Wednesday, January 28, 2015

তুষারঝড়ে নাকাল যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর–পূর্বাঞ্চল:প্রথম অালো

ভারী তুষারপাত আর তুষারঝড়ে কাবু যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া অঝোরধারার তুষারপাতে ঢাকা পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। নিউইয়র্কসহ কয়েকটি রাজ্যে জারি করা হয় জরুরি অবস্থা। নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার মধ্যরাতের পর তুষারপাতের পরিমাণ আরও বাড়ার কথা। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের তুষারপাত নতুন রে
কর্ড সৃষ্টি করবে। কোনো কোনো জায়গায় তিন ফুটের বেশি বরফের স্তূপ জমবে বলে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। প্রচণ্ড তুষারপাতের কারণে সোমবার দুপুর থেকেই জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সদা নির্ঘুম নগর হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক পরিণত হয় ভুতুড়ে জনপদে। সোমবার রাত ১১টার পর থেকে নিউইয়র্কের সড়কপথে জরুরি বিভাগের যানবাহন ছাড়া গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে যানবাহন চলার অনুমতি দেওয়া হয়। নগরের গণপরিবহনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার সকালে গণপরিবহনও চালু হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তুষারের কারণে নিউইয়র্ক থেকে ম্যাসাচুসেটস পর্যন্ত বিমানবন্দরগুলোতে উড়োজাহাজ ওঠানামা বন্ধ হয়ে যায়। এয়ারলাইনসগুলো এর মধ্যে ছয় হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। নিকট অতীতের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০৬ সালে ২৬ দশমিক ৯ ইঞ্চি বরফ পড়েছিল নিউইয়র্কে। এর আগে এ নগরে ১৯৪৭ সালে ২৫ দশমিক ৮ ইঞ্চি তুষারপাত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার রাতে তুষারপাতের পরিমাণ তিন ফুট ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে ঘণ্টায় ৬০ মাইল বেগে ঝোড়ো বাতাসের পূর্বাভাস ছিল। সেই তুষারঝড় বিপজ্জনক হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। ২০১২ সালে নিউইয়র্ক, নিউজার্সিতে হ্যারিকেন সিন্ডি আঘাত হেনেছিল। তাতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলে। সেই স্মৃতি মানুষের মনে এখনো তাজা। নাগরিকদের মধ্যে এবারের তুষারপাত নিয়েও রীতিমতো আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। জননিরাপত্তার জন্য নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেটিকাট ও ম্যাসাচুসেটস রাজ্যে জরুরি সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কোমো জরুরি অবস্থা জারি করে জননিরাপত্তার জন্য ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন। নিউইয়র্ক নগরের মেয়র ডি ব্লাজিও ও পুলিশ কমিশনার উইলিয়াম ব্রাটন সংবাদ সম্মেলন করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতির কথা নাগরিকদের অবহিত করেছেন। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সোমবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি বাবু রহমান। তিনি প্রথম আলোকে জানান, পুরো নগর জনশূন্য। নিউইয়র্কের এমন জনমানবহীন চেহারা কখনো দেখেননি। একাধিক ক্যাবচালক জানিয়েছেন, তাঁদের আয়-রোজগার বন্ধ।

No comments:

Post a Comment