(বিসিসি) ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঝে ত্রিমুখী সড়কে। মাইক্রোবাসটি ফেঁসে গেছে এই সড়কেরই এক বিশাল গর্তে। ১০ বাই চার ফুট জায়গাজুড়ে তৈরি হওয়া গর্তের গভীরতাও প্রায় দুই ফুট। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় দূর থেকে বোঝার উপায় নেই যে এটা একটা মরণফাঁদ। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষ আহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উত্তর কোনার সড়কে রয়েছে ১২ বাই আট ফুটের আরেকটি বিশাল গর্ত। শুধু এ দুটি গর্তই নয়, বিসিসি ভবন থেকে শুরু হয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উত্তর পাশ পর্যন্ত সড়কজুড়ে রয়েছে বড় বড় গর্ত। উত্তর পাশ থেকে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের দিকে যাওয়ার সড়কটির অবস্থাও শোচনীয়। সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে আগারগাঁওয়ের এই সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট, পরিসংখ্যান ব্যুরো, পরিবেশ অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড সদর দপ্তর, বাংলাদেশ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল ডকুমেন্টেশন সেন্টার (ব্যান্সডক), বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, আবহাওয়া অধিদপ্তর, ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিদিন সড়কটি ব্যবহার করেন। স্থানীয় লোকজন জানায়, চার বছর আগে নির্মিত সড়কটি দেড় বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে। মেরামতের উদ্যোগ নেই। তবে সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে গতকাল মঙ্গলবার হঠাৎই সড়কটি ঘিরে তৎপরতা চোখে পড়েছে। দেখা গেল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সড়কটির গর্ত মেরামত কাজ তদারকি করছেন। কারণ খুঁজতে গিয়ে তথ্য পাওয়া গেল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে এই তৎপরতা। ডিএনসিসির সড়ক পরিদর্শক মাহফুজুল হক অবশ্য দাবি করলেন, নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবেই সড়কটি মেরামত করা হচ্ছে। তবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিসিসি ভবনে একটি অনুষ্ঠানে আসবেন। তাঁর গাড়িবহর যাতে গর্তে না পড়ে তাই দ্রুত সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে কেন মেরামত করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি দায় এড়ানোর সুরে বলেন, ‘এটি আমাদের নয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সড়ক। সড়কটি মেরামতের জন্য আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই এটি মেরামত করছি।’ তবে সকাল থেকে টানা দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান করে দেখা গেছে, মেরামতের নামে সড়কে যে কাজটুকু করা হচ্ছে তা একেবারেই দায়সারা। দুজন কর্মকর্তা ও চারজন কর্মচারী ট্রাকভর্তি বালু ও ছোট পিক-আপ ভ্যানে কিছু ইট এনে তা দিয়ে কোনোমতে সড়কটি সাময়িক চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছেন। বড় বড় গর্তের মধ্যে ৩০-৪০টি ইট ফেলা হচ্ছে। এরপর হাতুড়ি দিয়ে গর্তের মধ্যে ভেঙে বালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। তার পরও পানি জমে ডোবার মতো হয়ে থাকা বড় গর্তে মেরামতের হাত পড়েনি। কাজ করতে করতেই একজন কর্মচারী দায়িত্বরত প্রকৌশলীকে বললেন, ‘স্যার, ইট আনছেন ৪০০। গর্ত ভরলেন চারটা। ভালো করে কাজ করতে গেলে এই গর্তেই তো ৪০০ ইট লাগবে।’ জবাবে প্রকৌশলীর ধমক, ‘তোমার কাজ তুমি করো। এত কথা বলো কেন? যা আছে তা দিয়েই কাজ করতে হবে।’ এই প্রতিবেদক নিজের পরিচয় দিয়ে এমন দায়সারা মেরামতের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী মো. শামসুজ্জামান উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, ‘আপনি কে? আপনাকে কৈফিয়ত দিতে যাব কেন? কথা বলতে চান, অফিসে আসেন। এখানে কোনো কথা বলা যাবে না।’ ওই প্রকৌশলীর চোখ এড়িয়ে এক কর্মচারী বললেন, ‘বছর খানেক হলো উনি জয়েন করেছেন। কথায় কথায় ধমক দেন। আপনিই দেখুন, এখানে কমপক্ষে দুই হাজার ইট লাগবে। আনা হইছে মাত্র ৪০০। বালি দিয়ে কি কাজ করা যায়? বৃষ্টি অইলে থাকব কিছু? মানুষের আরো বেশি কষ্টের কারণ অইয়া দাঁড়াইবো।’ স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম এই সড়কে চলতে গিয়ে নিত্যভোগান্তির শিকারদের একজন। ক্ষোভ মেশানো কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘দেড় বছর ধরে রাস্তাটা এভাবে বেহাল পড়ে আছে। দেখার কেউ নেই। এখন প্রধানমন্ত্রী আসবেন জেনে তারা কাজ শুরু করেছে। তাও কী কাজ করতেছে তা তো নিজের চোখেই দেখলেন। ওরা যেভাবে কাজ করছে, বড়সড় বৃষ্টি হলে প্রধানমন্ত্রী আসার আগেই দেখা যাবে যে লাউ সেই কদু।’
Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Wednesday, August 27, 2014
জমে থাকা পানির নিচেই মরণফাঁদ:কালের কন্ঠ
(বিসিসি) ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঝে ত্রিমুখী সড়কে। মাইক্রোবাসটি ফেঁসে গেছে এই সড়কেরই এক বিশাল গর্তে। ১০ বাই চার ফুট জায়গাজুড়ে তৈরি হওয়া গর্তের গভীরতাও প্রায় দুই ফুট। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় দূর থেকে বোঝার উপায় নেই যে এটা একটা মরণফাঁদ। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষ আহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উত্তর কোনার সড়কে রয়েছে ১২ বাই আট ফুটের আরেকটি বিশাল গর্ত। শুধু এ দুটি গর্তই নয়, বিসিসি ভবন থেকে শুরু হয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উত্তর পাশ পর্যন্ত সড়কজুড়ে রয়েছে বড় বড় গর্ত। উত্তর পাশ থেকে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের দিকে যাওয়ার সড়কটির অবস্থাও শোচনীয়। সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে আগারগাঁওয়ের এই সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট, পরিসংখ্যান ব্যুরো, পরিবেশ অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড সদর দপ্তর, বাংলাদেশ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল ডকুমেন্টেশন সেন্টার (ব্যান্সডক), বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, আবহাওয়া অধিদপ্তর, ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিদিন সড়কটি ব্যবহার করেন। স্থানীয় লোকজন জানায়, চার বছর আগে নির্মিত সড়কটি দেড় বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে। মেরামতের উদ্যোগ নেই। তবে সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে গতকাল মঙ্গলবার হঠাৎই সড়কটি ঘিরে তৎপরতা চোখে পড়েছে। দেখা গেল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সড়কটির গর্ত মেরামত কাজ তদারকি করছেন। কারণ খুঁজতে গিয়ে তথ্য পাওয়া গেল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে এই তৎপরতা। ডিএনসিসির সড়ক পরিদর্শক মাহফুজুল হক অবশ্য দাবি করলেন, নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবেই সড়কটি মেরামত করা হচ্ছে। তবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিসিসি ভবনে একটি অনুষ্ঠানে আসবেন। তাঁর গাড়িবহর যাতে গর্তে না পড়ে তাই দ্রুত সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে কেন মেরামত করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি দায় এড়ানোর সুরে বলেন, ‘এটি আমাদের নয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সড়ক। সড়কটি মেরামতের জন্য আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই এটি মেরামত করছি।’ তবে সকাল থেকে টানা দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান করে দেখা গেছে, মেরামতের নামে সড়কে যে কাজটুকু করা হচ্ছে তা একেবারেই দায়সারা। দুজন কর্মকর্তা ও চারজন কর্মচারী ট্রাকভর্তি বালু ও ছোট পিক-আপ ভ্যানে কিছু ইট এনে তা দিয়ে কোনোমতে সড়কটি সাময়িক চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছেন। বড় বড় গর্তের মধ্যে ৩০-৪০টি ইট ফেলা হচ্ছে। এরপর হাতুড়ি দিয়ে গর্তের মধ্যে ভেঙে বালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। তার পরও পানি জমে ডোবার মতো হয়ে থাকা বড় গর্তে মেরামতের হাত পড়েনি। কাজ করতে করতেই একজন কর্মচারী দায়িত্বরত প্রকৌশলীকে বললেন, ‘স্যার, ইট আনছেন ৪০০। গর্ত ভরলেন চারটা। ভালো করে কাজ করতে গেলে এই গর্তেই তো ৪০০ ইট লাগবে।’ জবাবে প্রকৌশলীর ধমক, ‘তোমার কাজ তুমি করো। এত কথা বলো কেন? যা আছে তা দিয়েই কাজ করতে হবে।’ এই প্রতিবেদক নিজের পরিচয় দিয়ে এমন দায়সারা মেরামতের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী মো. শামসুজ্জামান উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, ‘আপনি কে? আপনাকে কৈফিয়ত দিতে যাব কেন? কথা বলতে চান, অফিসে আসেন। এখানে কোনো কথা বলা যাবে না।’ ওই প্রকৌশলীর চোখ এড়িয়ে এক কর্মচারী বললেন, ‘বছর খানেক হলো উনি জয়েন করেছেন। কথায় কথায় ধমক দেন। আপনিই দেখুন, এখানে কমপক্ষে দুই হাজার ইট লাগবে। আনা হইছে মাত্র ৪০০। বালি দিয়ে কি কাজ করা যায়? বৃষ্টি অইলে থাকব কিছু? মানুষের আরো বেশি কষ্টের কারণ অইয়া দাঁড়াইবো।’ স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম এই সড়কে চলতে গিয়ে নিত্যভোগান্তির শিকারদের একজন। ক্ষোভ মেশানো কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘দেড় বছর ধরে রাস্তাটা এভাবে বেহাল পড়ে আছে। দেখার কেউ নেই। এখন প্রধানমন্ত্রী আসবেন জেনে তারা কাজ শুরু করেছে। তাও কী কাজ করতেছে তা তো নিজের চোখেই দেখলেন। ওরা যেভাবে কাজ করছে, বড়সড় বৃষ্টি হলে প্রধানমন্ত্রী আসার আগেই দেখা যাবে যে লাউ সেই কদু।’
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment