Tuesday, August 19, 2014

৫০ বছরের কম বয়সী হজযাত্রীদের আবার পুলিশ ভেরিফিকেশন শুরু:নয়াদিগন্ত

বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ৫০ বছরের কম বয়সী হজযাত্রীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন শুরু হয়েছে। হজ এজেন্সিগুলো প্রদত্ত অনলাইন ডাটার ওপর ভিত্তি করে এই ভেরিফিকেশনের কাজ করা হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে এ কাজটি করছে পুলিশের বিশেষ শাখা। পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিষয় এজেন্সিগুলো অনলাইনে অবগত হতে পারে। ডাটার একটি ঘরে ছাড়পত্রের বিষয়ে মন্তব্য থাকে। পাসপোর্ট করার সময় একবার পুলিশ ভেরিফিকেশনের পরও হজে যাওয়ার সময় আবারো তা করা নিয়ে বরাবরই আ
পত্তি জানিয়ে আসছে হজ এজেন্সিগুলো। এতে অনেক সময় এজেন্সিগুলোকে হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের হজযাত্রীদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিষয়ে শনিবার একটি সার্কুলার জারি করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। তাতে বলা হয়েছে, সব এজেন্ট স্ব স্ব ইউজার ও পাসওয়ার্ড দিয়ে এইচএমআই এ লগ-ইন করে তাদের সব হজযাত্রীর পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট দেখতে পারবেন। সব এজেন্টকে ১৭ আগস্ট থেকে তাদের নিজ নিজ হজযাত্রীর তথ্য চেক করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যেসব এজেন্সির হজযাত্রীদের ‘নাম-ঠিকানা সঠিক নয়’ মন্তব্য আছে, ওই সব হজযাত্রীর সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাদের সঠিক নাম-ঠিকানা ও ফোন নম্বর আগামীকাল বুধবারের মধ্যে নির্ধারিত ফরম্যাটে ই-মেইলে (hajjpc2014@yahoo) পাঠাতে বলা হয়েছে। সার্কুলার দু’টি হজবিষয়ক ওয়েব পোর্টালেও দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সব যাত্রীর পাসপোর্ট নম্বর, ছবিসহ পূর্ণাঙ্গ ডাটা অনলাইন ফরম্যাটে এন্ট্রির নির্ধারিত সময় পার হয়েছে। তবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অপর এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, এখনো কিছু এজেন্সি হজযাত্রীদের অনলাইন ডাটা এন্ট্রি করেনি। তাদের বুধবারের মধ্যে পাসপোর্ট নম্বর ও ছবি সংযোজনসহ ডাটা এন্ট্রি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দ্রুত ও সহজভাবে এমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে এই ডাটা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। হাবের নেতারা বলছেন, পাসপোর্ট থাকার পর আবার হজযাত্রীদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের আদৌ প্রয়োজন নেই। তাদের মতে, পুলিশ ভেরিফিকেশনের মধ্য দিয়ে ছাড়পত্রের পরই পাসপোর্ট হয়। আর এই পাসপোর্টের মাধ্যমেই মানুষ দেশের বাইরে যাচ্ছেন। কিন্তু শুধু হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দফায় পুলিশ ছাড়পত্র লাগছে। এতে এজেন্সিগুলোকে হজ প্রস্তুতির ব্যস্ত সময়ে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানায় ব্যক্তিকে না পাওয়ার কারণেই ভেরিফিকেশন আটকে রাখা হয়। হজের আগে অনেকে স্থায়ী ঠিকানায় থাকেন না। আবার অনেকে স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করলেও ঢাকা বা বিভাগীয় শহরে বসবাস করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাবের মহাসচিব শেখ আবদুল্লাহ বলেন, আমরা বরাবরই নতুন করে পুলিশ ভেরিফিকেশনের আপত্তি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আমাদের আপত্তি অগ্রাহ্য করে কয়েক বছর ধরে এ কাজটি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের বলা হয়, কোনো ব্যক্তি পাসপোর্ট করার পর কোনো অপরাধ বা গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত হয়েছে কি না বা তার বিদেশ গমনের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি না তা দেখার জন্যই এটি করা হচ্ছে। এ ছাড়া ‘ফিরত না আসা’ হাজী ঠেকানোও এর উদ্দেশ্য বলে আমাদের বলা হয়। তিনি বলেন, এসব বিষয় তো শুধু হজযাত্রী নন, সব নাগরিকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। উল্লেখ্য, গত বছর পুলিশ ভেরিফিকেশনে ছাড়পত্র না পাওয়ায় দেড় হাজারের মতো মানুষ হজে যেতে পারেননি। এ বছর বাংলাদেশী হজযাত্রীর সংখ্যা ৯৮ হাজার ৭৬২। এর মধ্যে এক হাজার ৬০০ জন যাচ্ছেন সরকারি ব্যবস্থাপনায়। বাকিরা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। চাঁদ দেখাসাপেক্ষে আগামী ৪ অক্টোবর পবিত্র হজ পালিত হবে। ২৭ আগস্ট হজ ফাইট শুরু হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment