ন স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমানের (রাঙ্গা) ছোট ছবি। কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলছে। তালাটাই থাকে। দলের চেয়ারম্যান বা প্রতিমন্ত্রী রংপুরে না এলে দলের কার্যালয় না খোলাটাই এখন রেওয়াজে পরিণত। রংপুরে জাতীয় পার্টি যে প্রকৃতই হালে পানি পাচ্ছে না, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে গত উপজেলা নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি। ‘জাতীয় পার্টির রাজধানী’খ্যাত খোদ রংপুরেই উপজেলা নির্বাচনে আট উপজেলার একটিতেও তাদের প্রার্থীরা জয় পাননি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন মাত্র একটিতে। এমনকি সদর উপজেলায় স্বয়ং এরশাদ প্রচারে নেমেও কোনো সুবিধা করতে পারেননি। কেন এমন হলো, তা নিয়ে নানাজনের নানা মত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা মনে করেন, জাতীয় পার্টি স্রোতের বিপরীতে চলছে। রংপুরে আওয়ামী লীগবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। অথচ জাতীয় পার্টি আছে আওয়ামী লীগের লেজুড় হয়ে। লোকে বিএনপিকেও খুব পছন্দ করে, তা নয়। তবে মন্দের ভালো হিসেবে তাদের দিকেই চলে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি ছেড়ে। উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির তিন আসনে জয় তা প্রমাণ করে। অন্য একটি মত হলো, দলের আসল লক্ষ্য ও আদর্শ কী, তা কারও কাছে স্পষ্ট নয়। রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া যদি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তবে সে উদ্দেশ্য সাধনের কোনো কর্মসূচি বা কোনো পরিকল্পনা দলের কার্যক্রমে দেখা যায় না। সব পরিকল্পনা, সব ভাবনা এককভাবে চেয়ারম্যানের মাথায়। তিনি কর্মীদের বলেছেন, ‘ওসব নিয়ে তোমাদের ভাবতে হবে না। আমি যেদিকে থাকি, তোমরা সেদিকে থাকবা। তোমরা রংপুর ঠিক রাখো।’ বাস্তবে এভাবে রংপুরকে ঠিক রাখতে তাঁরা পারছেন না। একটা সময় ছিল রংপুরে এরশাদের আগমন মানেই হুলুস্থুল ব্যাপার। তিনি ১৯৯৬ সালে কারামুক্ত হয়ে যখন প্রথম রংপুরে আসেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুর শহরের পথের দুই পাশে আক্ষরিক অর্থেই গায়ে গা লাগিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাঁকে সংবর্ধনা দিয়েছেন। রংপুর শহরে এমন জনজোয়ার নেমেছিল যা অদৃষ্টপূর্ব। সেই জনবন্যা এখন কেবল রোমন্থনের মধুর স্মৃতি। এখন তিনি এলে সাধারণ মানুষের আবেগে তেমন আলোড়ন ওঠে না। দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কিছুটা চাঞ্চল্য জাগে। কয়েক শ লোক তাঁকে সঙ্গ দেন। জেলা কার্যালয় হয়ে ওঠে সরগরম। গ্রামে জনসভা করলে অবশ্য এখনো ভালো জমায়েত হয়। রংপুরের গ্রামাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে কথা বলে মনে হলো, এরশাদ যে বিভিন্ন সময় তাঁর নিজের কথা, নিজের মতের সঙ্গে বৈপরীত্য পোষণ করে থাকেন, বিষয়টি তাঁরা খুব একটা আমলে নেন না। তাঁদের বক্তব্য ‘রাজনীতি কইবার গেইলে এমন কিছু করা লাগে বাহে’। বিষয়টি তাঁরা সহজভাবেই নিয়েছেন। যা বিরক্তি সৃষ্টি করেছে শহুরে শিক্ষিত শ্রেণিকে। জেলা জাতীয় পার্টির নিজস্ব বিশেষ কর্মসূচি নেই। কেন্দ্র থেকে কর্মসূচি আর টাকা দিলে সেই কর্মসূচি পালিত হয়। স্থানীয় নেতারা জানালেন, দলীয় প্রধান এরশাদ আপাতত ঢাকাকেন্দ্রিক জাতীয় রাজনীতি বাদ দিয়ে রংপুরকে প্রদেশ করার দাবি নিয়ে আন্দোলন করতে বলেছেন। অবশ্য জাতীয় পার্টির মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন কাদেরী বলেন, সারা দেশেই এখন রাজনৈতিক দলগুলো নিষ্ক্রিয়, সে কারণে রংপুরে জাতীয় পার্টিও নিষ্ক্রিয়।
Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Wednesday, September 3, 2014
হালে পানি নেই জাতীয় পার্টির:প্রথম অালো
ন স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমানের (রাঙ্গা) ছোট ছবি। কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলছে। তালাটাই থাকে। দলের চেয়ারম্যান বা প্রতিমন্ত্রী রংপুরে না এলে দলের কার্যালয় না খোলাটাই এখন রেওয়াজে পরিণত। রংপুরে জাতীয় পার্টি যে প্রকৃতই হালে পানি পাচ্ছে না, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে গত উপজেলা নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি। ‘জাতীয় পার্টির রাজধানী’খ্যাত খোদ রংপুরেই উপজেলা নির্বাচনে আট উপজেলার একটিতেও তাদের প্রার্থীরা জয় পাননি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন মাত্র একটিতে। এমনকি সদর উপজেলায় স্বয়ং এরশাদ প্রচারে নেমেও কোনো সুবিধা করতে পারেননি। কেন এমন হলো, তা নিয়ে নানাজনের নানা মত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা মনে করেন, জাতীয় পার্টি স্রোতের বিপরীতে চলছে। রংপুরে আওয়ামী লীগবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। অথচ জাতীয় পার্টি আছে আওয়ামী লীগের লেজুড় হয়ে। লোকে বিএনপিকেও খুব পছন্দ করে, তা নয়। তবে মন্দের ভালো হিসেবে তাদের দিকেই চলে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি ছেড়ে। উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির তিন আসনে জয় তা প্রমাণ করে। অন্য একটি মত হলো, দলের আসল লক্ষ্য ও আদর্শ কী, তা কারও কাছে স্পষ্ট নয়। রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া যদি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তবে সে উদ্দেশ্য সাধনের কোনো কর্মসূচি বা কোনো পরিকল্পনা দলের কার্যক্রমে দেখা যায় না। সব পরিকল্পনা, সব ভাবনা এককভাবে চেয়ারম্যানের মাথায়। তিনি কর্মীদের বলেছেন, ‘ওসব নিয়ে তোমাদের ভাবতে হবে না। আমি যেদিকে থাকি, তোমরা সেদিকে থাকবা। তোমরা রংপুর ঠিক রাখো।’ বাস্তবে এভাবে রংপুরকে ঠিক রাখতে তাঁরা পারছেন না। একটা সময় ছিল রংপুরে এরশাদের আগমন মানেই হুলুস্থুল ব্যাপার। তিনি ১৯৯৬ সালে কারামুক্ত হয়ে যখন প্রথম রংপুরে আসেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুর শহরের পথের দুই পাশে আক্ষরিক অর্থেই গায়ে গা লাগিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাঁকে সংবর্ধনা দিয়েছেন। রংপুর শহরে এমন জনজোয়ার নেমেছিল যা অদৃষ্টপূর্ব। সেই জনবন্যা এখন কেবল রোমন্থনের মধুর স্মৃতি। এখন তিনি এলে সাধারণ মানুষের আবেগে তেমন আলোড়ন ওঠে না। দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কিছুটা চাঞ্চল্য জাগে। কয়েক শ লোক তাঁকে সঙ্গ দেন। জেলা কার্যালয় হয়ে ওঠে সরগরম। গ্রামে জনসভা করলে অবশ্য এখনো ভালো জমায়েত হয়। রংপুরের গ্রামাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে কথা বলে মনে হলো, এরশাদ যে বিভিন্ন সময় তাঁর নিজের কথা, নিজের মতের সঙ্গে বৈপরীত্য পোষণ করে থাকেন, বিষয়টি তাঁরা খুব একটা আমলে নেন না। তাঁদের বক্তব্য ‘রাজনীতি কইবার গেইলে এমন কিছু করা লাগে বাহে’। বিষয়টি তাঁরা সহজভাবেই নিয়েছেন। যা বিরক্তি সৃষ্টি করেছে শহুরে শিক্ষিত শ্রেণিকে। জেলা জাতীয় পার্টির নিজস্ব বিশেষ কর্মসূচি নেই। কেন্দ্র থেকে কর্মসূচি আর টাকা দিলে সেই কর্মসূচি পালিত হয়। স্থানীয় নেতারা জানালেন, দলীয় প্রধান এরশাদ আপাতত ঢাকাকেন্দ্রিক জাতীয় রাজনীতি বাদ দিয়ে রংপুরকে প্রদেশ করার দাবি নিয়ে আন্দোলন করতে বলেছেন। অবশ্য জাতীয় পার্টির মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন কাদেরী বলেন, সারা দেশেই এখন রাজনৈতিক দলগুলো নিষ্ক্রিয়, সে কারণে রংপুরে জাতীয় পার্টিও নিষ্ক্রিয়।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment