) পুলিশ দাবি করেছে, বর্ধমান ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মিয়ানমারের তিন নাগরিককে (রোহিঙ্গা) রাজধানীর লালবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনজনই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য। পুলিশের একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশের জঙ্গিরা জড়িত ছিল বলে তথ্য পান দেশটির গোয়েন্দারা। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গত ১৭ নভেম্বর ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) মহাপরিচালক সঞ্জীব কুমার সিংয়ের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসে। তারা ১১ জঙ্গির একটি তালিকা বাংলাদেশকে দেয়। ওই সফরের সূত্র ধরে ২৭-২৯ নভেম্বর কলকাতা সফর করে বাংলাদেশের সাত সদস্যের একটি দল। কলকাতা বৈঠকে এনআইএর কর্মকর্তারা জানান, পশ্চিমবঙ্গে জেএমবির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ১০০ জনের একটি তালিকা করা হয়েছে। তালিকার ২০ জনই বাংলাদেশের নাগরিক। এই তালিকা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, বৈঠক থেকে এনআইএ কর্মকর্তারা বাংলাদেশি জঙ্গিদের ধরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। কলকাতা বৈঠক থেকে ফিরে পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ভারতে জঙ্গি তৎপরতায় দুই দেশের নাগরিকেরাই জড়িত। এ কারণে জঙ্গি তৎপরতা দমনে যৌথ অভিযান জরুরি হয়ে পড়েছে। তিন জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্যকেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ। সেখানে ডিবির উপকমিশনার (দক্ষিণ) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, বর্ধমান বিস্ফোরণের পর আন্তদেশীয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের খোঁজে বাংলাদেশ এবং ভারতের গোয়েন্দারা তথ্য আদান-প্রদান করেছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় তিন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উপকমিশনার বলেন, ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার ছানোয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধানে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল গত রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে লালবাগ এতিমখানা মোড় থেকে এঁদের গ্রেপ্তার করে। এঁদের কাছে পাঁচটি ডেটোনেটর, দুটি জেল বোমা ও কিছু বিস্ফোরক পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন মিয়ানমারের জঙ্গি সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়নের (এআরইউ) ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক গ্লোবাল রোহিঙ্গা সেন্টারের (জিআরসি) সঙ্গে জড়িত। তাঁরা হলেন নূর হোসেন ওরফে রফিকুল ইসলাম (২৬), ইয়াসির আরাফাত (২২) ও ওমর করিম (২৫)। নূর হোসেন চার বছর, ফারুক ১২ বছর ও আরাফাত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে রয়েছেন। জেএমবির সঙ্গে এদের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে কৃষ্ণপদ রায় বলেন, জেএমবি ও রোহিঙ্গা জঙ্গিরা আলাদাভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালালেও তাঁদের আদর্শিক স্থান ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় অভিন্ন। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, বর্ধমানের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ভারতের হায়দরাবাদ থেকে খালিদ ওরফে খালিদ মোহাম্মদ ওরফে আবদুর নূর নামে মিয়ানমারের এক নাগরিককে আটক করে এনআইএ। খালিদ মিয়ানমারের উগ্রপন্থী সংগঠন তেহেরিক-ই-আজাদি আরাকানের সদস্য। তিনি পাকিস্তানের তেহরিকে-ই-তালেবানের কাছ থেকে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ঢাকায় গ্রেপ্তার তিন রোহিঙ্গা ওই খালিদ মোহাম্মদকে নিজেদের আদর্শিক গুরু মনে করেন। এনআইএর দেওয়া সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ওই তালিকার সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া নূর হোসেন ও ইয়াসিরের মিল পাওয়া গেছে। তবে বর্ধমানের ওই বিস্ফোরণের সময় নূর হোসেন ও ইয়াসির ভারতে অবস্থান করেছিলেন কি না, এ ব্যাপারে কোনো তথ্য ডিবির কাছে নেই। পুলিশ জানায়, বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গারা জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর প্রমাণও মিলেছে। এর আগে কলকাতায় গ্রেপ্তার হওয়া জেএমবির জঙ্গি সাজিদের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে (২৫) গত ২২ নভেম্বর ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন চট্টগ্রামের একটি হোটেল থেকে এক পাকিস্তানি নাগরিকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া সবাই রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত ১১ জনকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। বৈঠকে এই ১১ জঙ্গির তালিকা দিয়েছে ভারত। এঁদের মধ্যে কাওসার ও তালহা শেখ নামের দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করছে ভারত। এঁদের ধরিয়ে দিতে ১০ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। তালিকার অন্য জঙ্গিরা হলেন পশ্চিমবঙ্গের মাওলানা ইউসুফ শেখ, রেজাউল করিম, আমজাদ আলী শেখ, আবুল কালাম, বুরহান শেখ, হাবিবুর রহমান শেখ, জহিরুল শেখ, নসরুল্লাহ এবং আসামের বাসিন্দা শাহিনুর আলম। এদের সবার জন্য তিন থেকে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে ভারত। এসব জঙ্গি ছাড়াও নতুন করে দেওয়া তালিকার জঙ্গিদের ধরতে ঢাকায় পুলিশ আরও অভিযান চালাবে বলে জানা গেছে।
Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Tuesday, December 2, 2014
১০০ জঙ্গির তালিকা নিয়ে তৎপর ঢাকা–কলকাতা:প্রথম অালো
) পুলিশ দাবি করেছে, বর্ধমান ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মিয়ানমারের তিন নাগরিককে (রোহিঙ্গা) রাজধানীর লালবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনজনই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য। পুলিশের একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশের জঙ্গিরা জড়িত ছিল বলে তথ্য পান দেশটির গোয়েন্দারা। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গত ১৭ নভেম্বর ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) মহাপরিচালক সঞ্জীব কুমার সিংয়ের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসে। তারা ১১ জঙ্গির একটি তালিকা বাংলাদেশকে দেয়। ওই সফরের সূত্র ধরে ২৭-২৯ নভেম্বর কলকাতা সফর করে বাংলাদেশের সাত সদস্যের একটি দল। কলকাতা বৈঠকে এনআইএর কর্মকর্তারা জানান, পশ্চিমবঙ্গে জেএমবির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ১০০ জনের একটি তালিকা করা হয়েছে। তালিকার ২০ জনই বাংলাদেশের নাগরিক। এই তালিকা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, বৈঠক থেকে এনআইএ কর্মকর্তারা বাংলাদেশি জঙ্গিদের ধরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। কলকাতা বৈঠক থেকে ফিরে পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ভারতে জঙ্গি তৎপরতায় দুই দেশের নাগরিকেরাই জড়িত। এ কারণে জঙ্গি তৎপরতা দমনে যৌথ অভিযান জরুরি হয়ে পড়েছে। তিন জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্যকেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ। সেখানে ডিবির উপকমিশনার (দক্ষিণ) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, বর্ধমান বিস্ফোরণের পর আন্তদেশীয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের খোঁজে বাংলাদেশ এবং ভারতের গোয়েন্দারা তথ্য আদান-প্রদান করেছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় তিন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উপকমিশনার বলেন, ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার ছানোয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধানে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল গত রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে লালবাগ এতিমখানা মোড় থেকে এঁদের গ্রেপ্তার করে। এঁদের কাছে পাঁচটি ডেটোনেটর, দুটি জেল বোমা ও কিছু বিস্ফোরক পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন মিয়ানমারের জঙ্গি সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়নের (এআরইউ) ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক গ্লোবাল রোহিঙ্গা সেন্টারের (জিআরসি) সঙ্গে জড়িত। তাঁরা হলেন নূর হোসেন ওরফে রফিকুল ইসলাম (২৬), ইয়াসির আরাফাত (২২) ও ওমর করিম (২৫)। নূর হোসেন চার বছর, ফারুক ১২ বছর ও আরাফাত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে রয়েছেন। জেএমবির সঙ্গে এদের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে কৃষ্ণপদ রায় বলেন, জেএমবি ও রোহিঙ্গা জঙ্গিরা আলাদাভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালালেও তাঁদের আদর্শিক স্থান ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় অভিন্ন। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, বর্ধমানের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ভারতের হায়দরাবাদ থেকে খালিদ ওরফে খালিদ মোহাম্মদ ওরফে আবদুর নূর নামে মিয়ানমারের এক নাগরিককে আটক করে এনআইএ। খালিদ মিয়ানমারের উগ্রপন্থী সংগঠন তেহেরিক-ই-আজাদি আরাকানের সদস্য। তিনি পাকিস্তানের তেহরিকে-ই-তালেবানের কাছ থেকে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ঢাকায় গ্রেপ্তার তিন রোহিঙ্গা ওই খালিদ মোহাম্মদকে নিজেদের আদর্শিক গুরু মনে করেন। এনআইএর দেওয়া সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ওই তালিকার সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া নূর হোসেন ও ইয়াসিরের মিল পাওয়া গেছে। তবে বর্ধমানের ওই বিস্ফোরণের সময় নূর হোসেন ও ইয়াসির ভারতে অবস্থান করেছিলেন কি না, এ ব্যাপারে কোনো তথ্য ডিবির কাছে নেই। পুলিশ জানায়, বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গারা জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর প্রমাণও মিলেছে। এর আগে কলকাতায় গ্রেপ্তার হওয়া জেএমবির জঙ্গি সাজিদের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে (২৫) গত ২২ নভেম্বর ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন চট্টগ্রামের একটি হোটেল থেকে এক পাকিস্তানি নাগরিকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া সবাই রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত ১১ জনকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। বৈঠকে এই ১১ জঙ্গির তালিকা দিয়েছে ভারত। এঁদের মধ্যে কাওসার ও তালহা শেখ নামের দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করছে ভারত। এঁদের ধরিয়ে দিতে ১০ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। তালিকার অন্য জঙ্গিরা হলেন পশ্চিমবঙ্গের মাওলানা ইউসুফ শেখ, রেজাউল করিম, আমজাদ আলী শেখ, আবুল কালাম, বুরহান শেখ, হাবিবুর রহমান শেখ, জহিরুল শেখ, নসরুল্লাহ এবং আসামের বাসিন্দা শাহিনুর আলম। এদের সবার জন্য তিন থেকে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে ভারত। এসব জঙ্গি ছাড়াও নতুন করে দেওয়া তালিকার জঙ্গিদের ধরতে ঢাকায় পুলিশ আরও অভিযান চালাবে বলে জানা গেছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment