া স্বীকার করেনি। তবে পুলিশ বলছে, ইতোমধ্যে এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এ দিকে ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছে কালা বাবু ও তার পরিবারের সদস্যরা। নিহত রানু বেগম ওরফে বৃষ্টির পরিবার বলছে চাঁদা না দেয়ার কারণে কালা বাবু এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে পুলিশ ও এলাকাবাসী বলছে, শুধু চাঁদা নয়, নিহত বৃষ্টির ভাই কালা চানের সাথে সন্ত্রাসী কালা বাবুর দ্বন্দ্বের জের ধরে এই ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ নিহত কালা চানও একজন সন্ত্রাসী। রেলওয়ের জমি দখলকে কেন্দ্র করেই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। পুলিশের মতে, চাঁদা দাবির আড়ালে মূলত তাদের বিরোধই কাজ করেছে। অভিযুক্ত কালা বাবুর বিরুদ্ধেও থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। যেভাবে হত্যাকাণ্ড : সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মগবাজার সোনালীবাগের একটি প্লটে ৭৮, ৭৮/১, ৭৮/২ ও ৭৯ নম্বর চারটি ভবন। ভবনগুলো দুই লাইনে একটি সামনে ও একটি পেছনে। এসব ভবন এতটাই কাছাকাছি যে এর মাঝ দিয়ে একজন মানুষ কোনোভাবে যাওয়া-আসা করতে পারে। এই ভবন চারটির মালিক সন্ত্রাসী কালা বাবুর বাবা ও তার তিন চাচা। ভবনগুলোর সামনে রয়েছে সোনালীবাগ জামে মসজিদ ও হাফেজি কমপ্লেক্স মাদরাসা। কালা বাবুর এক চাচার বাড়ি ঘেঁষে রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। ওই জমি দখল করে বাবুর পরিবার চার রুমের একটি টিনশেড বাড়ি তৈরি করে। এ দিকে নিহত বৃষ্টি তার স্বামী, দুই সন্তান ও ভাইবোনদের নিয়ে কালা বাবুর এক চাচার (ওই চার বাড়ির একটিতে) তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। পাশাপাশি পাশের টিসিএম শিশু নীড় নামক একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। বৃষ্টিরা ওই বাড়িতে থাকলেও ভাই কালা চান সেখানে থাকত না। মাঝে মধ্যে আসা-যাওয়া করত। কালা চান মগবাজারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারলেও মালিবাগের বিভিন্ন এলাকা ও বস্তি নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানা গেছে। ওই বাড়িতে দীর্ঘ দিন থাকার পর কালা চান ও বৃষ্টি দুই ভাইবোন কালা বাবুদের দখলে থাকা রেলওয়ের জমিতে নির্মিত বাড়িটি কিনতে চায়। একপর্যায়ে গত কয়েক মাস আগে কালা বাবুর পরিবার ওই ঘরটি বৃষ্টি ও কালা চানের কাছে বিক্রি করে। এর পর থেকে বৃষ্টির ছোট ভাই হৃদয় ওই টিনশেড বাড়ির এক রুমে থাকতে শুরু করে। বাকি তিন রুম ভাড়া নেয় গুলিতে নিহত মুন্না ও বিল্লালসহ আরো কয়েকজন। প্রতিবেশীরা জানান, বৃষ্টি বাড়িটি কেনার পর থেকে কালা বাবু তার কাছে নতুন বাড়ি কিনছো সে হিসেবে চাঁদা দাবি করে। কিন্তু বৃষ্টি তাকে বলে ‘বাড়ি কিনেছি তোমাদের কাছ থেকে। আবার তোমাকে চাঁদা দেবো কেন?। বাড়ি কেনা আর চাঁদার টাকা এক নয়। চাঁদার টাকা দিতে হবে বলে জানিয়ে দেয় কালা বাবু। বিষয়টি বৃষ্টি তার ভাই কালা চানকে জানালে শুরু হয় কালা বাবু ও কালা চানের দ্বন্দ্ব। এর পর থেকে বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এর মধ্যে কালা বাবু ওই বাড়ি ভেঙে ফেলার জন্য হুমকি দেয়। কিন্তু কালা চানের কারণে তা পারেনি। একপর্যায়ে বাবু গত দুই মাস আগে ওই বাড়ির সামনে গিয়ে গুলি করে। এই ঘটনায় বৃষ্টি বাদি হয়ে রমনা থানায় মামলা করেন। কিন্তু পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। প্রতিবেশীরা আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে সম্প্রতি কালা বাবু ও কালা চানের দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছিল। আবার বাবু চাঁদার টাকাও পাচ্ছিল না। যার কারণে বাবু কালা চানকে শিক্ষা দিতে এই ঘটনা ঘটাতে পারে। সূত্র জানায়, ঘটনার সময় বাবু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী প্রথমে তিনতলায় বৃষ্টির বাসায় হামলা চালায়। সেখানে বৃষ্টিকে গুলি করে। এরপর নিচে ওই টিনশেড বাড়িতে হামলা চালায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয় বৃষ্টির ছোট ভাই হৃদয় ও দুই ভাড়াটিয়া মুন্না ও বিল্লাল। পুলিশ বলছে, শুধু চাঁদাবাজি নয় রেলওয়ের ওই জমি প্রথমে কালা বাবুদের দখলে ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেটি কাল চান দখলে নেয়। এই নিয়ে তাদের দু’জনের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ভয়ঙ্কর কালা বাবু : কালা বাবু এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার ভয়ে এলাকায় কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। মগবাজার, ওয়ারলেস গেট, চামেলীবাগ, পেয়রাবাগ, সোনালীবাগ, মালিবাগসহ আশপাশের এলাকার মানুষ তার ভয়ে তটস্থ থাকে। এসব এলাকার ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিতভাবে চাঁদা নিয়ে থাকে কালা বাবু ও তার চাচাতো ভাই রনি। গতকাল রানু বেগম ওরফে বৃষ্টির বাসায় ভিড় করছিলেন এলাকার শত শত নারী-পুরুষ। তারা সবাই কালা বাবুকে খুব ভালো করে চেনেন। এই হত্যাকাণ্ড কালা বাবুর নেতৃত্বে ঘটেছে সেটাও জানেন। কিন্তু কেউ মুখ খুলতে চান না। প্রতিবেশীদের কাছে জানতে গেলে ভয়ে বলেন ‘আমরা কিছু জানি না’। তবে একজন প্রতিবেশী নারী বলেন, কালা বাবু ও তার চাচতো ভাই রনির যন্ত্রণায় গোটা এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। তিনি বলেন, সোনালীবাগে তার একটি দোকান রয়েছে। ওই দোকান থেকে কালা বাবু নিয়মিত চাঁদা নিয়ে থাকে। তারাও দেন। কিন্তু কয়েক দিন আগে চাঁদার টাকা দিতে দেরি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবু তার দলবল মুহূর্তের মধ্যে দোকানটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। চোখের সামনে দোকান ভাঙচুর করলেও তাদের কিছুই বলতে পারেন না তার স্বামী ও ছেলেরা। অপর একজন বলেন, কালা বাবু সব সময় এলাকায় থাকে না। মোবাইলে চাঁদা দাবি করে। বিকাশের মাধ্যমে টাকা নেয়। তবে বড় বড় ঘটনা ঘটলে সদলবলে এলাকায় চলে আসে। ওই সূত্র আরো জানায়, কালা বাবু যখন এলাকায় আসে তখন প্রথমে অন্য কেউ বুঝতে পারে না। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আসে। আবার দ্রুতগতিতে কাজ শেষ করে মুহূর্তের মধ্যে চলে যায়। পরে তার করা ধ্বংসযজ্ঞ দেখে মানুষ বুঝতে পারে কালু বাবু এসেছিল। সূত্র জানায়, কালা বাবু এতটাই ভয়ঙ্কর যে তুচ্ছ ঘটনায় মানুষ খুন করা তার জন্য কোনো ব্যাপার নয়। তার প্রমাণ এই ট্রিপল মার্ডার। হত্যাযজ্ঞ চালাবে বলে সে পরিকল্পিতভাবে তার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে আসে। সে জানে যে বৃষ্টি তিনতলায় ও তার ভাই হৃদয় নিচে থাকে। যার কারণে প্রথমে তিনতলায় গিয়ে বৃষ্টিকে গুলি করে। এরপর নিচে এসে হৃদয়ের রুমে গিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে চলে যায়। নিহত মুন্না ও বেলাল : গুলিতে নিহত বিল্লাল হোসেন (২৫) মৌচাক মার্কেটের পেছনে আনারকলি মার্কেটে কসমেটিসের ব্যবসায় করতেন। তার বাবার নাম এরশাদ আলী মিয়া। তার গ্রামের বাড়ি বি.বাড়িয়া জেলার নবীনগরে। নিহত মুন্না (২২) মগবাজারের একটি ফলের দোকানে কাজ করতেন। তার বাবার নাম রফিকুল ইসলাম। তার গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার শেরপুরে। ময়নাতদন্ত শেষে দু’জনের লাশ তার পরিবারের সদস্যরা নিয়ে যান। তারা দু’জনই ওই টিনশেড বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পুলিশের বক্তব্য : পুলিশের রমনা জোনের ডিসি ইকবাল হোসেন গতকাল জানান, রেলের জমি দখল নিয়ে বিরোধ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদকব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মগবাজারের সোনালীবাগে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি। সন্ত্রাসী কালা বাবু ও তার সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। কালা বাবুকে