প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, দুজন দুই মেরুর মানুষ। একজন দীর্ঘদিন বিশ্বসভায় অচ্ছুৎ ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী, অন্যজন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অকুণ্ঠ উদারপন্থী। তবে গতকাল রোববার নয়াদিল্লিতে বারাক ওবামা ও নরেন্দ্র মোদি যেভাবে একে অন্যকে উষ্ণ আলিঙ্গনের পাশে বেঁধেছেন, তা ছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বেরই প্রতিচ্ছবি। পর্যবেক্ষকেরা বলেন, দুই নেতার অভিন্ন ধরনের সাধাসিধে অতীতই তাঁদের এ নৈকট্যের কারণ। হিন্দুস্থান টাইমস-এ প্রমিত পাল চৌধুরী লিখেছেন, ‘শেকড়ের প্রতিকূল পরিস্থিতিকে অতিক্রম করে শীর্ষে উঠেছেন তাঁরা।...উভয়েই বিদ্রোহী, যার সামনে রয়েছে একটি লক্ষ্য’। নিউইয়র্কে ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানি খোবরাগাড়ের গ্রেপ্তার ও নগ্ন করে তল্লাশির কারণে ২০১৩ সালের শেষ দিকেই ভারত-মার্কিন সম্পর্ক বেশ তিক্ত হয়ে ওঠে। ‘গুজরাট কাণ্ডের’ জন্য সমালোচিত মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তা শিগগিরই আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল টাইম সাময়িকী। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি কেবল সেই তিক্ততার বহিঃপ্রকাশ থেকে বিরতই থাকেননি, হোয়াইট হাউসে গত সেপ্টেম্বরে ওবামার সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ অনেকের প্রত্যাশার চেয়ে ভালোভাবে অনুষ্ঠিত হয়। দুই নেতার দীর্ঘ আলাপচারিতার কথা স্মরণ করে হোয়াইট হাউসের উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বেন রোডস বললেন, ‘আমার মনে হয়, তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের খুব ভালো একটা রসায়ন তৈরি হয়েছে।’ প্রথম সাক্ষাতের সেই ঘটনার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে খাদ্যে ভর্তুকি নিয়ে বিরোধের অবসান হয়। ওবামা ও মোদির মধ্যে ভালো কাজের সম্পর্ক গড়ে ওঠার আভাস পাওয়া গিয়েছিল এতে। মোদির পূর্বসূরি মনমোহন সিংয়ের সান্নিধ্যও বারাক ওবামা উপভোগ করেছেন। তবে পর্যবেক্ষকেরা বলেন, ভারতে তখন আসলে মনমোহন সিং না সোনিয়া গান্ধীর হাতে ক্ষমতার চাবিকাঠি ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার কারণে মোদি যে নেতা হিসেবে কাজের কাজ করতে সক্ষম, সেটা ওবামার খুব পছন্দ। কূটনৈতিক বাস্তবতা আর চীনের বাড় ঠেকানোর অভিন্ন লক্ষ্য ওবামা-মোদি দোস্তির একটা কারণ হতে পারে এটা মেনে নিয়েই পর্যবেক্ষকেরা বলেন, এ বিষয়টি তার চেয়ে বড় কিছু। দুজনেই নির্বাচিত হয়েছেন বিশাল প্রত্যাশার বোঝা ঘাড়ে নিয়ে। দুজনেই ভাঙতে চান অনেক অচলায়তন। একজন চায়ের দোকানির সন্তান, অন্যজন বর্ণবাদের বাধা ঠেলে এগিয়ে যাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। দিল্লির বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ ফেলো কে জি সুরেশ বললেন, একজনের রাজনৈতিক আদর্শ বাম ঘেঁষা ও অন্যজনের ডান ঘেঁষা হলেও উভয়ের আছে কিছু অভিন্ন সাধারণ লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যগুলো পূরণে তাঁদের একে অন্যের সহায়তা প্রয়োজন। সূত্র: এএফপি
No comments:
Post a Comment