Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Sunday, July 6, 2014
সিলেটে ভুয়া সাংবাদিক ও নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলের ছড়াছড়ি:কালের কন্ঠ
সিলেটে উদ্বেগজনকহারে ভুয়া সাংবাদিক ও নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলের ছড়াছড়ি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব ভুয়া সাংবাদিক নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল দিয়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে প্রশাসনসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজন। অনেকে এসব সাংবাদিকের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে মুখ খুলতে নারাজ। নামসর্বস্ব পত্রিকার সাংবাদিকেরা চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে; যে কারণে মূল ধারার সাংবাদিকেরা প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। অপর দিকে সিলেটের রাজপথ দাপিয়ে বেড়ানো ‘সাংবাদিক’ ও ‘প্রেস’ লেখা গাড়ি, মোটরসাইকেলের মালিক বেশির ভাগই সাংবাদিক নন। সাংবাদিক লেখা মোটরসাইকেল দিয়ে অনেক সময় নগরীতে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও ঘটানো হচ্ছে। এ অবস্থায় সিলেটের সাংবাদিক নেতারা ‘সাংবাদিক’ ও ‘প্রেস’ লেখা কাগজপত্রবিহীন অবৈধ মোটরসাইকেল আটক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে। সাংবাদিক নেতাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পুলিশ কমিশনারও জানিয়েছেন এখন থেকে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে ‘সাংবাদিক’ ও ‘প্রেস’ লেখা মোটরসাইকেল বা গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। সম্প্রতি মাহে রমজান উপলে সিলেট মহানগর পুলিশের সদর দফতরে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিক নেতাদের এমন আহ্বানের পর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, এখন থেকে মহানগর পুলিশের আওতাধীন ছয় থানা পুলিশ ‘সাংবাদিক’ ও ‘প্রেস’ লেখা মোটরসাইকেল ও গাড়িতে অভিযান চালাবেন; যাতে কোনো অপরাধী এর আড়ালে কোনো ধরনের অপরাধ করতে না পারে। মতবিনিময় সভায় সিলেট প্রেস কাবের সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী ও সাংবাদিক ইকরামুল কবির ইকুসহ উপস্থিত সাংবাদিকেরা তাদের বক্তব্যে বলেন, সিলেট নগরীতে ‘সাংবাদিক’ ও ‘প্রেস’ লেখা মোটরসাইকেল ও গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। যাদের চালক হিসেবে দেখা যায়, তাদের বেশির ভাগই সাংবাদিক নয়। আমাদের মনে হয় অপরাধী চক্র সাংবাদিক ও প্রেস লিখে নগরীতে অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে। তাই এসব মোটরসাইকেল ও গাড়িতে অভিযান চালানের জন্য পুলিশকে আহ্বান জানান তারা। মতবিনিময়কালে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ মো: মিজানুর রহমান বলেন, সিলেট নগরীতে এ পর্যন্ত যত ছিনতাই হয়েছে, এর বেশির ভাগ মোটরসাইকেলধারীদের দিয়ে সংঘটিত হয়েছে। কাজেই আমরা মোটরসাইকেলের ওপর নজরদারি বাড়াতে চাই। এ প্রসঙ্গে তিনি হেলমেট না থাকলে প্রয়োজনে মোটরসাইকেলধারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন। এ দিকে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, সিলেট অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে অর্ধশতাধিক অনলাইন পোর্টাল সংবাদ সংস্থা গড়ে উঠেছে। অনলাইন পোর্টালে কোনো নীতিমালা না থাকায় অসাংবাদিকেরা তৈরি করেছেন সংবাদ সংস্থা। এসব অনলাইলে যোগ দিচ্ছেন নগরীর চিহ্নিত খুনি, ছিনতাইকারী থেকে শুরু করে মাদকসেবনকারী ও বিক্রেতা পর্যন্ত। তারা বিভিন্ন মোটরসাইকেলের সামনে-পেছনে সাংবাদিক ও প্রেস লেখে বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছে নানা অপকর্ম। ট্রাফিক পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মধ্যে এসব ভুয়া সাংবাদিকের নম্বরবিহীন গাড়িসহ আটক করলেও পড়ে রহস্যজনক কারণে ছেড়ে দেয়া হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, নামসর্বস্ব পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালের ভুয়া সাংবাদিকেরা নিজেদের নাম পর্যন্ত লিখতে পারে না। তারা নানা অপকর্ম নির্বিঘেœœ চালিয়ে যাওয়ার জন্য পত্রিকা ও পোর্টালের পরিচয়পত্র গলায় ও কোমরে ঝুলিয়ে চষে বেড়াচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) রহমত আলী বলেন, ভুয়া সাংবাদিক ও নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার জন্য সব থানাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিকদের সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন চেকপোস্টে এ অভিযান চালানো হবে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment