Monday, June 22, 2015

আবারও মুস্তাফিজে চূর্ণ ভারত:প্রথম অালো

ভারতীয় দলে এখন সবচেয়ে বিব্রতকর অবস্থায় থাকার কথা সন্দীপ রাজু আনন্দের। নামটা অচেনা লাগছে? লাগতেই পারে। ভদ্রলোক ভারতীয় দলের কোনো ক্রিকেটার নন। নন কোচ বা ম্যানেজারও। আধুনিক ক্রিকেটে অবশ্য সমস্যায় পড়তে কোচ-খেলোয়াড় হতে হয় না। একটা দলের মাঠের পারফরম্যান্সে পর্দার অন্তরালে থেকে ভূমিকা রাখেন আরও অনেকে। দলের সাফল্য-ব্যর্থতায় তাঁদের প্রোফাইলও ওঠা-নামা করে। রাজু আনন্দ তেমনই একজন, ভারতীয় দলের কম্পিউট
ার বিশ্লেষক। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের পুরোনা ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তথ্য-উপাত্ত তৈরি করাই কম্পিউটার বিশ্লেষকের কাজ। সেসব তথ্য-উপাত্ত দরকার হয় দলের প্রস্তুতিতে। কিন্তু রাজু আনন্দকে এবার ঢাকায় আসতে হয়েছে কাজটা অসম্পূর্ণ রেখেই। বাংলাদেশ দলের তরুণ তুর্কি মুস্তাফিজুর রহমান সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্যই ছিল না তাঁর ল্যাপটপে! থাকার কথাও নয়। বাঁহাতি এই পেসারের ওয়ানডে অভিষেক হলোই যে এই সিরিজে! পরিণতি তো চোখেই দেখা গেছে। প্রথম ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নিয়ে ভারতকে ধসিয়ে দেওয়া তরুণ কাল হয়ে উঠলেন আরও ভয়ংকর। নামের পাশে এবার ৪৩ রানে ৬ উইকেট। কিন্তু ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় খুঁজে পাওয়া গেল না মাঠের উদ্ধত বোলারকে। টানা দ্বিতীয় ম্যাচের সেরা হয়েও প্রতিক্রিয়া খুবই সাদামাটা, ‘সব সময়ই ভালো খেলার ইচ্ছা থাকে। পর পর দুটি ম্যাচে ভালো খেলেছি। একটু তো ভালো লাগবেই।’ দুই ম্যাচ দেখেই মুস্তাফিজকে নিয়ে ভারতীয় দলের বিশ্লেষণের শেষ নেই। ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘ওর স্লোয়ারটা অন্য বোলারদের স্লোয়ারের চেয়ে একটু জোরে যায়। নিচু হয়ে না গিয়ে বলটা উইকেটকিপার পর্যন্ত চলে যায়।’ পরে মুস্তাফিজের সংবাদ সম্মেলনে এক ভারতীয় সাংবাদিক জানতে চাইলেন কীভাবে রপ্ত করলেন এই কৌশল। গ্রিপ বা শরীরী ভাষায় কোনো পরিবর্তন না এনেই বলের গতি বদলে যাচ্ছে! কীভাবে? এককথায় মুস্তাফিজের উত্তর, ‘প্র্যাকটিস করতে করতে এটা হয়েছে।’ আগের ম্যাচে ধোনির সঙ্গে হওয়া সংঘর্ষ ‘টক অব দ্য সিরিজ’ হয়ে আছে এখনো। সেই ধোনিকেও ফিরিয়ে হাসলেন। এই উইকেটের তৃপ্তি নিশ্চয়ই আলাদা! আর সবার কাছে ব্যাপারটা এ রকম মনে হলেও মুস্তাফিজের কাছে নয়। ‘উইকেট উইকেটই। আমার কাছে সব উইকেটই ভালো লাগে’—সাংবাদিকদের সব উত্তেজনায় পানি ঢেলে দিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নতুন চমক। বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেওয়া দ্বিতীয় বোলার মুস্তাফিজ। রবীন্দ্র জাদেজাকে সর্বশেষ শিকার বানিয়ে কাল হয়ে গেলেন এক ম্যাচে ৬ উইকেট নেওয়া তৃতীয় বোলারও। লাল-সবুজের প্রতিনিধি হয়ে এই কৃতিত্ব এর আগে ছিল শুধু মাশরাফি বিন মুর্তজা আর রুবেল হোসেনের। মুস্তাফিজ ভাগ বসিয়েছেন জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান ভিটরির ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডেও। আর টানা দুই ম্যাচে ৫ বা তার বেশি উইকেট নেওয়াদের তালিকায় তিনি দশম বোলার। আবির্ভাবেই বিস্ময়ের পর বিস্ময় উপহার দিচ্ছেন যে সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ তরুণ, বাংলাদেশের ক্রিকেট তাঁর কাছ থেকে আরও কত যে কিছু পাবে! সেই আশার পালে জোর হাওয়া দিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, ‘ও যদি ১০ বছর বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলতে পারে, বাংলাদেশ আরও অনেক ম্যাচ জিতবে।’ মুস্তাফিজের আলোকিত আবির্ভাব যেন আরও সুন্দর দিনেরই স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে।