ুভার বাবার মতো একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে ২১৩ জনকে। সড়ক থেকে প্রকাশ্যে তুলে নেওয়ার পর খোঁজ মেলেনি বিএনপির নেতা চৌধুরী আলম, ইলিয়াস আলীসহ অনেকের। বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলছে, গত চার বছর পাঁচ মাসে (২০১০ সাল থেকে) ২৯১ জনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের মধ্যে ৫৪ জনের লাশ পাওয়া গেছে। ২৪ জন ছাড়া পেয়েছেন অথবা থানা হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। ২১৩ জন এখনো নিখোঁজ। তবে ২১৩ জন গুম হওয়ার এই পরিসংখ্যানের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তাঁর মতে, অনেকে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে গেলে সেটি গুম হিসেবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি আগে ভাবতাম গুম কেন হয়। এখন দায়িত্বে এসে দেখছি, অনেক কারণেই হয়। ধরেন, কেউ অনেক টাকা দেনাদার হলে তিনি গুম হয়ে যান। সম্প্রতি একটি স্কুলের নারী শিক্ষককে গুম করা হয়েছে বলে তাঁর স্বজনেরা আমার কাছে আসেন। আমি সব জায়গায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ১৫ বছর আগের পুরোনো প্রেমিকের সঙ্গে চলে গেছেন তিনি। অথচ তাঁর ছোট ছোট বাচ্চা রয়েছে। পত্রিকায় এগুলো গুম হিসেবে ছাপা হয়। আমরা দেখেছি, গুমের যেসব পরিসংখ্যান ছাপা হয়, তার ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ঠিক নয়। দু-একটা যে এ রকম ঘটনা ঘটে না, তা নয়। কিন্তু অঙ্কটা এ রকম বড় নয়।’ চৌধুরী আলম ও ইলিয়াস আলীর গুমের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আবারও বলার চেষ্টা করছি, অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুম হয়ে যায়। তবে চৌধুরী আলম ও ইলিয়াসের ঘটনাটা আমার দায়িত্ব নেওয়ার আগে ঘটেছে। না জেনে এসব বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়। আমি এটুকু বলব, এগুলোর পেছনে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে।’ তিনি বলেন, যে দু-একটি ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলছে। সরকার এগুলো রোধ করার চেষ্টা করছে। ক্ষমতার বদলে অবস্থান বদল: বিএনপির আমল (২০০১ থেকে ২০০৬) থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ করে র্যা বের হাতে ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে বিনা বিচারে মানুষ হত্যার বিষয়টি সমালোচিত হতে থাকে। মাঝে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরে এই ধারা কিছুটা কমে যায়। ২০০৯ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের কথা বলে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ তো বন্ধ হয়নি, সঙ্গে যোগ হয়েছে ‘গুম-গুপ্তহত্যা’। অথচ বিরোধী দলে থাকার সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিপক্ষে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়েছেন। ২০০৫ সালের ৩ জুন ধানমন্ডির নিজ বাসভবন সুধা সদনে আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী র্যা বকে দিয়ে বিনা বিচারে মানুষ মারছেন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ইশতেহারেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। তবে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ তা করেনি। সর্বশেষ ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহার থেকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’র প্রসঙ্গটি বাদই পড়ে যায়। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সরকারে থাকা বিএনপি ওই সময় ক্রসফায়ারকে সমর্থন করে গেলেও এখন তারা উল্টো কথা বলছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এক মাসে ২৪২ নেতা-কর্মী খুন ও ৬০ জন গুম হয়েছেন। যদিও সেই খুন ও গুম হওয়া নেতা-কর্মীদের তালিকা তিনি দিতে পারেননি। ‘ক্রসফায়ার-গুপ্তহত্যা’র কমা-বাড়া: আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে, বিএনপির আমলে ২০০৪ সালে ২১০ জন, ২০০৫ সালে ৩৭৭, ২০০৬ সালে ৩৬২ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালে ১৮০ ও ২০০৮ সালে ১৭৫ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০০৯ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২২৯। পরের বছরগুলোতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অর্থাৎ ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনাগুলো কমলেও বেড়ে যায় গুম-গুপ্তহত্যার মতো ঘটনা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধরে নিয়ে যাওয়ার (পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী) পর গুম করে দেওয়া বা লাশ ফেলে রাখার মতো ঘটনা বাড়তে থাকে। আসকের হিসাবে ২০১০ সালে ১৩৩ জন ‘ক্রসফায়ার’, গুলি ও হেফাজতে নিহত হন। একই বছর ৪৪ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার হন। তাঁদের মধ্যে পরে ছয়জনের লাশ মেলে, সাতজনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। অন্যরা এখনো নিখোঁজ। ২০১১ সালে ১০০ জন ক্রসফায়ার ও হেফাজতে নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ৫৯ জনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। যার মধ্যে পরে ১৬ জনের লাশ পাওয়া যায়, চারজনকে থানা হেফাজতে দেওয়া হয়। অন্যরা এখনো নিখোঁজ। ২০১২ সালে ক্রসফায়ার ও হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসে ৯১-এ। এ সময় ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ৫৬ জনকে, লাশ মেলে চারজনের। ২০১৩ সালে এবং চলতি বছরের প্রথম কয়েক দিন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সহিংসতা মাত্রা ছাড়ায়। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতাল-অবরোধের সময় বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চরম আকার ধারণ করে। আসকের হিসাবে ২০১৩ সালজুড়ে এসব রাজনৈতিক সংঘাতে মোট ৫০৭ জন নিহত এবং প্রায় সাড়ে ২২ হাজার মানুষ আহত হন। ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংস পরিস্থিতিতে একই সঙ্গে বেড়েছে ক্রসফায়ার, গুলিতে মৃত্যু, হেফাজতে মৃত্যু। বেড়েছে গুম ও গুপ্তহত্যার অভিযোগও। এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ২০৮ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছোড়া গুলিতে ১৩৭ জন মারা গেছেন। এই সময়ে ৫৮ জনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই হিসাবও আসক থেকে পাওয়া। চলতি বছরের ২৯ মে পর্যন্ত ৭৪ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। এর মধ্যে ২৩ জনের লাশ পাওয়া গেছে, আটজনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যরা এখনো নিখোঁজ। আর চলতি বছরের ২১ আগস্ট পর্যন্ত ৯৫ জন কথিত ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।
Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Saturday, August 30, 2014
সাড়ে চার বছরে ২১৩ নিখোঁজ:প্রথম অালো
ুভার বাবার মতো একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে ২১৩ জনকে। সড়ক থেকে প্রকাশ্যে তুলে নেওয়ার পর খোঁজ মেলেনি বিএনপির নেতা চৌধুরী আলম, ইলিয়াস আলীসহ অনেকের। বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলছে, গত চার বছর পাঁচ মাসে (২০১০ সাল থেকে) ২৯১ জনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের মধ্যে ৫৪ জনের লাশ পাওয়া গেছে। ২৪ জন ছাড়া পেয়েছেন অথবা থানা হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। ২১৩ জন এখনো নিখোঁজ। তবে ২১৩ জন গুম হওয়ার এই পরিসংখ্যানের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তাঁর মতে, অনেকে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে গেলে সেটি গুম হিসেবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি আগে ভাবতাম গুম কেন হয়। এখন দায়িত্বে এসে দেখছি, অনেক কারণেই হয়। ধরেন, কেউ অনেক টাকা দেনাদার হলে তিনি গুম হয়ে যান। সম্প্রতি একটি স্কুলের নারী শিক্ষককে গুম করা হয়েছে বলে তাঁর স্বজনেরা আমার কাছে আসেন। আমি সব জায়গায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ১৫ বছর আগের পুরোনো প্রেমিকের সঙ্গে চলে গেছেন তিনি। অথচ তাঁর ছোট ছোট বাচ্চা রয়েছে। পত্রিকায় এগুলো গুম হিসেবে ছাপা হয়। আমরা দেখেছি, গুমের যেসব পরিসংখ্যান ছাপা হয়, তার ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ঠিক নয়। দু-একটা যে এ রকম ঘটনা ঘটে না, তা নয়। কিন্তু অঙ্কটা এ রকম বড় নয়।’ চৌধুরী আলম ও ইলিয়াস আলীর গুমের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আবারও বলার চেষ্টা করছি, অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুম হয়ে যায়। তবে চৌধুরী আলম ও ইলিয়াসের ঘটনাটা আমার দায়িত্ব নেওয়ার আগে ঘটেছে। না জেনে এসব বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়। আমি এটুকু বলব, এগুলোর পেছনে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে।’ তিনি বলেন, যে দু-একটি ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলছে। সরকার এগুলো রোধ করার চেষ্টা করছে। ক্ষমতার বদলে অবস্থান বদল: বিএনপির আমল (২০০১ থেকে ২০০৬) থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ করে র্যা বের হাতে ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে বিনা বিচারে মানুষ হত্যার বিষয়টি সমালোচিত হতে থাকে। মাঝে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরে এই ধারা কিছুটা কমে যায়। ২০০৯ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের কথা বলে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ তো বন্ধ হয়নি, সঙ্গে যোগ হয়েছে ‘গুম-গুপ্তহত্যা’। অথচ বিরোধী দলে থাকার সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিপক্ষে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়েছেন। ২০০৫ সালের ৩ জুন ধানমন্ডির নিজ বাসভবন সুধা সদনে আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী র্যা বকে দিয়ে বিনা বিচারে মানুষ মারছেন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ইশতেহারেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। তবে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ তা করেনি। সর্বশেষ ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহার থেকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’র প্রসঙ্গটি বাদই পড়ে যায়। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সরকারে থাকা বিএনপি ওই সময় ক্রসফায়ারকে সমর্থন করে গেলেও এখন তারা উল্টো কথা বলছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এক মাসে ২৪২ নেতা-কর্মী খুন ও ৬০ জন গুম হয়েছেন। যদিও সেই খুন ও গুম হওয়া নেতা-কর্মীদের তালিকা তিনি দিতে পারেননি। ‘ক্রসফায়ার-গুপ্তহত্যা’র কমা-বাড়া: আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে, বিএনপির আমলে ২০০৪ সালে ২১০ জন, ২০০৫ সালে ৩৭৭, ২০০৬ সালে ৩৬২ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালে ১৮০ ও ২০০৮ সালে ১৭৫ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০০৯ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২২৯। পরের বছরগুলোতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অর্থাৎ ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনাগুলো কমলেও বেড়ে যায় গুম-গুপ্তহত্যার মতো ঘটনা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধরে নিয়ে যাওয়ার (পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী) পর গুম করে দেওয়া বা লাশ ফেলে রাখার মতো ঘটনা বাড়তে থাকে। আসকের হিসাবে ২০১০ সালে ১৩৩ জন ‘ক্রসফায়ার’, গুলি ও হেফাজতে নিহত হন। একই বছর ৪৪ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার হন। তাঁদের মধ্যে পরে ছয়জনের লাশ মেলে, সাতজনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। অন্যরা এখনো নিখোঁজ। ২০১১ সালে ১০০ জন ক্রসফায়ার ও হেফাজতে নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ৫৯ জনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। যার মধ্যে পরে ১৬ জনের লাশ পাওয়া যায়, চারজনকে থানা হেফাজতে দেওয়া হয়। অন্যরা এখনো নিখোঁজ। ২০১২ সালে ক্রসফায়ার ও হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসে ৯১-এ। এ সময় ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ৫৬ জনকে, লাশ মেলে চারজনের। ২০১৩ সালে এবং চলতি বছরের প্রথম কয়েক দিন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সহিংসতা মাত্রা ছাড়ায়। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতাল-অবরোধের সময় বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চরম আকার ধারণ করে। আসকের হিসাবে ২০১৩ সালজুড়ে এসব রাজনৈতিক সংঘাতে মোট ৫০৭ জন নিহত এবং প্রায় সাড়ে ২২ হাজার মানুষ আহত হন। ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংস পরিস্থিতিতে একই সঙ্গে বেড়েছে ক্রসফায়ার, গুলিতে মৃত্যু, হেফাজতে মৃত্যু। বেড়েছে গুম ও গুপ্তহত্যার অভিযোগও। এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ২০৮ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছোড়া গুলিতে ১৩৭ জন মারা গেছেন। এই সময়ে ৫৮ জনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই হিসাবও আসক থেকে পাওয়া। চলতি বছরের ২৯ মে পর্যন্ত ৭৪ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। এর মধ্যে ২৩ জনের লাশ পাওয়া গেছে, আটজনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যরা এখনো নিখোঁজ। আর চলতি বছরের ২১ আগস্ট পর্যন্ত ৯৫ জন কথিত ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment