Monday, September 15, 2014

সাগরের ছয় ব্লকের দরপত্র ডিসেম্বরে:কালের কন্ঠ

সাগরের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আগামী ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করবে পেট্রোবাংলা। ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী ব্লকের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কম্পানিগুলোর আগ্রহ থাকায় ওই অবস্থানের ছয়টি ব্লকের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে। দরপত্র আহ্বানের জন্য ২০১২ সালের প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) বা উৎপাদন অংশীদারি চুক্তি সংশোধন ও পরিমার্জন করা হচ্ছে। নতুন পিএসসি অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ত তে
ল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কম্পানি বাপেক্সের জনবল ব্যবহার বাধ্যতামূলক। বাপেক্সের জন্য ব্লক নির্দিষ্ট রাখা ও গ্যাসের দাম বাড়ানোসহ বেশ কিছু ব্যাপারে সংযোজন-বিয়োজন করা হবে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, ছয়টি ব্লকে দরপত্র আহ্বান করে বাকি ব্লকগুলোতে বহু স্তরে সাইসমিক জরিপ করা হবে। জরিপের তথ্য পেট্রোবাংলার কাছে থাকবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে জরিপ সম্পন্ন করা হবে। এর ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দরপত্র আহ্বান করা হবে। প্রাপ্ত তথ্য বিদেশি কম্পানির সঙ্গে দরকষাকষিতে কাজে লাগবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। প্রসঙ্গত, মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি রাষ্ট্রাধীন সমুদ্র অঞ্চল (টেরিটরিয়াল সি) পেয়েছে। এ ছাড়া ২০০ নটিক্যাল মাইল একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত (মহীসোপানসহ) সমুদ্রের তলদেশে সব ধরনের সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার পেয়েছে। বঙ্গোপসাগরের এই বিশাল অঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য সরকার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে। কিন্তু এই মুহূর্তে সব ব্লকে দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হবে না। আপাতত সীমান্তবর্তী ছয়টি ব্লকে দরপত্র আহ্বান করা হবে। এসব ব্লকে বিদেশি কম্পানির আগ্রহ রয়েছে। কারণ ভারত ও মিয়ানমার এসব স্থানের পাশে ইতিমধ্যে গ্যাস আবিষ্কার করেছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘এই ডিসেম্বরের মধ্যে ছয়টি ব্লকে দরপত্র আহ্বান করা হবে। ব্লকগুলো মিয়ানমার ও ভারতের সীমান্তবর্তী। বাকি ব্লকগুলোতে আমরা সাইসমিক জরিপ করব। জরিপ শেষ হলে বাকি ব্লকগুলোতেও দরপত্র আহ্বান করা হবে।’ ডিসেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের বিষয়টি পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুরও স্বীকার করেছেন। এর জন্য পিএসসি সংশোধন করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা বিদেশি কম্পানির জন্য একটি আকর্ষণীয় প্যাকেজ তৈরি করব, যাতে তারা এখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়। নতুন পিএসসিতে গ্যাসের দাম বাড়ানোসহ বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হবে।’ তবে গ্যাস রপ্তানির বিধান রাখা হবে না বলে তিনি জানান। জানা গেছে, সাগরের ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে কনোকো-ফিলিপস সাত ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাসের সন্ধান দিয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য আগামী ১০ বছরের জ্বালানি। এ আবিষ্কারের পর থেকে তারা গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে। সরকার তাতে রাজি হয়নি। তবে নতুন পিএসসিতে সাগরবক্ষের গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৪.২ ডলার দিয়ে সাগরে পাওয়া গ্যাস কিনবে সরকার। নতুন পিএসসিতে প্রতি হাজার ঘনফুট সাত ডলার করে রাখার চিন্তা করছে সরকার।’ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাগরের তেল-গ্যাসের জন্য সাত ডলার বেশি নয়। কারণ এসব ক্ষেত্রে গ্যাস পাওয়া গেলেও ২০২২ সালের আগে তোলা যাবে না। তখন আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম অনেক বেশি থাকবে। জানা গেছে, নতুন পিএসসি অনুযায়ী কোনো বিদেশি কম্পানি পেট্রোবাংলার সঙ্গে সাগরের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন চুক্তি করলে তাদের জন্য বাপেক্স থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক লোক নেওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে। বাপেক্সের এই লোকজন বিদেশি কম্পানির সঙ্গে কাজ করে সাগরবক্ষের গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের বিষয়গুলো হাতে-কলমে শিখবে। সাগরের কয়েকটি গ্যাস ব্লক বাপেক্সের জন্য স্থায়ীভাবে রেখে দেওয়া হচ্ছে। অভিজ্ঞতা অর্জিত হলে ভবিষ্যতে যাতে তারা এসব ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন করতে পারে। এ ছাড়া নতুন পিএসসি অনুযায়ী, ইজারাপ্রাপ্ত বিদেশি কম্পানির ভাগের ১০ শতাংশ (ক্যারিড ইন্টারেস্ট) বাপেক্সকে দিতে হবে। ক্যারিড ইন্টারেস্ট নামের লভ্যাংশের জন্য বাপেক্সকে বিনিয়োগ করতে হবে। চলতি বছরের গোড়ার দিকে তিনটি ব্লকের জন্য সম্পাদিত পিএসসিতে ১০ শতাংশ ক্যারিড ইন্টারেস্ট বিষয়ক ধারাটি ছিল। তবে ২০১১ সালের ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে কনোকো-ফিলিপসের সঙ্গে করা পিএসসিতে এ বিধান ছিল না। আগের পিএসসিতে গ্যাস বিদেশে রপ্তানির বিধান ছিল। তবে ২০১২ সালের পিএসসি থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। নতুন পিএসসিতেও এ বিধান থাকবে না। পেট্রোবাংলা যদি গ্যাস কিনতে অপারগতা প্রকাশ করে তাহলে দেশের ভেতর তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করা যাবে। নতুন পিএসসিতে করপোরেট ট্যাক্স তুলে দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। এ বিষয়ে ড. হোসেন মনসুর বলেন, ‘আমরা আসলে শর্তগুলো এমনভাবে করতে চাই, যাতে বাংলাদেশের লাভ হয়, আবার বিদেশি কম্পানিগুলোও দরপত্রে অংশ নেয়। এ কারণে করপোরেট ট্যাক্স তুলে দেওয়া যায় কি না ভাবছি।’

No comments:

Post a Comment