গ্রামের রাউজান থানার দায়িত্বে ছিলেন। এ মামলার আলামত গোপন করার অভিযোগে মামলাটি করেছিলেন মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক (তদন্ত) এলিনা খান। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও প্রধান নির্বাহী। ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর রাউজানে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়। এ মামলায় আসামি করা হয় রাউজান থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার মজুমদার এবং তিন কনস্টেবল সাদেক আলী, আবুল বাশার ও গৌর চন্দ্রকে। চার আসামি ১৯৯৭ সালের ১৩ জুলাই খালাস পান। আদালত সূত্র জানায়, ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণার সময় চট্টগ্রামের তৎকালীন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত উল্লাহ ৫৩ পৃষ্ঠার রায়ে পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি তুলে ধরেন। পর্যবেক্ষণে তিনি বলেছিলেন, ‘এটি পরিষ্কার যে এই মামলায় তদন্তকালে অত্যাবশ্যকীয় তথ্যাদি সংগ্রহের পরিবর্তে কতক তৈরি তথ্যের ভিত্তিতে আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণে মামলা প্রমাণের চেষ্টার একটি মহড়া সরকারপক্ষ করেছে মাত্র।’ ধর্ষণ মামলার আলামত গায়েব করার অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এতে আসামি করা হয় রাউজান থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইকবাল হোসেন, সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার হাফিজ উদ্দিন দেওয়ান ও রাউজান থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলামকে। ধর্ষণ মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন ইকবাল হোসেন। আদালত সূত্র জানায়, যেহেতু আসামিরা সরকারি কর্মকর্তা, তাই এটি অনুমোদনের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ১৯৯৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মামলাটির অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে সরকার পরিবর্তনের পর ওসি সিরাজুল ইসলাম মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের তৎকালীন সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২০০২ সালের ২৩ জুন সিরাজুল ইসলামকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। ধর্ষণের ঘটনার আলামত গোপন করা মামলার বাদী এলিনা খান গতকাল সোমবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলামকে সীমা ধর্ষণ ঘটনার আলামত গোপন করার মামলায় অন্তর্ভুক্ত করতে আমি পরে হাইকোর্টে রিভিশন মামলা করেছি। রিভিশনের অংশবিশেষ শুনানি হয়েছে। বাকি অংশ শুনানির পর আমরা উচ্চ আদালতের আদেশ পাব।’ ওসি সিরাজুল ইসলাম গতকাল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই ধর্ষণ মামলার তদন্তে দুর্বলতার অভিযোগ ছিল বলে আমাকে আসামি করা হয়। সেই মামলা থেকে আমি অব্যাহতি পেয়েছি।’ এ বিষয়ে এলিনা খান বলেন, ‘একটি ঘটনা থেকে প্রভাব খাটিয়ে আপাতত পার পেয়ে গেছেন বলে অন্য ঘটনাগুলো সিরাজুল ইসলামের কাছে তুচ্ছ ব্যাপার। তিনি এখন শাহবাগ থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ওসির দায়িত্ব পালন করছেন।’
Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Tuesday, April 21, 2015
আলামত গোপনের আসামি ছিলেন শাহবাগের ওসি:প্রথম অালো
গ্রামের রাউজান থানার দায়িত্বে ছিলেন। এ মামলার আলামত গোপন করার অভিযোগে মামলাটি করেছিলেন মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক (তদন্ত) এলিনা খান। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও প্রধান নির্বাহী। ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর রাউজানে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়। এ মামলায় আসামি করা হয় রাউজান থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার মজুমদার এবং তিন কনস্টেবল সাদেক আলী, আবুল বাশার ও গৌর চন্দ্রকে। চার আসামি ১৯৯৭ সালের ১৩ জুলাই খালাস পান। আদালত সূত্র জানায়, ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণার সময় চট্টগ্রামের তৎকালীন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত উল্লাহ ৫৩ পৃষ্ঠার রায়ে পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি তুলে ধরেন। পর্যবেক্ষণে তিনি বলেছিলেন, ‘এটি পরিষ্কার যে এই মামলায় তদন্তকালে অত্যাবশ্যকীয় তথ্যাদি সংগ্রহের পরিবর্তে কতক তৈরি তথ্যের ভিত্তিতে আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণে মামলা প্রমাণের চেষ্টার একটি মহড়া সরকারপক্ষ করেছে মাত্র।’ ধর্ষণ মামলার আলামত গায়েব করার অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এতে আসামি করা হয় রাউজান থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইকবাল হোসেন, সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার হাফিজ উদ্দিন দেওয়ান ও রাউজান থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলামকে। ধর্ষণ মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন ইকবাল হোসেন। আদালত সূত্র জানায়, যেহেতু আসামিরা সরকারি কর্মকর্তা, তাই এটি অনুমোদনের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ১৯৯৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মামলাটির অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে সরকার পরিবর্তনের পর ওসি সিরাজুল ইসলাম মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের তৎকালীন সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২০০২ সালের ২৩ জুন সিরাজুল ইসলামকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। ধর্ষণের ঘটনার আলামত গোপন করা মামলার বাদী এলিনা খান গতকাল সোমবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলামকে সীমা ধর্ষণ ঘটনার আলামত গোপন করার মামলায় অন্তর্ভুক্ত করতে আমি পরে হাইকোর্টে রিভিশন মামলা করেছি। রিভিশনের অংশবিশেষ শুনানি হয়েছে। বাকি অংশ শুনানির পর আমরা উচ্চ আদালতের আদেশ পাব।’ ওসি সিরাজুল ইসলাম গতকাল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই ধর্ষণ মামলার তদন্তে দুর্বলতার অভিযোগ ছিল বলে আমাকে আসামি করা হয়। সেই মামলা থেকে আমি অব্যাহতি পেয়েছি।’ এ বিষয়ে এলিনা খান বলেন, ‘একটি ঘটনা থেকে প্রভাব খাটিয়ে আপাতত পার পেয়ে গেছেন বলে অন্য ঘটনাগুলো সিরাজুল ইসলামের কাছে তুচ্ছ ব্যাপার। তিনি এখন শাহবাগ থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ওসির দায়িত্ব পালন করছেন।’
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment