Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Saturday, July 5, 2014
শুরুর গোলেই সেমিতে জার্মানি:প্রথম অালো
কখনো না কখনো এটা হতোই। তাই বলে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বের শুরুটাই হলো এমন ম্যাড়মেড়ে এক ম্যাচ দিয়ে! না, এ বড় আশাভঙ্গের ব্যাপার হলো। এই বিশ্বকাপ উত্তেজনা আর অনিশ্চয়তায় ভরা ম্যাচের বিচারে স্মরণকালের সেরা কি না, এই জাতীয় আলোচনা হচ্ছে। সেটি আরও তুঙ্গে উঠেছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। নকআউট পর্বের শুরুতেই প্রায় সব কটি ম্যাচ বিনোদনের এমন পসরা সাজিয়ে বসেছে যে দর্শক প্রত্যাশাটাও বাঁধা হয়ে গেছে অনেক উঁচু তারে। সেই প্রত্যাশার খুব সামান্যই মেটাতে পারল মারাকানায় দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির দ্বৈরথ। ম্যাচের ১৩ মিনিটেই সেট পিস থেকে গোল। টনি ক্রুসের ফ্রি কিকে মাথা ছোঁয়াতে ম্যাট হামেলস এমনই লাফ দিলেন যে গায়ে লেগে থাকা ভারানকে হার মানতেই হলো। হামেলসের হেডে বল জালে। শুরুর গোলটাকে ধরে রেখেই টানা চতুর্থবারের মতো সেমিফাইনালে উঠে গেল জার্মানি। ধারাবাহিকতার অনেক রেকর্ডই জার্মানির অধিকারে। তাতে এটি নতুন সংযোজন। মানে আর কোনো দল টানা চারটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেনি। শুরুতেই গোল হয়ে গেলে ম্যাচ সাধারণত আরও জমে। কিন্তু এটি সেই নিয়ম অনুসরণ করল না। বেলা একটার প্রচণ্ড গরম একটা কারণ হলেও হতে পারে। বেলা একটায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মারাকানায়ও ‘কুলিং ব্রেক’ নিতে হলো। ম্যাচশেষে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমও গরমটাকে একটা বাধা হিসেবে দাঁড় করালেন। যদিও সেই বাধা যে দুই দলের জন্যই সমান ছিল, সেটি বলতেও ভুললেন না। ফ্রান্সের জন্য এর চেয়েও বড় বাধা ছিলেন ম্যানুয়ের নয়্যার। সুইপার-গোলকিপারের ধারণাকে দিনে দিনে আরও জনপ্রিয় করে তোলা নয়্যার দারুণ কিছু সেভ করলেন, যার মধ্যে সবচেয়ে দর্শনীয়টি সম্ভবত খেলার অন্তিম লগ্নে। করিম বেনজেমার শটটি ঠেকিয়ে দিলেন এক হাতে। এমনিতে ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখলে ফ্রান্সকেই এগিয়ে রাখতে হয়। ১৩টি শট নিয়েছে ফ্রান্স, যার ৭টিই ছিল গোলে। জার্মানির ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানটা ৯/৫। নয়্যারকে ৮টি সেভ করতে হয়েছে। লরিসকে ৪টি। ম্যাচ জিততে না পারলেও সংবাদ সম্মেলনে দিদিয়ের দেশমের কথা শুনে মনে হলো, ফরাসি কোচ এসবেই খুশি। এই বিশ্বকাপের আগে ফ্রান্সের সম্ভাবনা নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেনি। তরুণ সেই দলই কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে ফেলাটাকে ২০১৮ বিশ্বকাপের পাথেয় হিসেবে দেখছেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। ম্যাচ নিয়ে যত প্রশ্ন হলো, তার চেয়ে বেশি হলো ফ্রান্স দলের সম্ভাব্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে। এই ম্যাচের আগে জার্মান সংবাদমাধ্যম সরগরম ছিল ফিলিপ লামকে নিয়ে। বায়ার্নে গার্দিওলাকে অনুসরণ করে লামকে মিডফিল্ডে খেলাচ্ছিলেন জোয়াকিম লো-ও। প্রথম ম্যাচে পতুর্গালকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ায় এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে দুই গোল খেয়ে ড্র করে বসার পর প্রশ্নটা পরের দুই ম্যাচে আরও উচ্চকিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত লামকে রাইট ব্যাক পজিশনেই ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন লাম। ম্যাচশেষে অবশ্য নিশ্চিত করতে রাজি হলেন না, এটা এক ম্যাচের জন্য হলো না এখন থেকে লাম আবার রাইট ব্যাক। লামের ছিল পজিশন বদল। যেটি কিছুটা অনুমেয়ও ছিল। লো’র একাদশে বড় চমক ছিল মিরোস্লাভ ক্লোসার নাম। অনেক দিনই সুযোগ মিললে সেটি শুধু বদলি হিসেবেই মিলছে। কাল আবার শুরু করে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডে আরেকটু এগোলেন ক্লোসা। এটি তাঁর ২২তম ম্যাচ। সামনে আছেন শুধু ইতালির পাওলো মালদিনি (২৩) ও স্বদেশি লোথার ম্যাথাউস (২৫)। অর্থাৎ, মালদিনিকে টপকে গেলেও যেতে পারেন, কিন্তু ম্যাথাউসের রেকর্ডটা অক্ষতই থাকছে। তবে ক্লোসা নিশ্চয়ই এই রেকর্ড নিয়ে ভাবছেন না। তাঁর শয়ন-স্বপন-জাগরণজুড়ে থাকার কথা বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি। যেটি এখন রোনালদোর সঙ্গে ভাগাভাগি করছেন। কাল ম্যাচের শুরুতেই নামায় বড় একটা সুযোগ ছিল রেকর্ডটি শুধুই নিজের করে নেওয়ার। সেই সম্ভাবনাই অবশ্য জাগাতে পারেননি ক্লোসা। বিরতির পর তাঁকে তুলে নেওয়ার আগ পর্যন্ত যা খেলেছেন, তাতে লো’র বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকার কথা নয়। ক্লোসা রোনালদোর রেকর্ডটি ভেঙে দিলে মারাকানার দর্শকেরা কী প্রতিক্রিয়া জানাত, তা একটা বড় কৌতূহলের ব্যাপারই হয়ে থাকল। দক্ষিণ আমেরিকান দেশগুলোর খেলা হলে স্টেডিয়াম যেমন সে দেশের দর্শকেই ঠাসা থাকে, ইউরোপের দুই দল হলে ঘটনা হয় অন্যরকম। স্বাগতিক ব্রাজিলের দর্শকই বেশি থাকে গ্যালারিতে। কাল জার্মানি-ফ্রান্স ম্যাচেও তাই গ্যালারি থেকে একটু পরপরই ব্রাজিল-ব্রাজিল স্লোগান উঠল। কয়েক ঘণ্টা পরই ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনাল। সেটির জন্য ওয়ার্মআপও ধরতে পারেন। কলম্বিয়া-বাধা পেরোতে পারলে ব্রাজিলের সেমিফাইনাল প্রতিপক্ষ এই জার্মানিই।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment