Sunday, July 6, 2014

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে স্লোভিয়ানস্ক ঘাঁটি থেকে বিদ্রোহীদের পলায়ন:কালের কন্ঠ

ইউক্রেনের সেনাবাহিনী সে দেশের পূর্বাঞ্চলে রুশপন্থী বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি স্লোভিয়ানস্কে প্রবেশ করেছে। প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো শহরটির সিটি কাউন্সিল ভবনে ইউক্রেনের জাতীয় পতাকা উড়ানোর জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীরা ঘাঁটিটি ছেড়ে চলে যাওয়ার খবরের পর তিনি এ নির্দেশ দেন। তবে ইউক্রেনের বাহিনী শহরটির ওপর কতখানি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। ১০ দিনব্যাপী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ইউক্রেনের বাহিনী চলতি সপ্তাহে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরসেন আভাকভ ফেসবুকে বলেছেন, বিপুলসংখ্যক বিদ্রোহী স্লোভিয়ানস্ক ছেড়ে চলে গেছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের বাহিনীর আক্রমণে বিদ্রোহীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং আত্মসমর্পণ করে। তবে তার এ কথার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। আভাকভ বলেন, দনেৎস্ক গণপ্রজাতন্ত্রের (ডিপিআর) স্বঘোষিত সামরিক কমান্ডার ইগোর স্ট্রেলকভও শহরটি ত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই কমান্ডারের আসল নাম হল ইগোর গিরকিন। ইউক্রেন সরকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিযোগ করেছে যে, এ ব্যক্তি একজন রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। পোরোশেঙ্কো তার ওয়েবসাইটে লিখেছেন, বিদ্রোহীরা শহরটি ছেড়ে যাওয়ার সময় একটি ট্যাংক ও চারটি সাঁজোয়া যান খুইয়েছে। ডিপিআর’র মুখপাত্র এন্ড্রু পুরগিন বলেছেন, তাদের যোদ্ধাদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানায়, ইউক্রেনের সৈন্যরা আরতেমিভস্ক শহরে ডিপিআর’র সদর দফতর ধ্বংস করে দিয়েছে। কূটনৈতিক তৎপরতা যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। জার্মান, ফ্রান্স, মার্কিন, রুশ ও ইউক্রেনের নেতারা পরস্পরের সাথে টেলিফোন আলাপের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের এ চেষ্টা করেন। পোরোশেঙ্কো বলেছেন, উভয় পক্ষে যুদ্ধবিরতি পালন, সব পণবন্দীর মুক্তিদান এবং সীমান্ত নিরাপত্তার ভার সরকারি বাহিনীর ওপর ন্যস্ত করা হলে তিনিও যুদ্ধবিরতি করতে রাজি আছেন। রুশপন্থীদের সাথে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গতকাল শনিবার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ বৈঠক দনেৎস্কে অনুষ্ঠিত হতে পারে। দনেৎস্ক ইউক্রেণের পূর্বাঞ্চলীয় বাণিজ্যনগরী এবং বর্তমানে রুশপন্থীদের প্রভাবান্বিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম।

No comments:

Post a Comment