ায় এই পাহারা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে লোকজনের মনের ভয় কাটছে না। ১৭ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টায় কল্যাণপুর থেকে গাইবান্ধার পথে রওনা দিয়েছি হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি বাসে। সেদিন সরকারি ছুটি ছিল বলে পথে যানবাহন এবং যাত্রীসংখ্যা বেশ স্বল্পই। গাজীপুরের চন্দ্রা পর্যন্ত পথে থেমে থেমে লোক তোলা হলো। নেমেও গেল তাদের অনেকে অনেক স্থানে। অনেকটা লোকাল বাসের মতো অবস্থা। পলাশবাড়ী পর্যন্ত বেশ নির্বিঘ্নেই আসা গেল। তার পরই কেমন যেন বদলে গেল পরিবেশ। বিএনপি-জামায়াতের ডাকে গত ৫ জানুয়ারি থেকে টানা হরতাল-অবরোধে গাইবান্ধা জেলায় সবচেয়ে বেশি নাশকতার ঘটনা ঘটেছে পলাশবাড়ীতেই। জেলার পুলিশ প্রশাসন গাইবান্ধা থেকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ১৭টি স্থানকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বলে চিহ্নিত করেছে। যানবাহনে বোমা হামলায় এ পর্যন্ত গাইবান্ধায় নয়জনের মৃত্যু ঘটেছে, আগুনে পুড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ২২ জন। এর মধ্যে গত ৬ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার তুলসীঘাটে ঢাকাগামী নাপু পরিবহনে পেট্রলবোমা হামলায় নারী ও শিশুসহ আটজন এবং ১০ ফেব্রুয়ারি পলাশবাড়ীতে ভটভটিতে হামলায় আলতাফ নামের এক স্কুলশিক্ষক মারা যান। এসব হামলার কারণে জেলায় এবার পলাশবাড়ী আতঙ্কের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ৭৮০ জনকে। গতকাল বুধবার গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, নাশকতার জন্য পলাশবাড়ী উপজেলা বেছে নেওয়ার কারণ, জায়গাটি রাজধানী ঢাকা এবং গাইবান্ধাসহ উত্তরের বিভাগীয় শহর রংপুর ও অন্যান্য জেলার যোগাযোগের ক্ষেত্রে সংযোগস্থলের মতো। পলাশবাড়ীর ওপর দিয়েই কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর জেলার যানবাহনগুলো যাতায়াত করে। কাজেই পলাশবাড়ীতে সড়ক অবরোধ করলে বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুর এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। উপরন্তু পলাশবাড়ী এলাকা জামায়াত-শিবিরের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। এ কারণে তারা এ স্থানটিকে আন্দোলনের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেয়। গাইবান্ধা শহর আতঙ্ক ও হরতাল-অবরোধের স্থবিরতা পুরো কাটাতে পারেনি। শহর ঘুরে দেখা গেল, এখনো কিছু দোকানের ঝাঁপ বন্ধ। যেসব দোকানপাট খোলা, সেগুলোরও সামনের ঝাঁপের এক পাশ বন্ধ। এমনি একটি দোকান শহরের প্রধান সড়ক স্টেশন রোডের নিউ কেয়া সু’জ। মালিক খলিলুর রহমান জানালেন, পুরো জানুয়ারি মাস দোকান বন্ধ ছিল। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এক পাশের ঝাঁপ বন্ধ রেখে কোনোমতে ব্যবসা চালাচ্ছেন। কয়েক দিন আগেই পিকেটাররা ঝটিকা মিছিল করে যাওয়ার সময় তাঁর দোকানের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। ঝুঁকি আছে, কিন্তু আর কত দিন দোকান বন্ধ করে রাখা যাবে। বাধ্য হয়েই দোকান খুলেছেন। অবশ্য বেচাকেনা তেমন হচ্ছে না। দুপুরে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেল ভেতরটা খাঁ খাঁ করছে। গোটা তিনেক বাস সামনের সড়কের দাঁড়িয়ে। চালকের সহকারীরা হাঁকডাক করে যাত্রী জোগাড় করার চেষ্টা করছেন। জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিবুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানালেন, আগে প্রতিদিন টার্মিনাল থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩০টি বাস-মিনিবাস চলাচল করত। এখন সব মিলিয়ে কোনো কোনো দিন ৫০টি গাড়িও যাচ্ছে না। যদিও রাত নয়টার পর রাজধানীগামী বাস ছাড়তে আগে নিষেধ করা হয়েছিল এবং ১৫ মার্চ থেকে আবার রাতের বাস চলার কথা বলা হয়েছে। তবে গাইবান্ধায় কার্যত রাতে ঢাকাগামী শুধু নয়, কোনো বাসই যাচ্ছে না। বেলা তিনটার মধ্যেই ঢাকাগামী বাসগুলো এখান থেকে ছেড়ে যায়। পরিবহন কোম্পানিগুলোর কাউন্টার তালাবদ্ধ। নিতান্তই দরকার না হলে লোক বাসেও উঠছে না। ফলে লটবহর নিয়ে যাত্রীদের যাতায়াতে জমজমাট টার্মিনালের যে চেনা ছবি, তা আমূল বদলে গেছে। সেখানে এখন দিনমান সুনসান নীরবতা। কমে গেছে ট্রাক চলাচলও। আগে যেখানে শ খানেক ট্রাক চলাচল করত, এখন যাচ্ছে ২০ থেকে ২৫টি। জানুয়ারির ৫ তারিখ থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত কঠিন হরতাল হয়েছে জেলায়। দোকানপাট একেবারে বন্ধ। এর পর থেকে একটি-দুটি করে দোকান খুলতে শুরু করেছে। দৃশ্যত এখন হরতালের কোনো প্রভাব নেই। তবে কেনাকাটা ব্যবসায় একেবারে ঘোরতর মন্দা বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গাইবান্ধা শহরের স্কুল-কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এখন বাড়ছে, তবে উপজেলাগুলোতে উপস্থিতি কম। সাদুল্যাপুর উপজেলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ জহুরুল কাইয়ুম জানালেন, এবার জেলায় যে ধরনের সহিংসতামূলক ঘটনা ঘটেছে, তাতে মানুষের মন থেকে আতঙ্ক যাচ্ছে না। অনেক প্রত্যন্ত এলাকার ছাত্রছাত্রীরা আছে তাঁদের কলেজে। ফলে বছরে প্রথম দুই মাসে উপস্থিতি কম থাকলেও মার্চ থেকে বাড়তে শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা ও গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক ভালো। সে কারণেই যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে পুলিশি পাহারা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা রক্ষায় জেলায় পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Thursday, March 19, 2015
গাইবান্ধায় জনমনে আতঙ্ক, জীবন স্বস্তিহীন:প্রথম অালো
ায় এই পাহারা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে লোকজনের মনের ভয় কাটছে না। ১৭ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টায় কল্যাণপুর থেকে গাইবান্ধার পথে রওনা দিয়েছি হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি বাসে। সেদিন সরকারি ছুটি ছিল বলে পথে যানবাহন এবং যাত্রীসংখ্যা বেশ স্বল্পই। গাজীপুরের চন্দ্রা পর্যন্ত পথে থেমে থেমে লোক তোলা হলো। নেমেও গেল তাদের অনেকে অনেক স্থানে। অনেকটা লোকাল বাসের মতো অবস্থা। পলাশবাড়ী পর্যন্ত বেশ নির্বিঘ্নেই আসা গেল। তার পরই কেমন যেন বদলে গেল পরিবেশ। বিএনপি-জামায়াতের ডাকে গত ৫ জানুয়ারি থেকে টানা হরতাল-অবরোধে গাইবান্ধা জেলায় সবচেয়ে বেশি নাশকতার ঘটনা ঘটেছে পলাশবাড়ীতেই। জেলার পুলিশ প্রশাসন গাইবান্ধা থেকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ১৭টি স্থানকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বলে চিহ্নিত করেছে। যানবাহনে বোমা হামলায় এ পর্যন্ত গাইবান্ধায় নয়জনের মৃত্যু ঘটেছে, আগুনে পুড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ২২ জন। এর মধ্যে গত ৬ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার তুলসীঘাটে ঢাকাগামী নাপু পরিবহনে পেট্রলবোমা হামলায় নারী ও শিশুসহ আটজন এবং ১০ ফেব্রুয়ারি পলাশবাড়ীতে ভটভটিতে হামলায় আলতাফ নামের এক স্কুলশিক্ষক মারা যান। এসব হামলার কারণে জেলায় এবার পলাশবাড়ী আতঙ্কের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ৭৮০ জনকে। গতকাল বুধবার গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, নাশকতার জন্য পলাশবাড়ী উপজেলা বেছে নেওয়ার কারণ, জায়গাটি রাজধানী ঢাকা এবং গাইবান্ধাসহ উত্তরের বিভাগীয় শহর রংপুর ও অন্যান্য জেলার যোগাযোগের ক্ষেত্রে সংযোগস্থলের মতো। পলাশবাড়ীর ওপর দিয়েই কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর জেলার যানবাহনগুলো যাতায়াত করে। কাজেই পলাশবাড়ীতে সড়ক অবরোধ করলে বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুর এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। উপরন্তু পলাশবাড়ী এলাকা জামায়াত-শিবিরের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। এ কারণে তারা এ স্থানটিকে আন্দোলনের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেয়। গাইবান্ধা শহর আতঙ্ক ও হরতাল-অবরোধের স্থবিরতা পুরো কাটাতে পারেনি। শহর ঘুরে দেখা গেল, এখনো কিছু দোকানের ঝাঁপ বন্ধ। যেসব দোকানপাট খোলা, সেগুলোরও সামনের ঝাঁপের এক পাশ বন্ধ। এমনি একটি দোকান শহরের প্রধান সড়ক স্টেশন রোডের নিউ কেয়া সু’জ। মালিক খলিলুর রহমান জানালেন, পুরো জানুয়ারি মাস দোকান বন্ধ ছিল। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এক পাশের ঝাঁপ বন্ধ রেখে কোনোমতে ব্যবসা চালাচ্ছেন। কয়েক দিন আগেই পিকেটাররা ঝটিকা মিছিল করে যাওয়ার সময় তাঁর দোকানের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। ঝুঁকি আছে, কিন্তু আর কত দিন দোকান বন্ধ করে রাখা যাবে। বাধ্য হয়েই দোকান খুলেছেন। অবশ্য বেচাকেনা তেমন হচ্ছে না। দুপুরে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেল ভেতরটা খাঁ খাঁ করছে। গোটা তিনেক বাস সামনের সড়কের দাঁড়িয়ে। চালকের সহকারীরা হাঁকডাক করে যাত্রী জোগাড় করার চেষ্টা করছেন। জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিবুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানালেন, আগে প্রতিদিন টার্মিনাল থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩০টি বাস-মিনিবাস চলাচল করত। এখন সব মিলিয়ে কোনো কোনো দিন ৫০টি গাড়িও যাচ্ছে না। যদিও রাত নয়টার পর রাজধানীগামী বাস ছাড়তে আগে নিষেধ করা হয়েছিল এবং ১৫ মার্চ থেকে আবার রাতের বাস চলার কথা বলা হয়েছে। তবে গাইবান্ধায় কার্যত রাতে ঢাকাগামী শুধু নয়, কোনো বাসই যাচ্ছে না। বেলা তিনটার মধ্যেই ঢাকাগামী বাসগুলো এখান থেকে ছেড়ে যায়। পরিবহন কোম্পানিগুলোর কাউন্টার তালাবদ্ধ। নিতান্তই দরকার না হলে লোক বাসেও উঠছে না। ফলে লটবহর নিয়ে যাত্রীদের যাতায়াতে জমজমাট টার্মিনালের যে চেনা ছবি, তা আমূল বদলে গেছে। সেখানে এখন দিনমান সুনসান নীরবতা। কমে গেছে ট্রাক চলাচলও। আগে যেখানে শ খানেক ট্রাক চলাচল করত, এখন যাচ্ছে ২০ থেকে ২৫টি। জানুয়ারির ৫ তারিখ থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত কঠিন হরতাল হয়েছে জেলায়। দোকানপাট একেবারে বন্ধ। এর পর থেকে একটি-দুটি করে দোকান খুলতে শুরু করেছে। দৃশ্যত এখন হরতালের কোনো প্রভাব নেই। তবে কেনাকাটা ব্যবসায় একেবারে ঘোরতর মন্দা বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গাইবান্ধা শহরের স্কুল-কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এখন বাড়ছে, তবে উপজেলাগুলোতে উপস্থিতি কম। সাদুল্যাপুর উপজেলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ জহুরুল কাইয়ুম জানালেন, এবার জেলায় যে ধরনের সহিংসতামূলক ঘটনা ঘটেছে, তাতে মানুষের মন থেকে আতঙ্ক যাচ্ছে না। অনেক প্রত্যন্ত এলাকার ছাত্রছাত্রীরা আছে তাঁদের কলেজে। ফলে বছরে প্রথম দুই মাসে উপস্থিতি কম থাকলেও মার্চ থেকে বাড়তে শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা ও গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক ভালো। সে কারণেই যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে পুলিশি পাহারা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা রক্ষায় জেলায় পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment