শিপিং লাইনসের মালিকানাধীন এমভি ঐশী খান। সার্বিক পরিবহনের বাসও ঢাকা-মাদারীপুর পথে চলাচল করে। শাজাহান খান মাদারীপুর সদর আসনের সাংসদ। ফাহিম-তামিমের মালিক ফজলুল হক মুন্সী মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক। সুপারসনিকের মালিক মহসীন উদ্দিনও শিবচর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তবে দলের বর্তমান কোনো কমিটিতে পদ নেই। লিপু খান লঞ্চের মালিক বশির উদ্দিন। তিনি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার একটি প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য। আওয়ামী লীগ, বিএনপি—দুই দলের সঙ্গেই এই পরিবারের সদস্যরা যুক্ত। জানতে চাইলে সর্বশেষ নামানো শাহ পরানের মালিক ইয়াকুব ব্যাপারী প্রথম আলাকে বলেন, লঞ্চের নিবন্ধন, চলাচলের অনুমতি, ফিটনেসসহ যাবতীয় সনদ থাকার পরও দুই বছর লঞ্চটি নামাতে দেয়নি মালিক সমিতি। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার পর নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও স্থানীয় সাংসদ নূর-ই-আলম চৌধুরী মালিক সমিতির নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে শাহ পরান নামানোর সুযোগ করে দেন। তবে তিনি দাবি করেন, তিনি আগে রাজনীতি করতেন না। এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে শাজাহান খানের মন্ত্রণালয়। তাঁর পরিবার একাধারে মাওয়া-কাওড়াকান্দি পথে চলাচলকারী একটি লঞ্চ ও পরিবহন কোম্পানির মালিক। আবার নবম সংসদে নৌ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন লিটন চৌধুরী। তিনি মাদারীপুরের শিবচরের সাংসদ। কাওড়াকান্দি ঘাটটি এই উপজেলায়। ফলে তাঁর পরিবারের সরাসরি লঞ্চ ব্যবসা না থাকলেও এই পথের ব্যবসায় তাঁদের প্রভাব আছে। জানতে চাইলে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘লঞ্চ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট আছে, আমি তা ভেঙে দেব। মালিকদের চাপেই এই পথে নতুন লঞ্চ নামতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখন মালিকেরা ধর্মঘট করলেও এই সিন্ডিকেট আমি ভাঙব।’ আপনার পরিবারেরও লঞ্চ আছে। মালিকের সিন্ডিকেট ভাঙলে তো আপনার পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, ‘আমার পরিবারের একটা লঞ্চ। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই।’ সরকারদলীয় লোকদের মাওয়া-কাওড়াকান্দি পথে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে নৌমন্ত্রী বলেন, ‘এই পথে এখনো বিএনপির লোকজনই বেশি। সর্বশেষ কয়েকটা লঞ্চ আমাদের দলের লোকজন পেয়েছে। এর পরও বিএনপির মালিকেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।’ মাওয়া-কাওড়াকান্দি পথে চলাচলকারী লঞ্চের মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর চৌধুরী লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সমিতির সহসভাপতি আতাহার ব্যাপারী শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চের মালিক লৌহজংয়ের দক্ষিণ মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি আবার ঢাকা-মাওয়া পথে চলাচলকারী ইলিশ পরিবহনেরও অন্যতম মালিক। ইলিশ পরিবহনের আরেকজন মালিক একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী আকবর। জানতে চাইলে লঞ্চ মালিক সমিতির সহসভাপতি ও ব্যাপারী এক্সপ্রেস-২-এর মালিক আতাহার ব্যাপারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয় তো কিছুটা কাজে আসেই। তবে লঞ্চ নামানোর ক্ষেত্রে মালিক সমিতিকে কোনো টাকা দিতে হয় না। অন্য কাউকে দিতে হয় কি না, সেটা আমি জানি না।’ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর চৌধুরী বলেন, ‘আমি রাজনীতিতে এতটা সক্রিয় নই। অনেকেই আছেন রাজনীতি, পরিবহন ও লঞ্চ ব্যবসা একসঙ্গে করেন। এতে দোষের কিছু নেই।’ তবে এই সবকিছুর ফল ভোগ করে যাত্রীরা। কীভাবে এই ঝুঁকি বাড়ে, তা জানা গেল ঘাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকেই। মাওয়া-কাওড়াকান্দির পথে রাতে লঞ্চ চলাচল নিষেধ। মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দিনে প্রতিটি লঞ্চ তিনবার (তিন সিঙ্গেল) যাতায়াত করে। বাকি সময় যাত্রী থাকলেও লঞ্চগুলো অলস বসে থাকে। ফলে সব লঞ্চই ঠাসাঠাসি করে যাত্রী পরিবহন করে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দিয়ে দক্ষিণের জেলাগুলোতে যেতে ঢাকা-মাওয়া পথের তুলনায় ৭০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়। আবার মাওয়া রুটে সড়কের অবস্থাও তুলনামূলক ভালো। ফলে মাওয়া-কাওড়াকান্দি পথে মানুষের যাতায়াত দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু রাজনীতিক মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে সেই তুলনায় লঞ্চ বাড়ছে না। আবার বেশি লাভের লোভে লঞ্চগুলো চলাচল কমিয়ে গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহন করে। এতে মালিকদের পরিবহন খরচ কমে আর মুনাফা বাড়ে। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি তৈরি হয় সাধারণ মানুষের। (প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন প্রথম আলোর মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি তানভীর হাসান)
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment