ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠনকে নিষিদ্ধ এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধান যুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ আরেক দফা সংশোধন করা হবে। বিদ্যমান আইনে মুক্তিযুদ্ধকালে অপরাধী সংগঠনের বিচারের সুযোগ থাকলেও তার শাস্তির কোনো বিধান নেই। এ কারণে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। তাই আইনে সংশোধনী আনা প্রয়োজন। আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সূত্রে জানা গেছে, সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশ ও সবুজ সংকেত না পাওয়ায় আইনটি সংশোধন করতে ধীরগতিতে চলছে মন্ত্রণালয়। সংশোধন প্রক্রিয়ার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে গত রোববার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘খসড়া আইনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আছে। শিগগিরই উঠবে।’ এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালস আইনে চতুর্থ সংশোধনী আসছে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী। তিনি নিশ্চিত করে বলেছিলেন, পরবর্তী মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি উঠবে। এরপর তিনি কয়েক দফা সাংবাদিকদের জানান, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হবে। ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সাংবাদিকদের আবারও জানান, আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় জমা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার আগামী বৈঠকে না পারলে এর পরের বৈঠকেই তা উঠবে। অবশ্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন সূত্র বলছে, এখনো আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কি না, তা তারা নিশ্চিত নয়। বিচার বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, তারা এমন কোনো আইন ভেটিংও করেনি। জানতে চাইলে আইনসচিব আবু সালেহ মো. জহিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘খসড়া প্রস্তাব আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছি, এখন তা সেখানে কবে উত্থাপিত হবে তারা জানে।’ তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা এ বিষয়ে কোনো প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে কি না, এর পরিষ্কার কোনো জবাব দেননি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘খসড়া আইনটি মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংই করত। কোনো প্রস্তাব পাঠানো হলে তা পেয়েছি কি পাইনি, মন্ত্রিসভায় আলোচনা না হলে সেটা নিয়ে মন্তব্য করা সঠিক নয়।’ এর আগে ট্রাইব্যুনালস আইনের তিন দফা সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ হয়েছে ২০১৩ সালে। ওই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। তখন কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের মুখে ট্রাইব্যুনালস আইনের তৃতীয় সংশোধনী সংসদে পাস করা হয়। এতে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে দুই পক্ষের আপিলের সমান সুযোগ রাখা হয়। এই সংশোধনীতে সংগঠনের বিচারের সুযোগ তৈরি করা হলেও দোষী সাব্যস্ত হলে শাস্তি কী হবে, তা নির্ধারণ করা হয়নি। আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ সংশোধনীর খসড়ায় বিদ্যমান আইনের ১০টি ধারায় সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি ধারায় কেবল ‘ব্যক্তি’ শব্দের পাশাপাশি ‘সংগঠন’ শব্দটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। খসড়ার ২০ (২) ধারায় বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনাল দোষী সাব্যস্ত সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবেন। সংগঠন বা অন্য কোনো নামে ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবেন। বিদ্যমান আইনের ২০ ধারায় কেবল ব্যক্তির সাজার বিধান রয়েছে। অবশ্য আইনের সংশোধনীটি কথার মধ্যে আটকে থাকার বিষয়টি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে মনে করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন। তিনি প্রথম আলোকে জানান, পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের পর আওয়ামী লীগ ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিধান সংবিধানে রেখেছে। তাই আওয়ামী লীগ জামায়াতকে নিষিদ্ধ করবে না। নিষিদ্ধ করার কথা যেটা বলা হচ্ছে, সেটা রাজনৈতিক কৌশল। তবে কারও গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হলে বিএনপি প্রতিবাদ করবে। এর আগে ২০১৪ সালের ৩১ মে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে অস্থির না হওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জামায়াত নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এত হইচই ও অস্থিরতার কী আছে? আমার ওপর ভরসা রাখুন।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘কথায় আটকে আছে সংশোধন প্রক্রিয়া। এটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এসব আর কত? এ জন্য আমরা বলেছিলাম, জামায়াতের বিচারের জন্য আইনের দরকার নেই। পাকিস্তান অখুশি হবে, এ জন্য সরকার জামায়াতের বিচার না করার জন্য এই তামাশা শুরু করেছে।’
Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Thursday, April 9, 2015
জামায়াতের বিচার আটকে আছে কথামালায়:প্রথম অালো
ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠনকে নিষিদ্ধ এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধান যুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ আরেক দফা সংশোধন করা হবে। বিদ্যমান আইনে মুক্তিযুদ্ধকালে অপরাধী সংগঠনের বিচারের সুযোগ থাকলেও তার শাস্তির কোনো বিধান নেই। এ কারণে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। তাই আইনে সংশোধনী আনা প্রয়োজন। আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সূত্রে জানা গেছে, সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশ ও সবুজ সংকেত না পাওয়ায় আইনটি সংশোধন করতে ধীরগতিতে চলছে মন্ত্রণালয়। সংশোধন প্রক্রিয়ার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে গত রোববার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘খসড়া আইনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আছে। শিগগিরই উঠবে।’ এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালস আইনে চতুর্থ সংশোধনী আসছে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী। তিনি নিশ্চিত করে বলেছিলেন, পরবর্তী মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি উঠবে। এরপর তিনি কয়েক দফা সাংবাদিকদের জানান, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হবে। ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সাংবাদিকদের আবারও জানান, আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় জমা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার আগামী বৈঠকে না পারলে এর পরের বৈঠকেই তা উঠবে। অবশ্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন সূত্র বলছে, এখনো আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কি না, তা তারা নিশ্চিত নয়। বিচার বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, তারা এমন কোনো আইন ভেটিংও করেনি। জানতে চাইলে আইনসচিব আবু সালেহ মো. জহিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘খসড়া প্রস্তাব আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছি, এখন তা সেখানে কবে উত্থাপিত হবে তারা জানে।’ তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা এ বিষয়ে কোনো প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে কি না, এর পরিষ্কার কোনো জবাব দেননি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘খসড়া আইনটি মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংই করত। কোনো প্রস্তাব পাঠানো হলে তা পেয়েছি কি পাইনি, মন্ত্রিসভায় আলোচনা না হলে সেটা নিয়ে মন্তব্য করা সঠিক নয়।’ এর আগে ট্রাইব্যুনালস আইনের তিন দফা সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ হয়েছে ২০১৩ সালে। ওই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। তখন কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের মুখে ট্রাইব্যুনালস আইনের তৃতীয় সংশোধনী সংসদে পাস করা হয়। এতে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে দুই পক্ষের আপিলের সমান সুযোগ রাখা হয়। এই সংশোধনীতে সংগঠনের বিচারের সুযোগ তৈরি করা হলেও দোষী সাব্যস্ত হলে শাস্তি কী হবে, তা নির্ধারণ করা হয়নি। আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ সংশোধনীর খসড়ায় বিদ্যমান আইনের ১০টি ধারায় সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি ধারায় কেবল ‘ব্যক্তি’ শব্দের পাশাপাশি ‘সংগঠন’ শব্দটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। খসড়ার ২০ (২) ধারায় বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনাল দোষী সাব্যস্ত সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবেন। সংগঠন বা অন্য কোনো নামে ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবেন। বিদ্যমান আইনের ২০ ধারায় কেবল ব্যক্তির সাজার বিধান রয়েছে। অবশ্য আইনের সংশোধনীটি কথার মধ্যে আটকে থাকার বিষয়টি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে মনে করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন। তিনি প্রথম আলোকে জানান, পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের পর আওয়ামী লীগ ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিধান সংবিধানে রেখেছে। তাই আওয়ামী লীগ জামায়াতকে নিষিদ্ধ করবে না। নিষিদ্ধ করার কথা যেটা বলা হচ্ছে, সেটা রাজনৈতিক কৌশল। তবে কারও গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হলে বিএনপি প্রতিবাদ করবে। এর আগে ২০১৪ সালের ৩১ মে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে অস্থির না হওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জামায়াত নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এত হইচই ও অস্থিরতার কী আছে? আমার ওপর ভরসা রাখুন।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘কথায় আটকে আছে সংশোধন প্রক্রিয়া। এটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এসব আর কত? এ জন্য আমরা বলেছিলাম, জামায়াতের বিচারের জন্য আইনের দরকার নেই। পাকিস্তান অখুশি হবে, এ জন্য সরকার জামায়াতের বিচার না করার জন্য এই তামাশা শুরু করেছে।’
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment