তের মাঠ দখলের লড়াই। খবর বিবিসির। নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরগামী ফ্লাইট এমএইচ১৭ গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়।ইউক্রেনের পশ্চিমা-সমর্থিত সরকারের অভিযোগ, ওই অঞ্চলের রুশপন্থী বিদ্রোহীরা রাশিয়ার তৈরি বুক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করেছে। ওই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে রাশিয়া। তবে বিদ্রোহীরা দাবি করছে, আকাশে এত ওপরে উড্ডয়মান উড়োজাহাজ ভূপাতিত করার মতো ক্ষেপণাস্ত্র তাদের হাতে নেই। তারা উল্টো অভিযোগ করছে, বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন করতে কিয়েভের সেনাবাহিনী এই কাজ করেছে। রাশিয়ার সামরিক বাহিনী নিজেও উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পক্ষে যুক্তি দেখানো হচ্ছে, সম্প্রতি রুশ বাহিনী ওই অঞ্চলে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর একটি উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছে। অভিযোগ পাল্টা-অভিযোগের কাদা ছোড়াছুড়ির ফলে বিশ্ববাসী এখন কোনটা সত্য, তা নিয়ে ধাঁধায় রয়েছে। মর্মান্তিক ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিশ্বসমাজ চায়, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। বিশেষ করে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় যেসব দেশের নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে, সেসব দেশ ঘটনার আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। এ অবস্থায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা চলছে। তদন্ত চালানোর এখতিয়ার কার: জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইসিএও) নিয়মে বলা আছে, ‘দুর্ঘটনা বা ঘটনা যে দেশে ঘটেছে, তদন্তের দায়িত্ব সে দেশেরই।’ তবে বিশ্বের সব বড় উড়োজাহাজ দুর্ঘটনাকেই আন্তর্জাতিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তদন্তের জন্য অন্যান্য দেশকে কারিগরি সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ পাঠানোর আমন্ত্রণ জানানো হয়। কোনো কোনো ঘটনায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকায় আন্তর্জাতিক তদন্ত অপরিহার্য হয়ে ওঠে। এ ঘটনায়ও এই কথাটি প্রযোজ্য। গত মার্চে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট এমএইচ৩৭০ রহস্যজনকভাবে উধাও হওয়ার পর মালয়েশিয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ তদন্তে অংশ নেয়। এবার দুর্ঘটনায় যেসব দেশের নাগরিক উড়োজাহাজে ছিল, সেসব দেশ তদন্তে ভূমিকা রাখতে চাইবে। পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি করেছে। এদিকে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন আন্তদেশীয় বিমান পরিবহন কমিটি (আইএসি) বলেছে, আইসিএওর অধীনে তদন্ত হতে হবে। রাশিয়ার পাশাপাশি ইউক্রেনসহ বিভিন্ন সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র আইএসির সদস্য। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কীভাবে তদন্ত হবে: সংঘাতপূর্ণ ওই এলাকায় তদন্ত চালানো কঠিন কাজ। ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া, তদন্তকারীদের নিরাপত্তা, ধ্বংসাবশেষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া ইত্যাদি কাজ সুচারুভাবে শেষ করতে তদন্তকারীদের অনেক ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হবে। রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বলেছে, তারা আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুমতি দেবে। এ জন্য ওই এলাকায় মানবিক করিডোর খুলে দেওয়া হবে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সেখানে পূর্ণাঙ্গ অস্ত্রবিরতি চাইছে। তদন্তকারীরা কোথায় আলোকপাত করবেন: মার্কিন জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) সাবেক চেয়ারম্যান ডেবোরাহ হার্সম্যানের মতে, তদন্তকারীদের প্রথম কাজ হবে উড়োজাহাজটির চারটি কোনা খুঁজে বের করা: নাক, লেজ ও দুই পাখার দুই শীর্ষভাগ। পাশাপাশি ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিটের ভয়েস রেকর্ডারও খুঁজতে হবে। এনবিসিকে হার্সম্যান বলেন, উড়োজাহাজটি কীভাবে ভেঙে পড়ল, সেটি বের করতে হবে। এর মাধ্যমে জানা যাবে, কোথা থেকে এটা শুরু হলো এবং কীভাবে তা ছড়িয়ে পড়ল। তদন্ত নিয়ে এত মাতামাতি কেন: উড়োজাহাজটি যদি রাশিয়ার সরবরাহকৃত অস্ত্র দিয়ে ভূপাতিত করা হয়, তাহলে ইউক্রেন সংকট নতুন মোড় নিতে পারে। চলতি সপ্তাহে ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, রাশিয়া ইউক্রেনের একটি সামরিক বিমান ভূপাতিত করেছে। রাশিয়া এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, মস্কোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসার পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। রাশিয়া এই পদক্ষেপকে মার্কিন ‘ব্লাকমেল’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, তারা ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। ইউক্রেন নিয়ে পাশ্চাত্য ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ওই উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটল। ঘটনা যে-ই ঘটাক, এখন উভয়পক্ষই এ বিষয়টিকে পুঁজি করে একে অন্যকে ঘায়েল করার চেষ্টা করবে। তাই তদন্তকে নিজের মুঠিতে এনে তা থেকে ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে।
Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Sunday, July 20, 2014
তদন্তের মাঠ দখলের লড়াই:প্রথম অালো
তের মাঠ দখলের লড়াই। খবর বিবিসির। নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরগামী ফ্লাইট এমএইচ১৭ গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়।ইউক্রেনের পশ্চিমা-সমর্থিত সরকারের অভিযোগ, ওই অঞ্চলের রুশপন্থী বিদ্রোহীরা রাশিয়ার তৈরি বুক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করেছে। ওই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে রাশিয়া। তবে বিদ্রোহীরা দাবি করছে, আকাশে এত ওপরে উড্ডয়মান উড়োজাহাজ ভূপাতিত করার মতো ক্ষেপণাস্ত্র তাদের হাতে নেই। তারা উল্টো অভিযোগ করছে, বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন করতে কিয়েভের সেনাবাহিনী এই কাজ করেছে। রাশিয়ার সামরিক বাহিনী নিজেও উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পক্ষে যুক্তি দেখানো হচ্ছে, সম্প্রতি রুশ বাহিনী ওই অঞ্চলে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর একটি উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছে। অভিযোগ পাল্টা-অভিযোগের কাদা ছোড়াছুড়ির ফলে বিশ্ববাসী এখন কোনটা সত্য, তা নিয়ে ধাঁধায় রয়েছে। মর্মান্তিক ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিশ্বসমাজ চায়, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। বিশেষ করে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় যেসব দেশের নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে, সেসব দেশ ঘটনার আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। এ অবস্থায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা চলছে। তদন্ত চালানোর এখতিয়ার কার: জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইসিএও) নিয়মে বলা আছে, ‘দুর্ঘটনা বা ঘটনা যে দেশে ঘটেছে, তদন্তের দায়িত্ব সে দেশেরই।’ তবে বিশ্বের সব বড় উড়োজাহাজ দুর্ঘটনাকেই আন্তর্জাতিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তদন্তের জন্য অন্যান্য দেশকে কারিগরি সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ পাঠানোর আমন্ত্রণ জানানো হয়। কোনো কোনো ঘটনায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকায় আন্তর্জাতিক তদন্ত অপরিহার্য হয়ে ওঠে। এ ঘটনায়ও এই কথাটি প্রযোজ্য। গত মার্চে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট এমএইচ৩৭০ রহস্যজনকভাবে উধাও হওয়ার পর মালয়েশিয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ তদন্তে অংশ নেয়। এবার দুর্ঘটনায় যেসব দেশের নাগরিক উড়োজাহাজে ছিল, সেসব দেশ তদন্তে ভূমিকা রাখতে চাইবে। পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি করেছে। এদিকে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন আন্তদেশীয় বিমান পরিবহন কমিটি (আইএসি) বলেছে, আইসিএওর অধীনে তদন্ত হতে হবে। রাশিয়ার পাশাপাশি ইউক্রেনসহ বিভিন্ন সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র আইএসির সদস্য। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কীভাবে তদন্ত হবে: সংঘাতপূর্ণ ওই এলাকায় তদন্ত চালানো কঠিন কাজ। ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া, তদন্তকারীদের নিরাপত্তা, ধ্বংসাবশেষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া ইত্যাদি কাজ সুচারুভাবে শেষ করতে তদন্তকারীদের অনেক ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হবে। রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বলেছে, তারা আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুমতি দেবে। এ জন্য ওই এলাকায় মানবিক করিডোর খুলে দেওয়া হবে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সেখানে পূর্ণাঙ্গ অস্ত্রবিরতি চাইছে। তদন্তকারীরা কোথায় আলোকপাত করবেন: মার্কিন জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) সাবেক চেয়ারম্যান ডেবোরাহ হার্সম্যানের মতে, তদন্তকারীদের প্রথম কাজ হবে উড়োজাহাজটির চারটি কোনা খুঁজে বের করা: নাক, লেজ ও দুই পাখার দুই শীর্ষভাগ। পাশাপাশি ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিটের ভয়েস রেকর্ডারও খুঁজতে হবে। এনবিসিকে হার্সম্যান বলেন, উড়োজাহাজটি কীভাবে ভেঙে পড়ল, সেটি বের করতে হবে। এর মাধ্যমে জানা যাবে, কোথা থেকে এটা শুরু হলো এবং কীভাবে তা ছড়িয়ে পড়ল। তদন্ত নিয়ে এত মাতামাতি কেন: উড়োজাহাজটি যদি রাশিয়ার সরবরাহকৃত অস্ত্র দিয়ে ভূপাতিত করা হয়, তাহলে ইউক্রেন সংকট নতুন মোড় নিতে পারে। চলতি সপ্তাহে ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, রাশিয়া ইউক্রেনের একটি সামরিক বিমান ভূপাতিত করেছে। রাশিয়া এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, মস্কোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসার পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। রাশিয়া এই পদক্ষেপকে মার্কিন ‘ব্লাকমেল’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, তারা ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। ইউক্রেন নিয়ে পাশ্চাত্য ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ওই উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটল। ঘটনা যে-ই ঘটাক, এখন উভয়পক্ষই এ বিষয়টিকে পুঁজি করে একে অন্যকে ঘায়েল করার চেষ্টা করবে। তাই তদন্তকে নিজের মুঠিতে এনে তা থেকে ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment