Sunday, July 6, 2014

জাহাঙ্গীরের নবজাতক রোজাকে লেডিস কাবের সহযোগিতার হাত:কালের কন্ঠ

২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের সাথে নির্মমভাবে খুন হওয়া মনিরুজ্জামান স্বপনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী সামছুন্নাহার নূপুরের পাশে দাঁড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জ লেডিস কাব। গত শুক্রবার বেলা সোয়া ২টায় নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কন্যাসন্তান প্রসব করেন নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সামছুন্নাহার নূপুর। পরে সেই সন্তানকে দেখতে হাসপাতাল যান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী। নাম রাখেন ‘রোজা’। গতকাল শনিবার বেলা ১টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিঞার সহধর্মিণী নারায়ণগঞ্জ লেডিস কাবের সভানেত্রী শামীমা আরাসহ প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তাদের স্ত্রীরা সামছুন্নাহারকে দেখতে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে যান। এ সময় তিনি সামছুন্নাহারের নবজাতক শিশু রোজাকে কোলে নিয়ে আদর করেন। রোজার জন্য তৈরী পোশাক ও সামছুন্নাহারের জন্য ফলমূলসহ লেডিস কাবের পক্ষ থেকে তার হাতে টাকা তুলে দেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের সহধর্মিণী শামীমা আরা বলেন, সামছুন্নাহারের বিপদের সময় আমরা এগিয়ে এসেছি। লেডিস কাব ভবিষ্যতেও সামছুন্নাহারের পাশে থাকবে। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেনÑ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাহমুদুর রহমান হাবিবের সহধর্মিণী ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সিদ্দিকুর রহমানের সহধর্মিণী, এনডিসি আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহীন। নিহত জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই রিপন বলেন,  গাড়িচালক জাহাঙ্গীরের পরিবার অত্যন্ত অসহায়। শিশুকন্যাটি ভূমিষ্ঠ হলেও তার ভবিষ্যতের খরচ বহন করা নিয়ে তার পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এ জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য তিনি আহ্বান জানান। প্রসঙ্গত, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিমকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেয়া হয়। ৩০ এপ্রিল উদ্ধার করা হয় লাশ। ঘটনার মূল আসামি নূর হোসেনকে গত ১৫ জুন ভারতের কলকাতা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ছাড়া গ্রেফতারকৃত চাকরিচ্যুত র‌্যাব কর্মকর্তা অবসরে পাঠানো সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে স্বীকার করেছে যে, নূর হোসেনের পরিকল্পনায় এ সাত খুনের ঘটনা ঘটে।

No comments:

Post a Comment