বাসরত হাফিজুর রহমান জানান, বাংলাদেশি হাজিরা ট্রাফিক সংকেত না মেনে দৌড়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করেন। হঠাৎ এভাবে দৌড় দেওয়ায় সৌদি গাড়িচালকেরা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। কারণ, এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়ার অভিজ্ঞতা তাঁদের নেই। তিনি বলেন, অন্য দেশের হাজিরা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করেন। কিন্তু আমাদের দেশের হাজিরা উল্টো। আবার, অনেক বৃদ্ধ ব্যক্তি, বিশেষ করে গ্রাম থেকে আসা ব্যক্তিরা ট্রাফিক আইন জানেন না। তাই তাঁরা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশের মতো সৌদি আরবে রিকশা বা ধীরগতির গাড়ি চলাচল করে না। রাস্তাগুলো চওড়া হওয়ায় এ দেশে দ্রুতগতিতে গাড়ি চলে। আবার রাস্তায় পর্যাপ্ত ফুটওভারব্রিজ বা জেব্রা ক্রসিং নেই। থাকলেও হাজিরা এসব খুঁজে দেখার চেষ্টা করেন না। তবে হজের সময় সাধারণত মক্কা, মদিনা ও জেদ্দায় হাজিদের দেখলে গাড়ির গতি কমিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু নামাজের আগে ও পরে বাংলাদেশের বৃদ্ধ হাজিরা ডানে-বাঁয়ে নজর না রেখেই তাড়াহুড়ো করে রাস্তা পারাপারের চেষ্টা করেন। অনেকে লালবাতি বা সবুজ বাতি জ্বললে কী করতে হবে, তা-ও জানেন না। তাড়াহুড়ো না করে দলবদ্ধভাবে চলাচল করলে সহজেই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব বলে মত প্রবাসী বাংলাদেশিদের। ১৮ বছর ধরে এ দেশে গাড়ি চালাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গার আহসান রইছউদ্দিন মোল্লা। তিনি জানালেন, সৌদি আরবের সড়কগুলো সাধারণত চার লেনবিশিষ্ট। বাঁ দিকের লেনে ধীরগতির বড় গাড়িগুলো চলে। ডানের লেনে চলে দ্রুতগতির গাড়ি। এখানকার ট্রাফিক আইন খুব কড়া। সিগন্যাল অমান্য করলে ৯০০ রিয়াল জরিমানা ও ২৪ ঘণ্টা কারাদণ্ড হয়। বেশ কয়েক বছর ধরে এ দেশে বাস করছেন খুলনার মাকসুদ সেলিম। তিনি বলেন, সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে পুলিশ না আসা পর্যন্ত কেউ স্থান ত্যাগ করে না। কারণ, যে স্থান ত্যাগ করবে, তাকেই দোষী সাব্যস্ত করা হবে। সেলিম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনার কারণ যাচাই করে। সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ আহত হলে তার চিকিৎসা খরচ বহন করতে হয় দোষী প্রমাণিত হওয়া গাড়িচালককে। আর কেউ নিহত হলে এক লাখ রিয়াল পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হয়।
Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Tuesday, October 14, 2014
বাংলাদেশি হাজিরা দুর্ঘটনার শিকার হন যে কারণে:প্রথম অালো
বাসরত হাফিজুর রহমান জানান, বাংলাদেশি হাজিরা ট্রাফিক সংকেত না মেনে দৌড়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করেন। হঠাৎ এভাবে দৌড় দেওয়ায় সৌদি গাড়িচালকেরা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। কারণ, এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়ার অভিজ্ঞতা তাঁদের নেই। তিনি বলেন, অন্য দেশের হাজিরা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করেন। কিন্তু আমাদের দেশের হাজিরা উল্টো। আবার, অনেক বৃদ্ধ ব্যক্তি, বিশেষ করে গ্রাম থেকে আসা ব্যক্তিরা ট্রাফিক আইন জানেন না। তাই তাঁরা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশের মতো সৌদি আরবে রিকশা বা ধীরগতির গাড়ি চলাচল করে না। রাস্তাগুলো চওড়া হওয়ায় এ দেশে দ্রুতগতিতে গাড়ি চলে। আবার রাস্তায় পর্যাপ্ত ফুটওভারব্রিজ বা জেব্রা ক্রসিং নেই। থাকলেও হাজিরা এসব খুঁজে দেখার চেষ্টা করেন না। তবে হজের সময় সাধারণত মক্কা, মদিনা ও জেদ্দায় হাজিদের দেখলে গাড়ির গতি কমিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু নামাজের আগে ও পরে বাংলাদেশের বৃদ্ধ হাজিরা ডানে-বাঁয়ে নজর না রেখেই তাড়াহুড়ো করে রাস্তা পারাপারের চেষ্টা করেন। অনেকে লালবাতি বা সবুজ বাতি জ্বললে কী করতে হবে, তা-ও জানেন না। তাড়াহুড়ো না করে দলবদ্ধভাবে চলাচল করলে সহজেই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব বলে মত প্রবাসী বাংলাদেশিদের। ১৮ বছর ধরে এ দেশে গাড়ি চালাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গার আহসান রইছউদ্দিন মোল্লা। তিনি জানালেন, সৌদি আরবের সড়কগুলো সাধারণত চার লেনবিশিষ্ট। বাঁ দিকের লেনে ধীরগতির বড় গাড়িগুলো চলে। ডানের লেনে চলে দ্রুতগতির গাড়ি। এখানকার ট্রাফিক আইন খুব কড়া। সিগন্যাল অমান্য করলে ৯০০ রিয়াল জরিমানা ও ২৪ ঘণ্টা কারাদণ্ড হয়। বেশ কয়েক বছর ধরে এ দেশে বাস করছেন খুলনার মাকসুদ সেলিম। তিনি বলেন, সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে পুলিশ না আসা পর্যন্ত কেউ স্থান ত্যাগ করে না। কারণ, যে স্থান ত্যাগ করবে, তাকেই দোষী সাব্যস্ত করা হবে। সেলিম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনার কারণ যাচাই করে। সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ আহত হলে তার চিকিৎসা খরচ বহন করতে হয় দোষী প্রমাণিত হওয়া গাড়িচালককে। আর কেউ নিহত হলে এক লাখ রিয়াল পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হয়।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment