অর্থ ব্যয়ের পেছনে কাজ করেছে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি। এমনকি পিকনিক, কাব ঘর নির্মাণ, ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামেও সিএসআর অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়ে ব্যাংকিং বিভাগ এই চার ব্যাংকের সিএসআর কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও গত সপ্তাহের শেষে জারি করা হয়। ব্যাংকিং বিভাগের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, লক্ষ করা যাচ্ছে যে, কয়েকটি রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদগুলো সিএসআরের আওতায় ব্যাপকভাবে অর্থ ব্যয় করছে। এতে ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে ও সার্বিকভাবে ব্যাংকের প্রভিশনিংয়ের ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে। এমতাবস্থায়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডকে সিএসআরের আওতায় অর্থ ব্যয় বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংকিং বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের সিএসআর কার্যক্রমে অর্থ ব্যয় নিয়ে আমাদের কাছে প্রচুর অভিযোগ এসেছে। এমনকি অর্থমন্ত্রীর কাছেও সিএসআর কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে। এই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে আমরা বেশির ভাগ অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেয়েছি। এসব কারণ বিবেচনা করে চারটি ব্যাংকের সিএসআর আওতায় অর্থ ব্যয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু এই চার ব্যাংকই নয়, অন্যান্য রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকেও সিএসআর অর্থ ব্যয় নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম লক্ষ করা যাচ্ছে। এদের ক্ষেত্রে শিগগিরই সিএসআরের আওতায় অর্থ ব্যয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে এই ব্যাংকগুলোরও সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় অর্থ ব্যয় বন্ধ করে দেয়া হবে। রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিভিন্ন ব্যাংকের সূত্র থেকে জানা গেছে, এই ব্যাংকগুলোতে একটি সঙ্ঘবদ্ধ সিএসআর ‘জালিয়াত চক্র’ গড়ে উঠেছে। তারা মূলত লবিস্ট হিসেবে কাজ করে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সিএসআরের আওতায় অর্থ জুগিয়ে দিয়ে তার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ তারা পেয়ে থাকে। তারাই বিভিন্ন পার্টি সংগ্রহ করে ব্যাংকে নিয়ে আসে। তাদের বলা হয়, সিএসআর অর্থ অনুমোদন করিয়ে দেয়া হবে। এর বিনিময়ে মূল অর্থের কিছু অংশ তাদের দিতে হবে। এই অংশের পরিমাণ ২০ ভাগ থেকে ৫০ ভাগ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ চক্রের সাথে ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পর্ষদ জড়িত রয়েছে। এমনকি বাইরের পেশার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই চক্রের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামেও সিএসআর অর্থ প্রদান করা হয়েছে। কাব, পিকনিক এমনকি বিয়েতে সিএসআরের অর্থ দেয়ার নজির রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৩ সালে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক সিএসআরের আওতায় ৪৪২ কোটি ব্যয় করেছে। এটি ২০০৯ সালের চেয়ে ৯ গুণ বেশি। ব্যাংকগুলো সিএসআর আওতায় অর্থ ব্যয় করলে ১০ ভাগ কর রেয়াত সুবিধা পেয়ে থাকে। ২০১৩ সালে একটি ব্যাংকই সিএসআরের আওতায় খরচ করেছে ৭৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। প্রতি ব্যাংকে গড়ে সিএসআরের আওতায় অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ ছিল সাত কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Tuesday, September 2, 2014
সিএসআরে ব্যয় বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে:নয়াদিগন্ত
অর্থ ব্যয়ের পেছনে কাজ করেছে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি। এমনকি পিকনিক, কাব ঘর নির্মাণ, ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামেও সিএসআর অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়ে ব্যাংকিং বিভাগ এই চার ব্যাংকের সিএসআর কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও গত সপ্তাহের শেষে জারি করা হয়। ব্যাংকিং বিভাগের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, লক্ষ করা যাচ্ছে যে, কয়েকটি রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদগুলো সিএসআরের আওতায় ব্যাপকভাবে অর্থ ব্যয় করছে। এতে ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে ও সার্বিকভাবে ব্যাংকের প্রভিশনিংয়ের ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে। এমতাবস্থায়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডকে সিএসআরের আওতায় অর্থ ব্যয় বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংকিং বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের সিএসআর কার্যক্রমে অর্থ ব্যয় নিয়ে আমাদের কাছে প্রচুর অভিযোগ এসেছে। এমনকি অর্থমন্ত্রীর কাছেও সিএসআর কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে। এই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে আমরা বেশির ভাগ অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেয়েছি। এসব কারণ বিবেচনা করে চারটি ব্যাংকের সিএসআর আওতায় অর্থ ব্যয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু এই চার ব্যাংকই নয়, অন্যান্য রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকেও সিএসআর অর্থ ব্যয় নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম লক্ষ করা যাচ্ছে। এদের ক্ষেত্রে শিগগিরই সিএসআরের আওতায় অর্থ ব্যয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে এই ব্যাংকগুলোরও সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় অর্থ ব্যয় বন্ধ করে দেয়া হবে। রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিভিন্ন ব্যাংকের সূত্র থেকে জানা গেছে, এই ব্যাংকগুলোতে একটি সঙ্ঘবদ্ধ সিএসআর ‘জালিয়াত চক্র’ গড়ে উঠেছে। তারা মূলত লবিস্ট হিসেবে কাজ করে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সিএসআরের আওতায় অর্থ জুগিয়ে দিয়ে তার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ তারা পেয়ে থাকে। তারাই বিভিন্ন পার্টি সংগ্রহ করে ব্যাংকে নিয়ে আসে। তাদের বলা হয়, সিএসআর অর্থ অনুমোদন করিয়ে দেয়া হবে। এর বিনিময়ে মূল অর্থের কিছু অংশ তাদের দিতে হবে। এই অংশের পরিমাণ ২০ ভাগ থেকে ৫০ ভাগ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ চক্রের সাথে ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পর্ষদ জড়িত রয়েছে। এমনকি বাইরের পেশার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই চক্রের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামেও সিএসআর অর্থ প্রদান করা হয়েছে। কাব, পিকনিক এমনকি বিয়েতে সিএসআরের অর্থ দেয়ার নজির রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৩ সালে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক সিএসআরের আওতায় ৪৪২ কোটি ব্যয় করেছে। এটি ২০০৯ সালের চেয়ে ৯ গুণ বেশি। ব্যাংকগুলো সিএসআর আওতায় অর্থ ব্যয় করলে ১০ ভাগ কর রেয়াত সুবিধা পেয়ে থাকে। ২০১৩ সালে একটি ব্যাংকই সিএসআরের আওতায় খরচ করেছে ৭৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। প্রতি ব্যাংকে গড়ে সিএসআরের আওতায় অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ ছিল সাত কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment