Saturday, July 5, 2014

যশোরে আড়াই মাসে ২৯টি ‘বন্দুকযুদ্ধ’:প্রথম অালো

যশোরে গত আড়াই মাসে পুলিশের সঙ্গে ২৯টি ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের হিসাবে, এসব ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুজন নিহত ও ২৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে গুলিবিদ্ধ তিনজন প্রথম আলোকে বলেছেন, পুলিশ তাঁদের ধরে নিয়ে পায়ে গুলি করেছে। বন্দুকযুদ্ধের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বাকি আহত ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ফলে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় একাধিক মানবাধিকারকর্মী বলছেন, ঘটনাগুলো অমানবিক। জেলার বিএনপি ও জামায়াত নেতারা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক নিপীড়নের অংশ হিসেবে তাঁদের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে ধরে নিয়ে পায়ে গুলি করা হয়েছে। তাঁরা কেউই অপরাধী নন। তবে স্থানীয় পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুরো পরিস্থিতি জানিয়ে এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, যশোরের পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত না শুনে এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য দেওয়া ঠিক হবে না। যশোর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ সুপার রেশমা শারমীন গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে জানান, ২৫ মার্চ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত যশোর জেলায় ২৯টি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন ও ২৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নিহত দুজন হলেন অভয়নগর উপজেলার সাইফুল ইসলাম (৩০) ওরফে শিকারি সাইফুল এবং যশোর সদরের ঝুমঝুমপুর এলাকার তাহের মোল্লা (৪০)। তাঁদের মধ্যে সাইফুলের বিরুদ্ধে ডাকাতি-খুনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। আর তাহের পাঁচটি মাদক ও একটি হত্যা মামলার আসামি। তাহের মোল্লার বোন জরিনা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাত ১০টার দিকে ঝুমঝুমপুর এলাকার একটি হোটেলে রাতে খাওয়ার সময় পুলিশ তাহেরকে নিয়ে যায়। রাতেই থানায় খবর নিয়ে জেনেছি, তাকে আটক করা হয়নি। সকালে জানতে পারলাম পুলিশ তাকে গুলি করে হত্যা করেছে।’ যশোর জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৯ মে রাতে পুলিশ পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাহেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণের কারণে কিছুক্ষণ পরে তিনি মারা যান। তবে নিহত ব্যক্তির বোন এটা মানতে চান না। জরিনা বলেন, ‘পায়ে গুলি করলে তো কেউ মরে না। পুলিশ বুট পায়ে দিয়ে মাড়িয়ে নির্যাতন করে তাকে মেরে ফেলেছে। পরে গুলি করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তার বুক ও হাতে থেঁতলানোর চিহ্ন ছিল।’ নিহত শিকারি সাইফুলের স্বজনেরা এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। বাকি গুলিবিদ্ধ ২৭ ব্যক্তির মধ্যে ১৮ জনের সম্পর্কে পুলিশ ও হাসপাতাল থেকে তথ্য মিলেছে। তাঁদের মধ্যে গত ২৬ মার্চ মনিরামপুর উপজেলার সুন্দলপুর গ্রামের মিজানুর রহমান (৩০), ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় যশোর শহরের খড়কি বামনপাড়া এলাকার বাসিন্দা জেলা ছাত্রলীগের সহ-অর্থ সম্পাদক হাফিজুর রহমান ওরফে হাফিজ (২৮), ৩০ এপ্রিল ভোরে সদর উপজেলার কচুয়া গ্রামের মজনু (৩৫), একই দিনে মনিরামপুর উপজেলার আগরহাটি এলাকায় রফিকুল ইসলাম (৩০), ২৮ এপ্রিল ছাত্রশিবিরের যশোর জেলার পশ্চিমাংশের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন (২৫) ও শিবিরের বেনাপোল পৌর কমিটির সভাপতি আবুল কাসেম (২১), ২৭ এপ্রিল যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেন (২৩), ২২ এপ্রিল যশোর সদর উপজেলার বাওলিয়া গ্রামের বাসিন্দা জামায়াতের কর্মী মোছাইদ হোসেন (৩০), ৮ এপ্রিল শার্শা উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মনু মিয়া (৪৫) গুলিবিদ্ধ হন। আর ২ মে শার্শা উপজেলার মহিষাডাঙ্গা গ্রামে রফিকুল ইসলাম (৩২), ৪ মে যশোর শহরের রেলগেট এলাকার আরিফ হোসেন ওরফে সুমন (৩৬) ও একই এলাকার রানা (২৮), ৭ মে মনিরামপুর উপজেলার জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা জামায়াতের কর্মী আলী কদর (২৮), ১৫ মে ইসলামী ছাত্রশিবির যশোর শহর শাখার সভাপতি জাহিদুল ইসলাম (২৯) ও রেলগেট এলাকার আবুল কাসেম (২৫), ৩১ মে সদর উপজেলার বারান্দি মোল্লাপাড়া এলাকার মাসুদুর রহমান ওরফে নান্নু (৩৮) ও সর্বশেষ গত ১৫ জুন শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়ার বাসিন্দা সালমান শিকদার ওরফে বিকি (২৮) এবং রেলগেট এলাকার ইব্রাহিম হোসেন ওরফে ডলার (২৪) গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের পা কেটে ফেলার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকিদের কেউই এখন পর্যন্ত পুরোপুরি সুস্থ হননি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আহত এসব ব্যক্তিকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাঁদের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। হাফ দেব, না ফুল দেব: ৩১ মে যশোরে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হন মাসুদুর রহমান ওরফে নান্নু নামের এক তরুণ। চিকিৎসাধীন মাসুদুর নিজেকে

No comments:

Post a Comment