গ্রেফতার করতে পারলে খুনের ঘটনা পরিষ্কার হবে। তিনি আরো বলেন, তিন খুনের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। সন্ত্রাসী কালা বাবুর দুই চাচী চম্পা বেগম ও চায়না বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ফারুকের বিষয় সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি-ডিসি) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, মগবাজারের ট্রিপল মার্ডারের ঘটনাটি থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। রেলের জমি দখলের বিরোধ থেকে সন্ত্রাসী কালা বাবু ও তার সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। এ দিকে রমনা থানার ডিউটি অফিসার মিজান জানান, গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত থানায় কেউ মামলা করতে আসেনি। লাশ দাফনের পর হয়তো মামলা করতে আসতে পারেন। ঢামেক হাসপাতাল : তিন লাশের ময়নাতদন্ত করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহাকারী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ। তিনি জানান, নিহত তিনজনই বুলেট ইনজুরি। তাদের মধ্যে মুন্নার বাম বুকে ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। রানু আক্তার বৃষ্টিকে দু’টি গুলি করা হয়। একটি গুলি ডান হাত ফুটো হয়ে বুকে আঘাত করে বের হয়ে যায়। অন্য গুলিটি বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হয়ে পেট দিয়ে বের হয়ে যায়। এ ছাড়া বেলাল হোসেনের পেটের ওপরে গুলি বিদ্ধ হয়ে মেরুদণ্ডে আটকে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রত্যেককে রিভলবার দিয়ে গুলি করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন রমনা থানার এসআই হুমায়ুন কবির। হাসপাতাল সূত্র আরো জানায়, ময়নাতদন্ত শেষে লাশগুলো তার স্বজনেরা নিয়ে গেছেন। অপর দিকে আহত হৃদয়ের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Saturday, August 30, 2014
চাঁদার আড়ালে কালা বাবু-কালা চান দ্বন্দ্ব:নয়াদিগন্ত
া স্বীকার করেনি। তবে পুলিশ বলছে, ইতোমধ্যে এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এ দিকে ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছে কালা বাবু ও তার পরিবারের সদস্যরা। নিহত রানু বেগম ওরফে বৃষ্টির পরিবার বলছে চাঁদা না দেয়ার কারণে কালা বাবু এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে পুলিশ ও এলাকাবাসী বলছে, শুধু চাঁদা নয়, নিহত বৃষ্টির ভাই কালা চানের সাথে সন্ত্রাসী কালা বাবুর দ্বন্দ্বের জের ধরে এই ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ নিহত কালা চানও একজন সন্ত্রাসী। রেলওয়ের জমি দখলকে কেন্দ্র করেই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। পুলিশের মতে, চাঁদা দাবির আড়ালে মূলত তাদের বিরোধই কাজ করেছে। অভিযুক্ত কালা বাবুর বিরুদ্ধেও থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। যেভাবে হত্যাকাণ্ড : সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মগবাজার সোনালীবাগের একটি প্লটে ৭৮, ৭৮/১, ৭৮/২ ও ৭৯ নম্বর চারটি ভবন। ভবনগুলো দুই লাইনে একটি সামনে ও একটি পেছনে। এসব ভবন এতটাই কাছাকাছি যে এর মাঝ দিয়ে একজন মানুষ কোনোভাবে যাওয়া-আসা করতে পারে। এই ভবন চারটির মালিক সন্ত্রাসী কালা বাবুর বাবা ও তার তিন চাচা। ভবনগুলোর সামনে রয়েছে সোনালীবাগ জামে মসজিদ ও হাফেজি কমপ্লেক্স মাদরাসা। কালা বাবুর এক চাচার বাড়ি ঘেঁষে রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। ওই জমি দখল করে বাবুর পরিবার চার রুমের একটি টিনশেড বাড়ি তৈরি করে। এ দিকে নিহত বৃষ্টি তার স্বামী, দুই সন্তান ও ভাইবোনদের নিয়ে কালা বাবুর এক চাচার (ওই চার বাড়ির একটিতে) তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। পাশাপাশি পাশের টিসিএম শিশু নীড় নামক একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। বৃষ্টিরা ওই বাড়িতে থাকলেও ভাই কালা চান সেখানে থাকত না। মাঝে মধ্যে আসা-যাওয়া করত। কালা চান মগবাজারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারলেও মালিবাগের বিভিন্ন এলাকা ও বস্তি নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানা গেছে। ওই বাড়িতে দীর্ঘ দিন থাকার পর কালা চান ও বৃষ্টি দুই ভাইবোন কালা বাবুদের দখলে থাকা রেলওয়ের জমিতে নির্মিত বাড়িটি কিনতে চায়। একপর্যায়ে গত কয়েক মাস আগে কালা বাবুর পরিবার ওই ঘরটি বৃষ্টি ও কালা চানের কাছে বিক্রি করে। এর পর থেকে বৃষ্টির ছোট ভাই হৃদয় ওই টিনশেড বাড়ির এক রুমে থাকতে শুরু করে। বাকি তিন রুম ভাড়া নেয় গুলিতে নিহত মুন্না ও বিল্লালসহ আরো কয়েকজন। প্রতিবেশীরা জানান, বৃষ্টি বাড়িটি কেনার পর থেকে কালা বাবু তার কাছে নতুন বাড়ি কিনছো সে হিসেবে চাঁদা দাবি করে। কিন্তু বৃষ্টি তাকে বলে ‘বাড়ি কিনেছি তোমাদের কাছ থেকে। আবার তোমাকে চাঁদা দেবো কেন?। বাড়ি কেনা আর চাঁদার টাকা এক নয়। চাঁদার টাকা দিতে হবে বলে জানিয়ে দেয় কালা বাবু। বিষয়টি বৃষ্টি তার ভাই কালা চানকে জানালে শুরু হয় কালা বাবু ও কালা চানের দ্বন্দ্ব। এর পর থেকে বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এর মধ্যে কালা বাবু ওই বাড়ি ভেঙে ফেলার জন্য হুমকি দেয়। কিন্তু কালা চানের কারণে তা পারেনি। একপর্যায়ে বাবু গত দুই মাস আগে ওই বাড়ির সামনে গিয়ে গুলি করে। এই ঘটনায় বৃষ্টি বাদি হয়ে রমনা থানায় মামলা করেন। কিন্তু পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। প্রতিবেশীরা আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে সম্প্রতি কালা বাবু ও কালা চানের দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছিল। আবার বাবু চাঁদার টাকাও পাচ্ছিল না। যার কারণে বাবু কালা চানকে শিক্ষা দিতে এই ঘটনা ঘটাতে পারে। সূত্র জানায়, ঘটনার সময় বাবু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী প্রথমে তিনতলায় বৃষ্টির বাসায় হামলা চালায়। সেখানে বৃষ্টিকে গুলি করে। এরপর নিচে ওই টিনশেড বাড়িতে হামলা চালায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয় বৃষ্টির ছোট ভাই হৃদয় ও দুই ভাড়াটিয়া মুন্না ও বিল্লাল। পুলিশ বলছে, শুধু চাঁদাবাজি নয় রেলওয়ের ওই জমি প্রথমে কালা বাবুদের দখলে ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেটি কাল চান দখলে নেয়। এই নিয়ে তাদের দু’জনের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ভয়ঙ্কর কালা বাবু : কালা বাবু এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার ভয়ে এলাকায় কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। মগবাজার, ওয়ারলেস গেট, চামেলীবাগ, পেয়রাবাগ, সোনালীবাগ, মালিবাগসহ আশপাশের এলাকার মানুষ তার ভয়ে তটস্থ থাকে। এসব এলাকার ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিতভাবে চাঁদা নিয়ে থাকে কালা বাবু ও তার চাচাতো ভাই রনি। গতকাল রানু বেগম ওরফে বৃষ্টির বাসায় ভিড় করছিলেন এলাকার শত শত নারী-পুরুষ। তারা সবাই কালা বাবুকে খুব ভালো করে চেনেন। এই হত্যাকাণ্ড কালা বাবুর নেতৃত্বে ঘটেছে সেটাও জানেন। কিন্তু কেউ মুখ খুলতে চান না। প্রতিবেশীদের কাছে জানতে গেলে ভয়ে বলেন ‘আমরা কিছু জানি না’। তবে একজন প্রতিবেশী নারী বলেন, কালা বাবু ও তার চাচতো ভাই রনির যন্ত্রণায় গোটা এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। তিনি বলেন, সোনালীবাগে তার একটি দোকান রয়েছে। ওই দোকান থেকে কালা বাবু নিয়মিত চাঁদা নিয়ে থাকে। তারাও দেন। কিন্তু কয়েক দিন আগে চাঁদার টাকা দিতে দেরি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবু তার দলবল মুহূর্তের মধ্যে দোকানটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। চোখের সামনে দোকান ভাঙচুর করলেও তাদের কিছুই বলতে পারেন না তার স্বামী ও ছেলেরা। অপর একজন বলেন, কালা বাবু সব সময় এলাকায় থাকে না। মোবাইলে চাঁদা দাবি করে। বিকাশের মাধ্যমে টাকা নেয়। তবে বড় বড় ঘটনা ঘটলে সদলবলে এলাকায় চলে আসে। ওই সূত্র আরো জানায়, কালা বাবু যখন এলাকায় আসে তখন প্রথমে অন্য কেউ বুঝতে পারে না। