Tuesday, August 19, 2014

টাকা না পেয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করল ছাত্রলীগ:প্রথম অালো

দাবি করা টাকা না পেয়ে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বখতারমুন্সী শেখ শহীদুল ইসলাম কলেজের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। গতকাল সোমবার এ ঘটনা ঘটে।  কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল সকাল সাড়ে নয়টা থেকে কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়। শিক্ষকেরাও যথারীতি ক্লাস নিতে যান। এ সময় ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা শামসুজ্জামান ফয়সলের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগ
ত লোকজন বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেন। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রাক্-নির্বাচনী পরীক্ষাও বন্ধ করে দেন তাঁরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রভাষক ও শিক্ষার্থী জানান, সোনাগাজীর বখতারমুন্সী শেখ শহীদুল ইসলাম কলেজে কয়েক বছর ধরে প্রথম বর্ষে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীপ্রতি ‘মিলাদ ও ছাত্রকল্যাণ ফান্ড’ নামে ১০০ টাকা করে আদায় করছিল ছাত্রলীগ। চলতি বছর প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া ৬০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকেও এই টাকা নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ছাত্রলীগের নেতা ফয়সলের নেতৃত্বে কয়েকজন গত কয়েক দিন ধরে ওই টাকার জন্য কলেজের অধ্যক্ষকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। সোমবার (গতকাল) টাকা না দিলে অধ্যক্ষকে অপমানিত হতে হবে বলেও তাঁরা হুমকি দেন। কিন্তু গতকাল অসুস্থতার কারণে অধ্যক্ষ কলেজে যাননি। এরপর সকাল সাড়ে নয়টায় ফয়সলের নেতৃত্বে কিছু ছাত্র ও বহিরাগত কলেজে ঢুকে টাকার জন্য হইচই করেন এবং একপর্যায়ে প্রথম বর্ষের ক্লাসে ঢুকে জোর করে প্রভাষকদের সামনে থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ মো. মমিনুল হক ক্লাস ও প্রাক্-নির্বাচনী পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ছাত্রকল্যাণ ফান্ডের টাকা আগেই ছাত্রলীগের নেতাদের দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যাঁরা ভাগ পাননি তাঁরা এখন এসব তাণ্ডব করছেন। বিষয়টি তিনি কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় সাংসদ হাজি রহিম উল্যাসহ অন্য সদস্যদেরও জানিয়েছেন। সুষ্ঠু সমাধান না হলে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা জহিরুল আলম বলেন, ফয়সলের নেতৃত্বে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধের কথা তিনি জেনেছেন। তবে ফয়সল ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে নেই। ঘটনাটি কলেজের সভাপতিকে (স্থানীয় সাংসদ) জানানো হয়েছে। এর আগেও তিনি এসব ঘটনার মীমাংসা করেছেন। এখনো তিনিই করবেন। সাংসদ হািজ রহিম উল্যা বলেন, তিনি স্বতন্ত্র সাংসদ। আর আওয়ামী লীগের কিছু নেতার কারণে এসব হচ্ছে। তবে শিক্ষকেরাও ছাত্রদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন না। তবে তিনি ঘটনাটি সমাধানের চেষ্টা করবেন। প্রসঙ্গত, ৯ আগস্ট শ্রেণি-কার্যক্রম চলার সময় ফয়সল তাঁর কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে মোটরসাইকেলে কলেজে প্রবেশ করেন। ক্লাস চলার সময় মোটরসাইকেল নিয়ে ভেতরে যাওয়া নিষেধ, কলেজের এ নিয়মের কথা বলায় অধ্যক্ষের সামনেই অন্য শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ওই ছাত্রনেতা একজন প্রভাষককে মারধর করেন এবং তাঁর শার্ট ছিঁড়ে ফেলেন। তখনো শিক্ষকেরা সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু পরদিন সাংসদ হাজি রহিম উল্যাহ ওই ছাত্রনেতাকে মাফ চাওয়ার শর্তে আপস-মীমাংসা করে দেন। লাঞ্ছনার শিকার ওই প্রভাষক সোনাগাজী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ সেটিকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি। গতকালের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ফয়সল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্রকল্যাণ তহবিলের জন্য এক লাখ ২০ হাজার টাকার মতো তোলা হয়েছে। কলেজ অধ্যক্ষ আমাকে বলেছিলেন সেই টাকা দেবেন। কিন্তু তিনি আমাকে কোনো টাকাই দেননি। এমনকি ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের জন্যও কোনো টাকা দেননি।’ ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফয়সল বলেন, ‘আমি ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করিনি। সাধারণ ছেলেরাই ক্ষুব্ধ হয়ে এটি করেছে।’ আপনি কীভাবে কলেজের ছাত্রলীগ নেতা হলেন, এই কমিটির অনুমোদন কে দিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক প্রতিহিংসা আছে। তাই এখনো কমিটি ঘোষণা হয়নি। তবে আমাকে সবাই নেতা হিসেবে মানে।’

No comments:

Post a Comment