Monday, June 22, 2015

বিটিসিকে গোনে না রাঘব ১৭ কোম্পানি:যুগান্তর

প্রতিদিনের পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও মূল্যের পরিসংখ্যান বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের (বিটিসি) মনিটরিং সেলকে দেয়ার কথা ভোজ্যতেল ও চিনি পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর। কিন্তু দেশের সবচেয়ে বড় ১৭ কোম্পানি মনিটরিং সেলকে কোনো তথ্যই দিচ্ছে না। এ নিয়ে মনিটরিং সেল কয়েক দফা মৌখিকভাবে এবং পরে লিখিতভাবে জানিয়েছে তাদের। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আইন উপেক্ষা করে নিজেদের ইচ্ছেমতো কার্যক্রম চালাচ্ছে এসব রাঘব কোম্পানি।
tp://platinum.ritsads.com/ads/server/adserve/www/delivery/ck.php?n=acd94d5f' target='_blank'> পণ্যের বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরেছে বিটিসি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি এ প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে পরিবেশকদের নিয়মিত পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে ট্যারিফ কমিশন। এ কোম্পানিগুলোই মূলত দেশে ভোজ্যতেল ও চিনি সরবরাহ করে থাকে। সরকারি বিধি উপেক্ষা করেই তেল ও চিনির মূল্য ইচ্ছেমাফিক ও মাত্রাতিরিক্ত নির্ধারণের অভিযোগও রয়েছে এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে। সয়াবিনে গ্রাহকের কাছ থেকে লিটার প্রতি ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম নিচ্ছে তারা। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন রোববার যুগান্তরকে বলেন, কোম্পানিগুলো আমাদের কাছে যে হিসাব দিয়েছে, পাশাপাশি আমরা মনিটরিং করে দেখেছি, পণ্যের যে সরবরাহ আছে তাতে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। চাহিদার দেড়গুণ মজুদ করার ব্যবস্থা করেছি। এরপরও যদি কোনো সমস্যা হয়, সেটা হবে খুবই সামান্য। ফলে মার্কেট স্থিতিশীল, মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। মনিটরিং করা হচ্ছে। সারা দেশে ভোজ্যতেল সরবরাহ করতে ১১টি কোম্পানি ৭ হাজার ৩৮৮ পরিবেশক নিয়োগ দিয়েছে। চিনি সরবরাহ করতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৬ হাজার ১১৯ জনকে। বিটিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব পরিবেশককে প্রতিদিন কোম্পানিগুলো কি পরিমাণ ভোজ্যতেল ও চিনি সরবরাহ করছে তার সঠিক হিসাব বিটিসির মনিটরিং সেলকে দিচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে কি পরিমাণ ভোজ্যতেল ও চিনি সরবরাহ করা হয়েছে তার সঠিক চিত্র বিটিসির মনিটরিং সেলে নেই। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তথ্য প্রদানের জন্য প্রথমে মৌখিকভাবে পরে পত্রের মাধ্যমে কয়েকবার তাগিদ দেয়া হয়েছে। এরপরও তারা ব্যবস্থা নেয়নি। ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের ৩ হাজার ৭৯৬টি ও মেঘনা গ্রুপের ১ হাজার ৩৭৩টি পরিবেশক রয়েছে। এছাড়া মেরিন ভেজিটেবল অয়েলের ২২১টি পরিবেশক, টিকে গ্রুপের ৬০১টি পরিবেশক, এস আলম গ্রুপের পরিবেশক ১৭৬টি, ইলিয়াস ব্রার্দাসের পরিবেশক ১১৭টি, এসএ অয়েল রিফাইনারি লিমিটেডের ২৭০টি, মোস্তফা ভেজিটেবল অয়েলের ২১৯টি, রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রির ২৮টি, বাংলাদেশ এডিবয়েল ইন্ডাস্ট্রির ১১৯টি, সেভেন সার্কেল বিটুমিন ও এডিবঅয়েলের ৪৬২টি পরিবেশক রয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে চিনি সরবরাহ করতে সিটি গ্রুপের ৩ হাজার ৭৯৬টি, মেঘনা গ্রুপের ১ হাজার ৩৭৩টি, আবুল মোনায়েম রিফাইনারির ৩৩৭টি, দেশ বন্ধু সুগার মিলের ২৯৬টি, এস আলম গ্রুপের ১৭৬টি, পারটেক্স গ্রুপের ১১৬টি পরিবেশক রয়েছে। অত্যাবশকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক আইন ২০১১ অনুযায়ী পরিশোধনারী কোম্পানিগুলো ভোজ্যতেল ও চিনি পরিবেশকের মাধ্যমে দেশব্যাপী সরবরাহ করবে। ওই আইনের ২১(চ) ধারায় বলা আছে ট্যারিফ কমিশনের মনিটরিং সেলের কাজ হচ্ছে পণ্যের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার মূল্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা। ফলে পরিবেশকদের কি পরিমাণ পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে প্রতিদিন তা বিটিসির মনিটরিং সেলকে লিখিত তথ্য দিয়ে অবহিত করার কথা বলা আছে। ওই তথ্য পেলে বিটিসির মনিটরিং সেল বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সরকারকে অবহিত করে থাকে। কিন্তু অধিকাংশ কোম্পানি তাদের উৎপাদিত ভোজ্যতেল ও চিনির সরবরাহ সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিচ্ছে না বলে বিসিটির বাজার পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মো. আজিজুর রহমান বলেন, মনিটরিং সেল এ ব্যাপারে কাজ করছে। তবে ব্যস্ত জানিয়ে বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে তার অফিসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান তিনি। ভোজ্যতেল ও চিনি পরিবেশকদের সঠিকভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে বগুড়া পরিবেশক শাহ আলম শুক্রবার সেল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে পণ্য আনতে ২ থেকে ৩ দিন ট্রাক সিরিয়াল দিয়ে রাখতে হয়। আগে একটি কোম্পানি ১শ’ ট্রাক মাল সরবরাহ দিয়েছে। এখন সেখানে ৫০ গাড়ি সরবরাহ দিচ্ছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, এ সময় চাহিদা বেড়েছে। বিক্রিও বেড়েছে। কিন্তু কোম্পানিগুলো ইচ্ছে করেই এটি করছে। অপর পরিবেশক টাঙ্গাইলের শ্যামল কুমার দত্ত অ্যান্ড ব্রাদার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চাহিদা অনুযায়ী মাল কম পাওয়া যাচ্ছে। কোম্পানিগুলো সরবরাহ ঠিকমতো দিচ্ছে না। মাঝেমধ্যে ভালো আবার মাঝেমধ্যে খারাপ হচ্ছে। এতে কোনোরকম চলে যাচ্ছে। খোলা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমজান আসার কারণে এ দুটি পণ্যের সরবরাহ তথ্য শুধু গোপন করেনি। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কম দামে কিনে দেশী বাজারে মাত্রাতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে। তাও ধরা পড়েছে ট্যারিফ কমিশনের মনিটরিং সেলে। তাদের তথ্যমতে, কোম্পানিগুলোর এক লিটার বোতলজাত সয়াবিনের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৮২ টাকা, লুজ সয়াবিন ৬৭ টাকা ও পাম অয়েল লিটার ৫৭ টাকা হওয়া উচিত। কিন্তু খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন ১০২ টাকা, লুজ সয়াবিন ৮৫ টাকা ও পাম অয়েল ৮৫ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনে বেশি রাখা হচ্ছে ২০ টাকা, লুজ সয়াবিনে ১৮ টাকা ও পামঅয়েলে ১৩ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে। অপরদিকে চিনির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য হওয়া উচিত ৩৯ টাকা। সেক্ষেত্রে খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা। অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে কেজিতে ৩ টাকা।