শুক্রবার ছুটির দিনে গতকাল ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় প্রচুর লোক সমাগম হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় থমকে থাকা মেলা হঠাৎ গতকাল জমজমাট হয়ে ওঠে। সকাল ১০টা থেকেই ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় শুরু হয়। দর্শক উপস্থিতিতে মেলায় গতকাল বিক্রিও হয়েছে বেশ। যারা এত দিন হতাশায় ছিলেন তারাও খুশির হাসি হেসেছেন। গতকাল ছিল মেলার ২৩তম দিন ও সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার। বিগত দিনের তুলনায় গতকালই বাণিজ্যমেলায় ছিল সবচেয়ে বেশি লোকের সমাগম। এ দিন সকাল থেকেই বাণিজ্যমেলা অভিমুখে শুরু হয় মানুষের ঢল। সাধ আর সাধ্যের সমন্বয়ে পছন্দমতো জিনিস কিনতে মেলার স্টলগুলোয় জড়ো হতে থাকেন সব শ্রেণীর মানুষজন। আবার অনেকেই মেলায় আসেন বিভিন্ন কোম্পানির নতুন নতুন পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে। কেউ আসছেন বিশেষ মূল্য ছাড়ে কেনাকাটা করতে। দুপুরের দিকে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, দল বেঁধে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে সকাল থেকে মেলায় আসতে থাকেন মানুষ। তবে প্রবেশ টিকিট ক্রয়ের পর্যাপ্ত বুথ থাকায় মেলায় ঢুকতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি দর্শনার্থীদের। মেলার গ্যারেজ ও পার্কিং ইজারাদাররা জানান, সকাল ১০টা থেকে সব পার্কিং স্পেস গাড়িতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। ফলে মানুষজন বাধ্য হয়ে সড়কে গাড়ি পার্কিং করেন। এ কারণে শেরেবাংলা নগরের তালতলা থেকে খামারবাড়ী পর্যন্ত সারাক্ষণই গাড়ির জটলা ছিল। বাণিজ্যমেলায় বরাবরের মতো গতকালও দেশী-বিদেশী ইলেকট্রনিক পণ্যে ক্রেতাদের বেশি নজর কাড়ে। বিশেষ করে মোবাইল ফোনের চাহিদা বেশি দেখা গেছে। এ চাহিদার কথা মাথায় রেখেই দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সর্বশেষ প্রযুক্তিনির্ভর মোবাইল সেটের সেবা দিতে কোম্পানিগুলো বেশ তৎপর। এসব মোবাইলে তরুণ-তরুণীদের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। আর অনেকেই বিভিন্ন স্টলে এসে দেখছেন কোন ফোনে মূল্যছাড় বা উপহার কী আছে। এ ছাড়া অ্যালুমিনিয়ামের গৃহস্থালি, প্লাস্টিক পণ্যসামগ্রী, ইমিটেশনের গয়না, প্রসাধনসহ বিভিন্ন সামগ্রী প্রদর্শিত হচ্ছে যেসব স্টলে। সেগুলোয় তরুণী ও নারী ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। নাভানা, আক্তার, হাতিল, ব্রাদার্স, পারটেক্স, নাদিয়াসহ দেশের আসবাবশিল্পের বড় ব্র্যান্ডগুলো প্রতিবারের মতো এবারো বাণিজ্যমেলায় অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়ন তৈরি করেছে। মেলা উপলে নিয়ে এসেছে নতুন নতুন আসবাব। ৫ থেকে ২০ শতাংশ মূল্যছাড় দেয়ায় ক্রেতারাও কিনছেন। সনি র্যাংগস এনেছে বিদেশী কোম্পানির নজর কাড়া সব পণ্য। বিক্রিও হচ্ছে ভালো। সনি র্যাংগস প্যাভিলিয়নের ইনচার্জ সারোয়ার জাহান চৌধুরী জানান, মেলা উপলক্ষে সনি এক্সপ্রিয়াসহ সব ধরনের স্মার্ট মোবাইল সেটে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আজকের মতো মেলার বাকি দিনগুলো (শুক্রবার) থাকলে মেলা থেকে লোকসানের যে শঙ্কা করা হচ্ছিল তা হয়তো কেটে যেতে পারে। অর্থনীতির স্বার্থে তিনি সব রাজনৈতিক দলকে দেশে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান। বাণিজ্যমেলায় দু’টি সেলস ও ডিসপ্লে সেন্টার নিয়েছে ওয়ালটন। ৮ নম্বর প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ও ২০ নম্বর প্রিমিয়ার স্টল। এবারের মেলায় ৩৫৪ মডেলের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করছে ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। ওয়ালটন প্যাভিলিয়নে স্মার্টফোনপ্রেমীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। মেলায় ওয়ালটনের ৩০ মডেলের আকর্ষণীয় কালারের ৪৮ ধরনের স্মার্টফোন ও ট্যাব প্রদর্শন করা হচ্ছে। সবর্শেষ যুক্ত হয়েছে উন্নত প্রযুক্তির স্মার্টফোন প্রিমো জেড ও ওয়ালপ্যাড-জি। ওয়ালটনের মোবাইল ফোন গবেষণা এবং উন্নয়ন বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার মশিউর হোসেন জানান, সব শ্রেণীর ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে তিন হাজার ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্মার্টফোন দিচ্ছে ওয়ালটন। এ ছাড়া ৮ মডেলের ট্যাব পাওয়া যাচ্ছে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২৩ হাজার টাকার মধ্যে। তিনি আরো জানান, মেলা উপলক্ষে হ্যান্ডসেট ভেদে দুই থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ ছাড় দিচ্ছে ওয়ালটন। ওয়ালটন প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়নের ম্যানেজার আকরামুজ্জামান অপু বলেন, ওয়ালটন ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্যে দেশের শীর্ষ ব্র্যান্ড। এ কারণেই ওয়ালটন ক্রেতাদের কাছে দায়বদ্ধ। মেলায় দেশী ব্র্যান্ডের মোবাইল সেট ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তাই পণ্যের গুণগত উচ্চমান এবং সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতে চান তারা। তিনি বলেন, সময়ের প্রয়োজনে ওয়ালটন পণ্যের মডেল, ডিজাইন ও কালারে নতুনত্ব থাকে। আছে এবারো।
No comments:
Post a Comment