Saturday, July 5, 2014

দুই দিন পর অবরোধমুক্ত হলেন উপাচার্য:প্রথম অালো

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য টানা দুই দিন অবরুদ্ধ থাকার পর গতকাল শুক্রবার রাতে মুক্ত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী তাঁদের চাকরি স্থায়ীকরণ ও বকেয়া বেতনের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে পালা করে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। গতকাল প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক শেষে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে রাত ১২টার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। গতকাল দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপাচার্যের কক্ষের দরজার সামনে বারান্দায় শুয়ে আছেন। ফাতেমা বেগম নামের একজন কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে তাঁকে সেবা দেওয়া হয়। রোজায় আন্দোলনকারীরা কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়লেও নিজেদের অবস্থানে ছিলেন অনড়। আন্দোলনকারী সেকশন কর্মকর্তা (গ্রেড-২) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আমাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমাদের আন্দোলন ন্যায়সংগত।’ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউজিসি বেতনভুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বর্তমানে ৫৪০। সাবেক উপাচার্য মুহাম্মদ আবদুল জলিল মিয়া ইউজিসির অনুমোদন না নিয়ে অতিরিক্ত ৩৩৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে নতুন উপাচার্য গত এক বছরে ১৯৫ জনের চাকরি স্থায়ী করলেও সবার চাকরি এখনো স্থায়ী করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আন্দোলনরত ১৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি অন্তর্বর্তীকালীন। তাঁদের চাকরির মেয়াদ গত বছরের জুন মাসে শেষ হয়েছে। অবরুদ্ধ অবস্থায় উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবী গতকাল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘না খেয়ে কষ্ট করে কক্ষের মধ্যে চেয়ারে বসে বসে অবরুদ্ধ সময় কাটছে। কিন্তু এখানে আমারই-বা কী করার আছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ছাড়া আমি কোনো কিছুই করতে পারি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে একটি বিরাট অংশের চাকরি স্থায়ী করেছি। বাকিদের জন্যও চেষ্টা করছি। তবে একটু সময় লাগবে।’ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রিশিন পরিমল জানান, তাঁরা উপাচার্যের সঙ্গে গতকাল বিকেলে দেখা করেছেন। সাবেক উপাচার্য মুহাম্মদ আবদুল জলিল মিয়াকে ২০১৩ সালের ৫ মে উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর আগে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে টানা ৭৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন উপাচার্য নূর-উন-নবী।

No comments:

Post a Comment