তিকরিত বিমান একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়। গত বছরের জুন মাসে অন্যান্য এলাকার সঙ্গে সেখান থেকেও ইরাকের সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে দেয় আইএস জঙ্গিরা। জুনের ১২ তারিখে ওই একাডেমির কমবেশি ১ হাজার ৭০০ নিরস্ত্র সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আইএস তখন এর ভিডিও দৃশ্য প্রকাশ করেছিল। তিকরিতের ওই হত্যাযজ্ঞের শিকার বেশির ভাগ মানুষই ছিল শিয়া মুসলিম। প্রাণে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছিল, হত্যার আগে তারা শিয়া কি না, তা নিশ্চিত হতে নানা প্রশ্ন করে জঙ্গিরা। তিকরিত পুনরুদ্ধারে গত ২ মার্চ থেকে বিশাল যৌথ অভিযান শুরু করে ইরাকের সরকারি বাহিনী, শিয়া স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধা ও স্থানীয় কিছু সুন্নি উপজাতি যোদ্ধারা। এক মাস ধরে শহরটি অবরুদ্ধ করে রাখার পর সর্বশেষ ৪ এপ্রিল তিকরিত থেকে জঙ্গিদের পুরোপুরি হটিয়ে দিতে সক্ষম হয় তারা। গণকবরগুলোর কয়েকটির অবস্থান তিকরিতে ইরাকের সাবেক নেতা সাদ্দাম হোসেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে। গত বছর তিকরিত দখলের পর এই প্রাসাদকেই সদর দপ্তর বানিয়েছিল আইএস। উল্লেখ্য, তিকরিত সাদ্দামের জন্মস্থান। ইরাক সরকারের একজন মুখপাত্র গতকাল জানান, তিকরিত পুনরুদ্ধারের কয়েক দিনের মাথায় সেখানকার গণকবরগুলো থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের কাজ শুরু করেছে ফরেনসিক দলগুলো। পরে মরদেহগুলো শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। খালিদ আল-আতবি নামের একজন তদন্তকারী বলেন, ‘এটা ছিল একটা হৃদয়বিদারক দৃশ্য। কাজ করার সময় কান্না ঠেকাতে পারিনি। কীভাবে তারা ঠান্ডা মাথায় ১ হাজার ৭০০ মানুষকে বর্বরভাবে হত্যা করতে পারল?’ আল-আতবি জানান, প্রথম দিনে গতকাল ৪৭টি দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক আলামতে বোঝা যাচ্ছে, এগুলো তিকরিত বিমান একাডেমির সদস্যদেরই। কট্টর সুন্নি আইএসের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে শিয়া মিলিশিয়াদের যেসব ঘটনা উদ্বুদ্ধ করেছে, তার অন্যতম ঘটনা হচ্ছে ওই হত্যাযজ্ঞ। শিয়া মিলিশিয়াদের সহায়তাতেই গত বছর আইএসের অগ্রাভিযান থামাতে পেরেছিল ইরাক সরকার। তবে শিয়া মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠেছে। বলা হয়েছে, তারা অনেক স্থানে আইএস সমর্থকদের ওপর নির্মম প্রতিশোধ নিয়েছে। তিকরিত মুক্ত করতে যৌথ ইরাকি বাহিনীর ৩০ হাজার যোদ্ধার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই ছিলেন ইরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়া বাহিনী ‘পপুলার মোবিলাইজেশন’-এর সদস্য। তিকরিত পুনরুদ্ধারে সফলতার পর এখন আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর মসুলের ওপর মনোযোগ দিচ্ছে ইরাকি বাহিনী। ২২৫ মাইল উত্তরে টাইগ্রিস নদীর তীরে অবস্থিত শহরটি এখন ইরাকে আইএসের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি।
Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Wednesday, April 8, 2015
মুক্ত তিকরিতে ১২ গণকবরের সন্ধান:প্রথম অালো
তিকরিত বিমান একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়। গত বছরের জুন মাসে অন্যান্য এলাকার সঙ্গে সেখান থেকেও ইরাকের সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে দেয় আইএস জঙ্গিরা। জুনের ১২ তারিখে ওই একাডেমির কমবেশি ১ হাজার ৭০০ নিরস্ত্র সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আইএস তখন এর ভিডিও দৃশ্য প্রকাশ করেছিল। তিকরিতের ওই হত্যাযজ্ঞের শিকার বেশির ভাগ মানুষই ছিল শিয়া মুসলিম। প্রাণে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছিল, হত্যার আগে তারা শিয়া কি না, তা নিশ্চিত হতে নানা প্রশ্ন করে জঙ্গিরা। তিকরিত পুনরুদ্ধারে গত ২ মার্চ থেকে বিশাল যৌথ অভিযান শুরু করে ইরাকের সরকারি বাহিনী, শিয়া স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধা ও স্থানীয় কিছু সুন্নি উপজাতি যোদ্ধারা। এক মাস ধরে শহরটি অবরুদ্ধ করে রাখার পর সর্বশেষ ৪ এপ্রিল তিকরিত থেকে জঙ্গিদের পুরোপুরি হটিয়ে দিতে সক্ষম হয় তারা। গণকবরগুলোর কয়েকটির অবস্থান তিকরিতে ইরাকের সাবেক নেতা সাদ্দাম হোসেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে। গত বছর তিকরিত দখলের পর এই প্রাসাদকেই সদর দপ্তর বানিয়েছিল আইএস। উল্লেখ্য, তিকরিত সাদ্দামের জন্মস্থান। ইরাক সরকারের একজন মুখপাত্র গতকাল জানান, তিকরিত পুনরুদ্ধারের কয়েক দিনের মাথায় সেখানকার গণকবরগুলো থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের কাজ শুরু করেছে ফরেনসিক দলগুলো। পরে মরদেহগুলো শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। খালিদ আল-আতবি নামের একজন তদন্তকারী বলেন, ‘এটা ছিল একটা হৃদয়বিদারক দৃশ্য। কাজ করার সময় কান্না ঠেকাতে পারিনি। কীভাবে তারা ঠান্ডা মাথায় ১ হাজার ৭০০ মানুষকে বর্বরভাবে হত্যা করতে পারল?’ আল-আতবি জানান, প্রথম দিনে গতকাল ৪৭টি দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক আলামতে বোঝা যাচ্ছে, এগুলো তিকরিত বিমান একাডেমির সদস্যদেরই। কট্টর সুন্নি আইএসের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে শিয়া মিলিশিয়াদের যেসব ঘটনা উদ্বুদ্ধ করেছে, তার অন্যতম ঘটনা হচ্ছে ওই হত্যাযজ্ঞ। শিয়া মিলিশিয়াদের সহায়তাতেই গত বছর আইএসের অগ্রাভিযান থামাতে পেরেছিল ইরাক সরকার। তবে শিয়া মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠেছে। বলা হয়েছে, তারা অনেক স্থানে আইএস সমর্থকদের ওপর নির্মম প্রতিশোধ নিয়েছে। তিকরিত মুক্ত করতে যৌথ ইরাকি বাহিনীর ৩০ হাজার যোদ্ধার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই ছিলেন ইরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়া বাহিনী ‘পপুলার মোবিলাইজেশন’-এর সদস্য। তিকরিত পুনরুদ্ধারে সফলতার পর এখন আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর মসুলের ওপর মনোযোগ দিচ্ছে ইরাকি বাহিনী। ২২৫ মাইল উত্তরে টাইগ্রিস নদীর তীরে অবস্থিত শহরটি এখন ইরাকে আইএসের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment