Sunday, June 21, 2015

সৌদির ৬০ হাজার নথি ফাঁস করল উইকিলিকস:প্রথম অালো

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের যোগাযোগের ৬০ হাজারের মতো গোপন নথি গত শুক্রবার প্রকাশ করেছে উইকিলিকস। এ ছাড়া দেশটির অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের গোপন নথিও এর মধ্যে আছে। খবর এএফপি ও আল-জাজিরার। এ ঘটনার পর সৌদি আরব গতকাল দৃশ্যত উইকিলিকসের ফাঁস করা দলিলের দিকে ইঙ্গিত করেই এর নাগরিকদের ‘জাল হতে পারে এমন’ নথিপত্র বিতরণ না করার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি নথিপত্রগুলোর সত্যতার কথা সরাসরি অস্
বীকার করেনি। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল উইকিলিকস। এরপর উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে সুইডেনে যৌন হয়রানির মামলা হয়। তখন গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন অস্ট্রেলীয় নাগরিক অ্যাসাঞ্জ। গত শুক্রবার ছিল সেই আশ্রয় প্রার্থনার তিন বছরপূর্তি। শুক্রবার এক বিবৃতিতে উইকিলিকস জানায়, তারা এরই মধ্যে সৌদি আরবের ৬০ হাজারের মতো নথি ফাঁস করেছে। এর অনেকগুলোর ওপর সবুজ কালিতে লেখা ‘কিংডম অব সৌদি অ্যারাবিয়া’ বা ‘মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স’। কোনো কোনোটির ওপরে লেখা, ‘আর্জেন্ট’ বা ‘ক্লাসিফাইড’। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল রাতে তাদের টুইটার অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে সম্ভাব্য জাল নথিপত্র পরস্পরের মধ্যে বিতরণ না করার আহ্বান জানিয়েছে নাগরিকদের। উইকিলিকসের ঘোষণার পর থেকে এটাই সৌদি সরকারের একমাত্র প্রতিক্রিয়া। গোপন এসব নথি থেকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সৌদি সরকারের কর্মকাণ্ডের অনেক কিছু জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান এবং সিরিয়ার বিদ্রোহী ও মিসরের সেনা-সমর্থিত সরকারকে সহায়তা দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে সৌদি আরবের বিরোধিতার বিষয়ে অনেক ভেতরের কথা জানা যেতে পারে। ২০১২ সালে আবুধাবি থেকে পাঠানো আরেকটি বার্তায় বলা হয়, মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারককে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় না করাতে দেশটিকে জোর চাপ দিয়ে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০০৮ সালের ১৪ আগস্ট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাসে একটি বার্তা পাঠায়। ‘ক্লাসিফায়েড অ্যান্ড ভেরি আর্জেন্ট’ লেখা ওই বার্তায় সতর্ক করে বলা হয়, ইন্টারন্যাশনাল লিডারশিপ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় আরও কয়েকটি দেশের কিছু শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত ইসরায়েলের দূতাবাস পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তাঁরা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কাজ নিয়ে কথা বলেন, প্রশ্ন করেন এবং ছবি তোলেন। উইকিলিকসের ফাঁস করা অনেক নথি পর্যালোচনা করে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, সেগুলোয় একেবারেই মামুলি প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কথা আছে। তবে এসব গোপন নথি উইকিলিকস কীভাবে হাত করল, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত কিছু জানায়নি। কিন্তু বিবৃতিতে তারা সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সম্প্রতি ‘ইয়েমেন সাইবার আর্মি’র হামলার বিষয়টি উল্লেখ করেছে। ইয়েমেন সাইবার আর্মিই ওই সব গোপন নথি দিয়েছে কি না, জানতে চাইলে কোনো কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানান উইকিলিকসের মুখপাত্র ক্রিস্টিন রাফনসন। তিনি বলেন, ‘নীতিগত কারণেই আমরা নথির উৎস কাউকে জানাই না।’