Thursday, September 4, 2014

পরিবারের দাবি ডাকাতি নয় পরিকল্পিত হত্যা:নয়াদিগন্ত

ডাকাতির ঘটনায় মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যা করা হয়নি। পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। উগ্রপন্থীরাই এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। লুটপাট করতে আসা ডাকাতের হাতে তিনি খুন হয়েছেন বলে পুলিশের মামলায় দেখানো হয়েছে। এতে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডের কথা বলা হয়নি। মামলায় ৩০২ ও ৩৪ ধারা সংযুক্ত করে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার। যাতে করে হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। গত
কাল বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় ফারুকীর পরিবারের প থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন নিহতের মেজো ছেলে আহমেদ রেজা ফারুকী।  আহমেদ রেজা ফারুকী বলেন, তার বাবার হত্যা কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি দাবি করেন, তার বাবার দুই স্ত্রী থাকলেও তাদের মধ্যে কখনো কোনো বিরোধ ছিল না। তার বাবার দুই স্ত্রীর ঘরের সন্তানদের মধ্যেও কোনো বিরোধ নেই। দুই পরিবারের ছয় ভাইবোনের মধ্যেও সুসম্পর্ক রয়েছে। পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্ব বা কলহ নেই। ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়েও নিজেদের কোনো শত্রুতা নেই। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, পারিবারিক, ব্যবসায়িক কিংবা ডাকাতির ঘটনায় তার আব্বা খুন হননি। তার আব্বা সুন্নি মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। হত্যার আগে তাকে তার মতাদর্শের বিরোধীরা মোবাইলফোন ও ফেসবুকে হত্যার হুমকি দেয়। উগ্রপন্থীরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। মামলার এজাহার লেখার সময় পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আব্বাকে যখন হত্যা করা হয়, তখন আমার বড় ভাই মাসুদ রেজা ফারুকী চাকরি সূত্রে নেদারল্যান্ডসে ছিলেন। পবিত্র হজ আদায়ের লক্ষ্যে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশ মামলার এজাহার তৈরি করে তার ছোটভাই ফয়সাল ফারুকীকে দিয়ে সই করিয়ে নেয়। ফয়সালের বয়স ১৮ হলেও মামলা সম্পর্কে তার ধারণা কম ছিল। তাই এখন আমরা মামলায় দণ্ডবিধি ৩০২ ও ৩৪ ধারা যুক্ত করতে অনুরোধ করছি।  রেজা ফারুকী বলেন, দেশে অনেক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত হলেও মাঝপথে থেমে যায়। ধীরগতি দেখা যায়। হত্যাকাণ্ডের এই মামলাটিও মাঝপথে থেমে যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। কিন্তু সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি এই মামলার যেন সুষ্ঠু বিচার হয়। আমরা অপো করতে রাজি আছি। তবু চাই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত যেন থেমে না যায়।  এ ব্যাপারে শেরে বাংলানগর থানার ওসি আবদুল মোমিন জানিয়েছেন, মামলার এজাহারটি সঠিক ভাবেই লেখা হয়েছে। দণ্ডবিধি ৩৯৬ ধারায় খুনসহ ডাকাতির অপরাধের কথা বলা হয়েছে। মামলার এজাহার দুর্বল করে লেখা হয়নি।  বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার বলেন, মামলার তদন্ত ধীর গতিতে চলছে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের কাছে পুলিশ কোনো তথ্য পায়নি। তারা যাদের নামের তালিকা দিয়েছিলেন তাদের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতিবার কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হবে বলে তিনি জানান।  ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ফারুকী হত্যা মামলায় কোনো কু উদ্ধার হয়নি। পরিবারের সদস্যরাও সুনির্দিষ্টভাবে কোনো অভিযোগ করতে পারেনি। তবে গোয়েন্দারা চেষ্টা করছে হত্যারহস্য উন্মোচনে। এ ছাড়া গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক চৌকস টিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে আসামিদের গ্রেফতারে কাজ করছে। 

No comments:

Post a Comment