Tuesday, August 26, 2014

কুইক রেন্টালের মেয়াদ বাড়ল:নয়াদিগন্ত

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি আইনের মেয়াদ আরো চার বছর বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মধ্য দিয়ে কুইক রেন্টালের মেয়াদও সমানতালে বাড়ল। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) সংশোধন আইন, ২০১৪-এর খসড়া ভেটিং সাপেে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। এ ছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল আইন-২০১৪-এর চূড়ান্ত
অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহের জন্য প্রথম ২০১০ সালে এ বিশেষ আইন প্রণয়ন করে সরকার। দুই বছর পর এ আইনের মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ানো হয়। আগামী ১১ অক্টোবর আইনটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরো চার বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মূলত কুইক রেন্টালের মেয়াদ বাড়াতেই সরকার এ আইনের মেয়াদ বাড়িয়েছে।  বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রকল্প নেয়ার জন্য বিশেষ কমিটির মাধ্যমে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করার বিধান রয়েছে এ আইনে। তিনি বলেন, এ আইনের আওতায় সরকার স্বল্প সময়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে, ওয়েবসাইটে প্রচার চালিয়ে বা ই-মেইলে যোগাযোগ করে আলোচনা ও দরকষাকষির মাধ্যমে বিদ্যুৎ বা জ্বালানি প্রকল্পের জন্য চুক্তি করতে পারে। সচিব বলেন, অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে আইনটি খুবই কার্যকর হয়েছে। চুক্তির বিষয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না, আইনে এমন বিধান আছে কি নাÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২০১০ সালের আইনে ৭ নম্বর ধারায় এটি আছে। সচিব জানান, সরকার গত চার বছরে এ আইনের আওতায় রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট, কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট, ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন, চলমান প্ল্যান্টগুলোর মেরামত এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা এবার শুধু আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে, নতুন করে কোনো বিধান সংযুক্ত করেনি। আইনের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। সে তুলনায় যদি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হয়, তাহলে প্রকিউরমেন্টের যে স্বাভাবিক আইন-কানুন আছে তা সময়সাপে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রকিউরমেন্টের নিয়ম-কানুনে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হলে অনেক সময় ব্যয় হয়। এ জন্য ২০১০ সালে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সাথে নেগোসিয়েশন করে চুক্তি সম্পাদনের ভিত্তিতে আইনটি দুই বছরের জন্য করা হয়েছিল। পরে আরো দুই বছর বাড়ানো হয়। মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল আইন, ২০১৪ মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল কোনো সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি দেবে না। বার কাউন্সিলের মতো নার্সিং ডিগ্রি ব্যবহার করার জন্য এ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দরকার হবে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সামরিক শাসনামলের এ আইনটি ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করে কিছু ধারা সংশোধন করা হয়েছে। সচিব জানান, আগে শুধু নার্সিং ছিল। এখন মিডওয়াইফারি যোগ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসচিবের নেতৃত্বে কাউন্সিলের কমিটি হবে। সাত সদস্যের নির্বাহী কমিটির প্রধান হবেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব। তিনি বলেন, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ডিগ্রি দেয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে তাহলে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের অনুমোদন নিতে হবে। আইনে কাউন্সিলকে প্রবিধান তৈরির মতা দেয়া হয়েছে।

No comments:

Post a Comment