Sunday, June 21, 2015

মাসের পর মাস নষ্ট রোগ নির্ণয়ের সাত যন্ত্র:প্রথম অালো

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলোজি ও ইমেজিং বিভাগে রোগ নির্ণয়ের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রই নষ্ট হয়ে পড়ে আছে মাসের পর মাস। এর ফলে এখান থেকে সাধারণ রোগীরা রোগ নির্ণয়ের আধুনিক সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁদের বেশি টাকা খরচ করে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এসব সেবা নিতে হচ্ছে। বিভাগে গিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে থাকা দুটি সিটি স্ক্যান যন্ত্রের দুটিই এবং দুটি ম্যাগনেটিক রিসোন্য
ান্স ইমেজিং (এমআরআই) যন্ত্রের দুটিই নষ্ট। এই দুই যন্ত্রের মাধ্যমে করা সব পরীক্ষাই বেশ ব্যয়বহুল। আলট্রাসনোগ্রামের ছয়টি যন্ত্রের মধ্যে দুটি নষ্ট। কম্পিউটার রেডিওথেরাপির (সিআর) দুটি যন্ত্রের মধ্যে একটি নষ্ট। এ বিভাগে মাত্র দুটি ডিজিটাল এক্স-রে, একটি কম্পিউটার রেডিওথেরাপি ও চারটি আলট্রাসনোর যন্ত্র ভালো রয়েছে। হাসপাতালের রেডিওলোজি বিভাগ সূত্র জানায়, সিটি স্ক্যান দুটি যন্ত্রের মধ্যে একটি যন্ত্রের টেবিল সামনে-পেছনে নড়াচড়া করানো যায় না। গত ২৫ এপ্রিল থেকে যন্ত্রটির ব্যবহার বন্ধ রয়েছে। এ যন্ত্রটি হাসপাতালে স্থাপন করা হয় ২০১২ সালের ২৮ মার্চ। আর ২০০৭ সালে অন্য সিটি স্ক্যান যন্ত্রটির টিউব বিকল হওয়ায় তা ২০১০ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ম্যাগনেটিক রিসোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই) দুটি যন্ত্রের মধ্যে ২০১২ সালে স্থাপন করা একটি যন্ত্রের সার্কিট পুড়ে যাওয়ায় চলতি বছরের ৯ মার্চ থেকে নষ্ট। আর ২০০৭ সালে স্থাপন করা অন্য যন্ত্রটি ২০১৪ সালের ৩ জুলাই থেকে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, সিটি স্ক্যান যন্ত্র দুটি চালু থাকলে প্রতিদিন ২৫-৩০ জন রোগী এ পরীক্ষাটির সুযোগ পেতেন। সিটি স্ক্যান করাতে এই হাসপাতালে খরচ পড়ে সর্বনিম্ন দুই হাজার থেকে সর্বোচ্চ চার হাজার টাকা। আর বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খরচ পড়ে সর্বনিম্ন চার হাজার থেকে সর্বোচ্চ আট হাজার টাকা। হাসপাতালের যন্ত্র নষ্ট থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়েই বাইরে থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে আনতে হয়। একই সূত্র জানায়, দুটি এমআরআই যন্ত্রের মাধ্যমে প্রতিদিন ১৮-২০ জন রোগী পরীক্ষার পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পাওয়ার কথা। সাধারণত মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যা ও রোগ নির্ণয় করা হয় এই যন্ত্রের মাধ্যমে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমআরআই করাতে খরচ পড়ে তিন হাজার টাকা। আর বাইরে এমআরআইর জন্য খরচ পড়ে সাত হাজার টাকা। রংপুর নগরের মুন্সিপাড়ার আশরাফুল হক বলেন, ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে আসা। কিন্তু এখানে এসে দেখি যন্ত্রপাতি খারাপ। ফলে অনেক বেশি টাকা দিয়ে বাইরে থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে।’ নগরের মাহীগঞ্জ এলাকার রেজাউল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালের এই বিভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে গিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘শুনেছি, যন্ত্র ভালো হচ্ছে। কিন্তু ভালো আর হয় না।’ এই রেডিওলোজি ও ইমেজিং বিভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে এসে গত এক সপ্তাহের মধ্যে দুই শ রোগী ফিরে গেছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের একজন চিকিৎসক জানান। বিভাগের টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) শাহাবুদ্দিন জানান, ‘যন্ত্র মেরামত করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাজ। আমাদের কী করার আছে?’ রেডিওলোজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আলতাফ হোসেন এসব যন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘যন্ত্রগুলো ঠিক করার জন্য আমরা পরিচালক বরাবর বহুবার তাগাদা দিয়েছি। শেষমেশ নিজেরাই ঢাকায় যোগাযোগ করি। সেখান থেকে লোকজন এসে গত ২৭ মে ও ৩০ এপ্রিল এমআরআই ও সিটি স্ক্যান যন্ত্রগুলো দেখে গেছেন। তবে কবে নাগাদ ঠিক হবে তা বলা যাচ্ছে না।’ হাসপাতালের পরিচালক আবদুল বাতেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘যন্ত্রগুলো ঠিক করার জন্য ঢাকায় বহুবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও ঢাকায় গিয়ে এ বিষয়ে ওপর মহলকে অবগত করেছি। আমরা তো চেষ্টা কম করছি না।’