Sunday, July 6, 2014

পশুর চ্যানেলের ড্রেজিংয়ের পরিমাণ নিয়ে মতদ্বৈধতা:কালের কন্ঠ

নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলেও মংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের হারবার এলাকায় ড্রেজিং আজো শেষ হয়নি। প্রকল্পের শেষ সময়ে এসে ড্রেজিংয়ের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য সার্ভে করা হয়। আর সার্ভে প্রতিবেদনের সুপারিশে যে পরিমাণ ড্রেজিং করার সুপারিশ করা হয়েছে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাবনায় তা ৬.৩৮ লাখ ঘনমিটার বেশি। এখন ড্রেজিংয়ের পরিমাণ নিয়ে মতদ্বৈধতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন সূত্র। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে পশুর নদীর পূর্ব তীরে মংলা বন্দরে জাহাজ ভেড়ানোর জায়গা নির্বাচনকালে স্বাভাবিক জোয়ারে পশুর নদী দিয়ে ৮.৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ সহজেই বন্দরের জেটিতে আসতে পারত। কিন্তু ৭০ দশকের পর থেকে নদীর গভীরতা কমতে থাকে। ১৯৭৮ সালে যখন মংলা বন্দরের জেটি নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় তখন থেকেই নদীর গভীরতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। এ সময় থেকেই জেটির সামনের ভাগ এবং দক্ষিণে অ্যাংকোরেজ এলাকার নাব্যতা ধরে রাখার জন্য ১৯৭৯ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজের অর্থায়নে প্রায় ৯২.২২ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করে। মংলা বন্দরের জেটিতে ৭.৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানোর জন্য পশুর নদীর হারবার এলাকায় ১৩ কিলোমিটার চ্যানেলের প্রয়োজনীয় গভীরতা বৃদ্ধি করতে এই প্রকল্পটি নেয়া হয়। ২০১০ সালে তিন বছর মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আবার এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। পাশাপাশি ব্যয় বাড়ানো হয় ৩২ কোটি টাকা। প্রথমবার ৪১.৯৬ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিংয়ের উদ্দেশ্যে ব্যয় ধরা হয় ১০০ কোটি টাকা। পরবর্তীতে কয়েকবার বিডিংয়ে দর বেশি পড়ায় প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। এর পরই আবার ২০১৩ সালের মার্চে এসে সার্ভে চার্টের ভিত্তিতে মোট ড্রেজিংয়ের পরিমাণ ধার্য করা হয় ৩৫.১১ লাখ ঘনমিটার। বর্তমানে ৩৫.১১ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিংয়ের জন্য মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় প্রতিষ্ঠান চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। তখন সার্ভে করা হলে মোট ড্রেজিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৭.৩৯ লাখ ঘন মিটার। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি স্টিয়ারিং কমিটির সভায় প্রকল্পের ড্রেজিংয়ের পরিমাণ  এবং ব্যয় না বাড়িয়ে ড্রেজিংকৃত স্থানগুলোর ডিজাইন গভীরতা সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত হয়। তাতে ব্যয় কমিয়ে ধরা হয় ১১২ কোটি টাকা। এখন ড্রেজিং ৩৩.৭৭ লাখ ঘনমিটার। আর সার্ভে বলছে ২৭.৩৯ লাখ ঘনমিটার। কোনটিতে কাজ হবে তা নিয়েই এখন মতদ্বৈধতা। ইতোমধ্যে প্রথম সংশোধনীর মেয়াদ শেষে ব্যয় হয়েছে ৭০ কোটি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যা অনুমোদিত ব্যয়ের ৫৩.৫২ শতাংশ। সংশোধনীর পরও প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা কমিশন তার মতামতে বলেছে, পশুর চ্যানেলের হারবার এলাকায় ২০১৩ সালের নভেম্বরে প্রি-ওয়ার্ক সার্ভে করা হলে মোট ডেজিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৭.৩৯ লাখ ঘনমিটার। অথচ দ্বিতীয় সংশোধিত প্রস্তাবে মোট ৩৩.৭৭ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করার কথা বলা হয়েছে, যা সার্ভের চেয়ে ৬.৩৮ লাখ ঘনমিটার বেশি। বিষয়টি পর্যালোচনা করতে হবে। কেনো সার্ভের চেয়ে বেশি ড্রেজিং করা হবে। কমিশন আরো বলছে, স্টিয়ারিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল প্রকল্পের ডেজিংকাজের জন্য চুক্তিকৃত ড্রেজিংয়ের পরিমাণ ৩৫.১১ লাখ ঘনমিটার। আর ব্যয় ১০৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা না বাড়িয়ে ড্রেজিংকৃত স্থানগুলোর ডিজাইন গভীরতা সমন্বয় করা যেতে পারে।

No comments:

Post a Comment