Monday, September 15, 2014

চার সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল:নয়াদিগন্ত

দুর্নীতি দমন কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর চার সচিব ও এক যুগ্মসচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল গতকাল এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ছাড়া অন্যসব তালিকা স্থগিত করা হয়েছে। সনদ বাতিল হওয়া চার সচিব হলেনÑ স্বাস্থ্যসচিব নিয়াজ উদ্দিন মিয়া, সরকারি কর্ম কমিশনের
(পিএসসি) সচিব এ কে এম আমির হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান (বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় বেসরকারীকরণ কমিশনে চেয়ারম্যান) এবং খোদ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী (বর্তমানে ওএসডি)। এ ছাড়া রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (ওএসডি) আবুল কাসেম তালুকদার। এসব কর্মকর্তা অবৈধ প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের এক তদন্তে বেরিয়ে আসে। তাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে দুদক। গতকাল  রাজধানীর মগবাজারে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল কার্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দুদকের তদন্তে পাঁচ সচিবের মুক্তিযোদ্ধার সনদ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাদের সনদ নেয়ার েেত্র পদ্ধতিগত ত্রুটি ছিল। লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতের কাছ থেকে পাওয়া প্রশিক্ষণ তালিকার এক লাখ ৪৪ হাজার ছাড়া বাকিদের সনদ স্থগিত করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তারা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই-বাছাইয়ের পর আগামী ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে তাদের পরিচয়পত্র দেয়া হবে।  সনদ বাতিল হওয়াদের মধ্যে মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান আপিল করতে পারবেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সনদ নেয়ার জন্য তিনি তিনটি শর্তের একটি পূরণ করেছেন। অন্য চার কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেয়ার বিষয়ে কোনো আবেদনই করেননি বলে জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী। সরকারের এ শীর্ষ কর্মকর্তারা কর্মজীবনের শেষ সময়ে এসে চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়াতে মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেন বলে অভিযোগ। মাসুদ সিদ্দিকী মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেয়ার সময় ওই মন্ত্রণালয়েরই সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের সময়ই মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেখানোর কথা। মন্ত্রী জানান, সরকারি কর্মচারী বিধি অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা ছাড়াও প্রতারণার মামলা হতে পারে। তিনি বলেন, নিয়মানুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখন এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। এ সনদ ব্যবহার করে তারা যদি রাষ্ট্রের সম্পদ নিয়ে থাকেন তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১৮২ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

No comments:

Post a Comment