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আসে। আবার দ্রুতগতিতে কাজ শেষ করে মুহূর্তের মধ্যে চলে যায়। পরে তার করা ধ্বংসযজ্ঞ দেখে মানুষ বুঝতে পারে কালু বাবু এসেছিল। সূত্র জানায়, কালা বাবু এতটাই ভয়ঙ্কর যে তুচ্ছ ঘটনায় মানুষ খুন করা তার জন্য কোনো ব্যাপার নয়। তার প্রমাণ এই ট্রিপল মার্ডার। হত্যাযজ্ঞ চালাবে বলে সে পরিকল্পিতভাবে তার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে আসে। সে জানে যে বৃষ্টি তিনতলায় ও তার ভাই হৃদয় নিচে থাকে। যার কারণে প্রথমে তিনতলায় গিয়ে বৃষ্টিকে গুলি করে। এরপর নিচে এসে হৃদয়ের রুমে গিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে চলে যায়। নিহত মুন্না ও বেলাল : গুলিতে নিহত বিল্লাল হোসেন (২৫) মৌচাক মার্কেটের পেছনে আনারকলি মার্কেটে কসমেটিসের ব্যবসায় করতেন। তার বাবার নাম এরশাদ আলী মিয়া। তার গ্রামের বাড়ি বি.বাড়িয়া জেলার নবীনগরে। নিহত মুন্না (২২) মগবাজারের একটি ফলের দোকানে কাজ করতেন। তার বাবার নাম রফিকুল ইসলাম। তার গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার শেরপুরে। ময়নাতদন্ত শেষে দু’জনের লাশ তার পরিবারের সদস্যরা নিয়ে যান। তারা দু’জনই ওই টিনশেড বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পুলিশের বক্তব্য : পুলিশের রমনা জোনের ডিসি ইকবাল হোসেন গতকাল জানান, রেলের জমি দখল নিয়ে বিরোধ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদকব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মগবাজারের সোনালীবাগে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি। সন্ত্রাসী কালা বাবু ও তার সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। কালা বাবুকে গ্রেফতার করতে পারলে খুনের ঘটনা পরিষ্কার হবে। তিনি আরো বলেন, তিন খুনের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। সন্ত্রাসী কালা বাবুর দুই চাচী চম্পা বেগম ও চায়না বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ফারুকের বিষয় সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি-ডিসি) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, মগবাজারের ট্রিপল মার্ডারের ঘটনাটি থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। রেলের জমি দখলের বিরোধ থেকে সন্ত্রাসী কালা বাবু ও তার সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। এ দিকে রমনা থানার ডিউটি অফিসার মিজান জানান, গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত থানায় কেউ মামলা করতে আসেনি। লাশ দাফনের পর হয়তো মামলা করতে আসতে পারেন। ঢামেক হাসপাতাল : তিন লাশের ময়নাতদন্ত করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহাকারী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ। তিনি জানান, নিহত তিনজনই বুলেট ইনজুরি। তাদের মধ্যে মুন্নার বাম বুকে ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। রানু আক্তার বৃষ্টিকে দু’টি গুলি করা হয়। একটি গুলি ডান হাত ফুটো হয়ে বুকে আঘাত করে বের হয়ে যায়। অন্য গুলিটি বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হয়ে পেট দিয়ে বের হয়ে যায়। এ ছাড়া বেলাল হোসেনের পেটের ওপরে গুলি বিদ্ধ হয়ে মেরুদণ্ডে আটকে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রত্যেককে রিভলবার দিয়ে গুলি করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন রমনা থানার এসআই হুমায়ুন কবির। হাসপাতাল সূত্র আরো জানায়, ময়নাতদন্ত শেষে লাশগুলো তার স্বজনেরা নিয়ে গেছেন। অপর দিকে আহত হৃদয়ের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment