Monday, June 22, 2015

আনন্দে ভাসছে দেশ:প্রথম অালো

সারা দেশে হাতে হাতে জাতীয় পতাকা। জয়ের আনন্দ আর দেশপ্রেমের জোয়ারে উদ্বেলিত অনেকে সেই পতাকা যত্ন করে বেঁধেছেন মাথায়। কেউবা লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে মিছিল করছেন ‘বাংলাদেশ’ ‘বাংলাদেশ’ স্লোগানে চারদিক মুখরিত করে। এর মধ্যে আবার বিস্ময় বালক মুস্তাফিজের জন্য সাতক্ষীরার আনন্দটা যেন ছিল একটু বেশিই। গতকাল রোববার মধ্যরাতে রাজধানীর টিএসসিতে তরুণ-যুবকদের আনন্দ-উল্লাসে রাতের আঁধারও যেন কেটে গিয়েছিল। চারপ
াশ অনুরণিত হচ্ছিল আনন্দের মূর্ছনায়। তালে-বেতালে নাচছিলেন হাজারো শিক্ষার্থী। বাঘের পুতুল নিয়েও হাজির ছিলেন কেউ কেউ। টিএসসির এ ছবি যেন একসঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠা গোটা বাংলাদেশেরই চিত্র। মিরপুরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ক্রিকেট সিরিজে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ভারতকে হারিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। এটাই দেশটির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেট সিরিজ বিজয়। গত রাতে টিএসসির সেই উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রছাত্রীরা এসে যোগ দেন। এত রাতেও মোটরসাইকেল বা গাড়িতে করে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে উল্লাসে মাতেন অনেক সাধারণ মানুষ। অনেকে রিকশা থেকে নেমে যোগ দেন উৎসবে। উল্লাসে উন্মাতাল সাতক্ষীরা: প্রথম আলোরনিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা জানান, ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। গতকাল সিরিজ জয়ের ম্যাচে নিলেন ছয়টি। জেলার এই কৃতী সন্তানকে নিয়ে তাই সাতক্ষীরার মানুষের মধ্যে ছিল বাঁধভাঙা আনন্দ। মুস্তাফিজের গ্রাম কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়ায় শুরু হয়ে যায় যেন ঈদের আনন্দ। গভীর রাতেই চলে মিষ্টিমুখ। মুস্তাফিজের বাড়িতে ভিড় জমান নানা শ্রেণির মানুষ। অভিনন্দন জানান তাঁর গর্বিত বাবা-মাকে। আগে থেকেই তেঁতুলিয়া ফুটবল মাঠে মুস্তাফিজের বন্ধুরা প্যান্ডেল সাজিয়েছিলেন। আয়োজন করেছিলেন বড় পর্দায় খেলা দেখার। সব মিলিয়ে উৎসবের বিশাল আয়োজন। মুস্তাফিজের বাবা আবুল কাসেম গাজী বলেন, ‘একসময় মনে হতো খেলে কী হবে। সেই খেলা খেলেই মুস্তাফিজ দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। ও এখন ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্ন। খেলা শুরু হওয়ার পর থেকে শুধু দোয়া করেছি ও যেন দেশের সম্মান রাখতে পারে।’ সাতক্ষীরার সাবেক ক্রিকেটার আল আমিন কবির বলেন, ‘মুস্তাফিজ ক্রিকেটে ভারত-বধ করেছে। তার কৃতিত্বে একই এলাকার মানুষ হিসেবে আমি যারপরনাই আনন্দিত ও গর্বিত।’ জেলার আরেক সাবেক ক্রিকেটার মার্শাল খোকন বলেন, ‘মুস্তাফিজের এ অর্জন শুধু সাতক্ষীরার নয়, সারা দেশের অর্জন। সাতক্ষীরার মানুষ অপেক্ষায় আছে কখন মুস্তাফিজ দেশে ফিরবে।’ মুস্তাফিজের প্রথম কোচ সাতক্ষীরার আলতাফ হোসেন বলেন, ‘মুস্তাফিজের এ কৃতিত্বে আমার মতো খুশি কে আর হতে পারে! ওর খেলা দেখার জন্য আগে থেকে এলাকায় বড় পর্দার ব্যবস্থা করেছি। আমি জানতাম ও আজ বাংলাদেশকে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করবে। সবাই বিস্মিত হবে।’ আরেক কোচ মুফসিনুল ইসলাম বলেন, ‘মুস্তাফিজ দেশের গর্ব। সত্যিই ও বিস্ময় বালক। সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস।’