টি আসন বেশি পেতে পারে, কিন্তু তারা ভোটের সংখ্যায় পিডিপির চেয়ে এগিয়ে। অতএব, বেশির ভাগ মানুষের এই সমর্থনকে তারা অবজ্ঞা ও উপেক্ষা করতে পারে না। এই দড়ি টানাটানির নিট ফল, সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এখনো দানা বাঁধল না। রাজ্যপাল এন এন ভোরা পয়লা জানুয়ারি সরকার গঠন করতে পিডিপিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই অবস্থায় কংগ্রেসের প্রস্তাব এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) ইঙ্গিত পিডিপিকে নতুনভাবে চিন্তা করাতে বাধ্য করছে। সরকার গঠন করতে পিডিপির কাছে বিজেপি যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে, পিডিপি গতকাল শনিবার তার জবাব দিয়েছে। শ্রীনগরে পিডিপির মুখপাত্র নঈম আখতার এই প্রস্তাব নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে তিনটি কথা জানান। এক, তাঁরা দলের আদর্শ ও নীতির প্রশ্নে আপস করবেন না। দুই, সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ করা হবে না, এই আশ্বাস বিজেপিকে দিতে হবে। তিন, বিজেপিকে এই আশ্বাসও দিতে হবে, সরকার গঠনের পর তারা সেনাবাহিনীর বিশেষ অধিকার আইন (আফসপা) প্রত্যাহার করে নেবে। এই দাবিগুলো না মানলে পিডিপির পক্ষে যে বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানো সম্ভব নয়, সেটাই মোটামুটি বুঝিয়ে দেওয়া হলো। বিজেপি ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারে অটল। আবার তিন বছর পর মুখ্যমন্ত্রিত্ব পেতেও তারা আগ্রহী। মুখ্যমন্ত্রিত্ব বাঁটোয়ারা নিয়ে পিডিপি অবশ্য স্পষ্ট করে গতকাল কিছু বলেনি। নঈম আখতার বলেছেন, ‘ওদের সঙ্গে আলোচনা ওই পর্যায়ে পৌঁছায়নি।’ কী ভাবছে বিজেপি? দলের সম্পাদক শ্রীকান্ত শর্মা শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, বিজেপি জম্মু ও কাশ্মীরে সরকার গড়তে চাইছে। দল মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবিতেও অনড়। কারণ, পিডিপি তাদের চেয়ে তিনটি আসন বেশি পেলেও বিজেপি তাদের চেয়েও বেশি ভোট পেয়েছে। বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের হার ৩০ শতাংশ, পিডিপির ২৭ দশমিক ৩০। বিজেপি কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না, ২৫টি আসন পেয়েও তাদের ছয় বছর সরকারের বাইরে থাকতে হতে পারে। সেই কারণেই তারা সরকারের অংশীদার হতে মরিয়া। কিন্তু পিডিপির মধ্যে দুই ধরনের মত রয়েছে। একদল মনে করছে, বিজেপির সঙ্গে হাত মেলালে ছয় বছর সরকারের কোনো বিপদ থাকবে না। অন্য দল মনে করছে, বিজেপির শর্তে তাদের সঙ্গে সরকার গড়লে উপত্যকার মানুষ ভবিষ্যতে তাদের ক্ষমা করবে না। এই টানাপোড়েনের মধ্যে দোলাচল শুরু হয়েছে কংগ্রেস ও এনসির মধ্যে। কংগ্রেসের নেতা গুলাম নবী আজাদ পিডিপিকে শর্তহীন সমর্থনের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি এনসি প্রধান সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও মৌখিকভাবে দলটিকে সমর্থনের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। পিডিপির পক্ষে মুশকিল হলো, কংগ্রেস বা এনসি যার সঙ্গেই যাক না কেন, সরকারের গরিষ্ঠতা হবে এক সুতোর। পিডিপির ২৮, কংগ্রেসের ১২ মিলিয়ে হচ্ছে ৪০। সিপিএমের একমাত্র সদস্য তারিগামি পিডিপি-কংগ্রেস জোটকে সমর্থন দেবেন বলে জানিয়েছেন। সাজ্জাদ লোনের দল পিপলস কনফারেন্সের দুজন এই সরকারে আসতে পারেন। বাকি থাকে একজনের সমর্থন। বাকি স্বতন্ত্রদের মধ্য থেকে তা পাওয়া যেতে পারে। তবে গরিষ্ঠতা হবে এক সুতোর। এই অবস্থায় বিজেপির বিরোধিতা এবং কেন্দ্রের অসহযোগিতার কথা পিডিপিকে ভাবাচ্ছে। কংগ্রেস এই ক্ষীণ ব্যবধান বাড়াতে এনসিকেও (১৫ আসন) শামিল করতে আগ্রহী। বিজেপিও এনসিকে বাজিয়ে দেখছে তাদের সমর্থনে সরকার গড়তে পারে কি না।
Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Sunday, December 28, 2014
সরকার গঠনের জট খুলছে না:প্রথম অালো
টি আসন বেশি পেতে পারে, কিন্তু তারা ভোটের সংখ্যায় পিডিপির চেয়ে এগিয়ে। অতএব, বেশির ভাগ মানুষের এই সমর্থনকে তারা অবজ্ঞা ও উপেক্ষা করতে পারে না। এই দড়ি টানাটানির নিট ফল, সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এখনো দানা বাঁধল না। রাজ্যপাল এন এন ভোরা পয়লা জানুয়ারি সরকার গঠন করতে পিডিপিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই অবস্থায় কংগ্রেসের প্রস্তাব এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) ইঙ্গিত পিডিপিকে নতুনভাবে চিন্তা করাতে বাধ্য করছে। সরকার গঠন করতে পিডিপির কাছে বিজেপি যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে, পিডিপি গতকাল শনিবার তার জবাব দিয়েছে। শ্রীনগরে পিডিপির মুখপাত্র নঈম আখতার এই প্রস্তাব নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে তিনটি কথা জানান। এক, তাঁরা দলের আদর্শ ও নীতির প্রশ্নে আপস করবেন না। দুই, সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ করা হবে না, এই আশ্বাস বিজেপিকে দিতে হবে। তিন, বিজেপিকে এই আশ্বাসও দিতে হবে, সরকার গঠনের পর তারা সেনাবাহিনীর বিশেষ অধিকার আইন (আফসপা) প্রত্যাহার করে নেবে। এই দাবিগুলো না মানলে পিডিপির পক্ষে যে বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানো সম্ভব নয়, সেটাই মোটামুটি বুঝিয়ে দেওয়া হলো। বিজেপি ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারে অটল। আবার তিন বছর পর মুখ্যমন্ত্রিত্ব পেতেও তারা আগ্রহী। মুখ্যমন্ত্রিত্ব বাঁটোয়ারা নিয়ে পিডিপি অবশ্য স্পষ্ট করে গতকাল কিছু বলেনি। নঈম আখতার বলেছেন, ‘ওদের সঙ্গে আলোচনা ওই পর্যায়ে পৌঁছায়নি।’ কী ভাবছে বিজেপি? দলের সম্পাদক শ্রীকান্ত শর্মা শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, বিজেপি জম্মু ও কাশ্মীরে সরকার গড়তে চাইছে। দল মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবিতেও অনড়। কারণ, পিডিপি তাদের চেয়ে তিনটি আসন বেশি পেলেও বিজেপি তাদের চেয়েও বেশি ভোট পেয়েছে। বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের হার ৩০ শতাংশ, পিডিপির ২৭ দশমিক ৩০। বিজেপি কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না, ২৫টি আসন পেয়েও তাদের ছয় বছর সরকারের বাইরে থাকতে হতে পারে। সেই কারণেই তারা সরকারের অংশীদার হতে মরিয়া। কিন্তু পিডিপির মধ্যে দুই ধরনের মত রয়েছে। একদল মনে করছে, বিজেপির সঙ্গে হাত মেলালে ছয় বছর সরকারের কোনো বিপদ থাকবে না। অন্য দল মনে করছে, বিজেপির শর্তে তাদের সঙ্গে সরকার গড়লে উপত্যকার মানুষ ভবিষ্যতে তাদের ক্ষমা করবে না। এই টানাপোড়েনের মধ্যে দোলাচল শুরু হয়েছে কংগ্রেস ও এনসির মধ্যে। কংগ্রেসের নেতা গুলাম নবী আজাদ পিডিপিকে শর্তহীন সমর্থনের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি এনসি প্রধান সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও মৌখিকভাবে দলটিকে সমর্থনের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। পিডিপির পক্ষে মুশকিল হলো, কংগ্রেস বা এনসি যার সঙ্গেই যাক না কেন, সরকারের গরিষ্ঠতা হবে এক সুতোর। পিডিপির ২৮, কংগ্রেসের ১২ মিলিয়ে হচ্ছে ৪০। সিপিএমের একমাত্র সদস্য তারিগামি পিডিপি-কংগ্রেস জোটকে সমর্থন দেবেন বলে জানিয়েছেন। সাজ্জাদ লোনের দল পিপলস কনফারেন্সের দুজন এই সরকারে আসতে পারেন। বাকি থাকে একজনের সমর্থন। বাকি স্বতন্ত্রদের মধ্য থেকে তা পাওয়া যেতে পারে। তবে গরিষ্ঠতা হবে এক সুতোর। এই অবস্থায় বিজেপির বিরোধিতা এবং কেন্দ্রের অসহযোগিতার কথা পিডিপিকে ভাবাচ্ছে। কংগ্রেস এই ক্ষীণ ব্যবধান বাড়াতে এনসিকেও (১৫ আসন) শামিল করতে আগ্রহী। বিজেপিও এনসিকে বাজিয়ে দেখছে তাদের সমর্থনে সরকার গড়তে পারে কি না।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment