বছর পর জাপানের কোনো প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম ঢাকা সফর। উভয় প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের সফর ও শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে যা আছে : ১. গত ২৫ থেকে ২৮ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্ক শান্তি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের বিষয়ে অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে ‘সার্বিক অংশীদারি’তে উন্নীত করার মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়। আজ (গতকাল) অনুষ্ঠিত দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকে সার্বিক অংশীদারি কাঠামোর আওতায় দুই দেশের সম্পর্ক আরো বিস্তৃত করা এবং দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। ২. জাপানের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী বীরদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। ৩. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সফর বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে। উভয় প্রধানমন্ত্রীই জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক লাভজনক দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশীদারিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ায় আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। উভয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রসারে গুরুত্বের বিষয়ে একমত হন। ৪. প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের নেতৃত্বে জাপানের ব্যাপক আর্থসামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দক্ষিণ এশিয়ায় আর্থসামাজিক ও অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন তিনি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে বাংলাদেশের চমকপ্রদ সাফল্য, বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতিতে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেন যে বাংলাদেশের এসব লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে জাপান পাশে থাকবে। ৫. নারীর ক্ষমতায়নে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর জোরালো অঙ্গীকার এবং ২০২০ সাল নাগাদ নারী নেতৃত্ব ৩০ শতাংশ বৃদ্ধির স্বপ্নের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে টোকিওতে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি ফর উইম্যানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অংশ নেবেন বলেও শেখ হাসিনা শিনজো আবেকে জানিয়েছেন। ৬. উভয় প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে সংলাপ চালু করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আগামী বছরের প্রথম দিকে ঢাকায় পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। ৭. উভয় প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত বৈঠকের সুবিধার কথা স্বীকার করেছেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়েও তাঁরা আলোচনা করেছেন। গত ২১ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম বাংলাদেশ-জাপান সরকারি-বেসরকারি অর্থনৈতিক সংলাপের ফলাফলে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। শিনজো আবে তাঁর দেশের জন্য বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান, প্রতিযোগিতামূলক প্রণোদনা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও শ্রমিক সরবরাহের মতো বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সেবার মানোন্নয়ন এবং শিল্পের জন্য স্থিতিশীল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যত দ্রুত সম্ভব বিষয়গুলোর সুরাহা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে নির্দেশনা দেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, নিটওয়্যার পণ্যের রুলস অব অরিজিন ব্যবস্থা আরো শিথিল করতে জাপানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নেওয়ায় শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা করেন, বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ ও বাংলাদেশ থেকে জাপানের আমদানি বাড়বে। শেখ হাসিনা আরো আশা করেন, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) জাপানের প্রযুক্তিভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়বে। ঢাকায় জাপানের বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থার এসএমই প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠাকে তিনি স্বাগত জানান। ৮. বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতায় শেখ হাসিনা সন্তোষ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে ৬০০ বিলিয়ন ইয়েন (৬০০ কোটি ডলার) অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করায় শেখ হাসিনা শিনজো আবেকে ধন্যবাদ জানান। উভয় প্রধানমন্ত্রী বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্টের (বিগ-বি) উদ্যোগে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। তাঁরা যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ, পল্লী উন্নয়ন/অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিগ-বি উদ্যোগের ক্ষেত্রে তিনটি ভিত্তি হলো অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন ও কানেক্টিভিটি (সংযোগ) জোরদার। উভয় প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, জাপানের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিগ-বির আওতায় উভয় দেশ সুফল পাবে। ৯. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো জাপান অন্য কোনো দেশের মুদ্রা বানিয়েছে। গত এপ্রিল মাসের মধ্যে দুই টাকার ৫০০ মিলিয়ন ধাতব মুদ্রা বানিয়ে বাংলাদেশকে সরবরাহ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ১০. উভয় দেশ শান্তিপূর্ণ উপায়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। উভয় প্রধানমন্ত্রী এ বছরই শান্তিপূর্ণ উপায়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়ে জাপান-বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ বৈঠক অনুষ্ঠানে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ১১. উভয় দেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে আগাম তথ্য বিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ১২. উৎপাদক পর্যায় থেকে ভোক্তা পর্যন্ত খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল প্রতিষ্ঠাকে উভয় প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানিয়েছেন। খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদন খাতেও উভয় দেশ সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নীল সমুদ্র অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) ধারণার প্রসারেও উভয় প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ১৩. উভয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানের সহযোগিতায় আল্ট্রাসাউন্ড প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর মতো দুই দেশের চিকিৎসা পেশাজীবীদের সহযোগিতাবিষয়ক অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। জাপানের মেডিক্যাল পিএইচডির সমমান নির্ধারণের উদ্যোগকেও তাঁরা স্বাগত জানান। ১৪. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে বলেছেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ড প্রতিবেশী বা অন্য কারো বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে দেওয়া হবে না। সন্ত্রাস ও আন্তদেশীয় অপরাধ দমনে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারেও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। ১৫. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি জোরদারে জাপানের ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান। উভয় প্রধানমন্ত্রী অবাধ নৌ চলাচলের অধিকারের (ফ্রিডম অব নেভিগেশন) ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যেকোনো বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তির পক্ষে মত দেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গভীর সমুদ্রে বিমান ও বেসামরিক বিমানের নিরাপত্তার ওপরও তাঁরা জোর দেন। ১৬. বাংলাদেশে ‘পিস বিল্ডিং সেন্টার’ স্থাপনে জাপানের সহযোগিতার প্রস্তাবকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাগত জানান। ১৭. ফিলিস্তিনের গাজায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় প্রধানমন্ত্রী অস্ত্রবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানান। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিও তাঁরা সমর্থন জানান। ১৮. উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচিতে উভয় দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উভয় প্রধানমন্ত্রী উত্তর কোরিয়াকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার এবং অপহরণসহ অন্যান্য ইস্যু দেরি না করে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। ১৯. দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ায় জাপান বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে। আন্তর্জাতিক দায়ভাগের অংশ হিসেবে জাপান বাংলাদেশকে এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২০. উভয় প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতি ও মানুষে মানুষে যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপান স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রশংসা করেন তাঁরা। উভয় দেশের কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা-অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাবকে তাঁরা স্বাগত জানান। ২১. উভয় প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের থিংক ট্যাংক ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের ওপর জোর দেন। ২২. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২০ সালে টোকিও অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিক আয়োজনে জাপানের সাফল্য কামনা করেন। ২৩. উভয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। ২৪. জাপানের প্রতি কৃতজ্ঞতা হিসেবে বাংলাদেশ ২০১৬-১৭ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয় এবং জাপানের প্রতি সমর্থন জানায়। ২৫. উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। উভয় প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ঢাকায় লাল গালিচা সংবর্ধনা : জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে সস্ত্রীক গতকাল দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে বিশেষ বিমানে ঢাকায় পৌঁছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানবন্দর থেকেই জাপানের প্রধানমন্ত্রী সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর তিনি যান ঢাকার ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে। সেখান থেকে সোনারগাঁও হোটেলে ফিরে ‘জাপান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে’ বক্তব্য দেন। বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রথমে একান্ত বৈঠক করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুই দেশের দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর তাঁরা যৌথ বিবৃতি স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বঙ্গভবনে যান শিনজো আবে। সেখানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর তিনি সোনারগাঁও হোটেলে ফেরেন। এরপর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শিনজো আবে ওই হোটেলেই সন্ধ্যায় বৈঠকে বসেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে। এরপর রাতে তিনি সোনারগাঁও হোটেলে তাঁর সম্মানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আয়োজিত ভোজসভায় অংশ নেন। আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে যাবেন। সেখানে জয়নুল গ্যালারি ঘুরে দেখার পর যাবেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সকাল সাড়ে ১০টায় বিশেষ বিমানে করে তাঁর ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে শ্রীলঙ্কা যাবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Sunday, September 7, 2014
বন্ধু হিসেবে পাশে থাকবে জাপান:কালের কন্ঠ
বছর পর জাপানের কোনো প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম ঢাকা সফর। উভয় প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের সফর ও শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে যা আছে : ১. গত ২৫ থেকে ২৮ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্ক শান্তি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের বিষয়ে অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে ‘সার্বিক অংশীদারি’তে উন্নীত করার মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়। আজ (গতকাল) অনুষ্ঠিত দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকে সার্বিক অংশীদারি কাঠামোর আওতায় দুই দেশের সম্পর্ক আরো বিস্তৃত করা এবং দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। ২. জাপানের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী বীরদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। ৩. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সফর বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে। উভয় প্রধানমন্ত্রীই জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক লাভজনক দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশীদারিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ায় আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। উভয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রসারে গুরুত্বের বিষয়ে একমত হন। ৪. প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের নেতৃত্বে জাপানের ব্যাপক আর্থসামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দক্ষিণ এশিয়ায় আর্থসামাজিক ও অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন তিনি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে বাংলাদেশের চমকপ্রদ সাফল্য, বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতিতে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেন যে বাংলাদেশের এসব লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে জাপান পাশে থাকবে। ৫. নারীর ক্ষমতায়নে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর জোরালো অঙ্গীকার এবং ২০২০ সাল নাগাদ নারী নেতৃত্ব ৩০ শতাংশ বৃদ্ধির স্বপ্নের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে টোকিওতে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি ফর উইম্যানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অংশ নেবেন বলেও শেখ হাসিনা শিনজো আবেকে জানিয়েছেন। ৬. উভয় প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে সংলাপ চালু করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আগামী বছরের প্রথম দিকে ঢাকায় পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। ৭. উভয় প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত বৈঠকের সুবিধার কথা স্বীকার করেছেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়েও তাঁরা আলোচনা করেছেন। গত ২১ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম বাংলাদেশ-জাপান সরকারি-বেসরকারি অর্থনৈতিক সংলাপের ফলাফলে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। শিনজো আবে তাঁর দেশের জন্য বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান, প্রতিযোগিতামূলক প্রণোদনা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও শ্রমিক সরবরাহের মতো বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সেবার মানোন্নয়ন এবং শিল্পের জন্য স্থিতিশীল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যত দ্রুত সম্ভব বিষয়গুলোর সুরাহা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে নির্দেশনা দেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, নিটওয়্যার পণ্যের রুলস অব অরিজিন ব্যবস্থা আরো শিথিল করতে জাপানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নেওয়ায় শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা করেন, বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ ও বাংলাদেশ থেকে জাপানের আমদানি বাড়বে। শেখ হাসিনা আরো আশা করেন, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) জাপানের প্রযুক্তিভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়বে। ঢাকায় জাপানের বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থার এসএমই প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠাকে তিনি স্বাগত জানান। ৮. বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতায় শেখ হাসিনা সন্তোষ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে ৬০০ বিলিয়ন ইয়েন (৬০০ কোটি ডলার) অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করায় শেখ হাসিনা শিনজো আবেকে ধন্যবাদ জানান। উভয় প্রধানমন্ত্রী বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্টের (বিগ-বি) উদ্যোগে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। তাঁরা যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ, পল্লী উন্নয়ন/অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিগ-বি উদ্যোগের ক্ষেত্রে তিনটি ভিত্তি হলো অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন ও কানেক্টিভিটি (সংযোগ) জোরদার। উভয় প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, জাপানের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিগ-বির আওতায় উভয় দেশ সুফল পাবে। ৯. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো জাপান অন্য কোনো দেশের মুদ্রা বানিয়েছে। গত এপ্রিল মাসের মধ্যে দুই টাকার ৫০০ মিলিয়ন ধাতব মুদ্রা বানিয়ে বাংলাদেশকে সরবরাহ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ১০. উভয় দেশ শান্তিপূর্ণ উপায়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। উভয় প্রধানমন্ত্রী এ বছরই শান্তিপূর্ণ উপায়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়ে জাপান-বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ বৈঠক অনুষ্ঠানে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ১১. উভয় দেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে আগাম তথ্য বিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ১২. উৎপাদক পর্যায় থেকে ভোক্তা পর্যন্ত খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল প্রতিষ্ঠাকে উভয় প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানিয়েছেন। খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদন খাতেও উভয় দেশ সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নীল সমুদ্র অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) ধারণার প্রসারেও উভয় প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ১৩. উভয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানের সহযোগিতায় আল্ট্রাসাউন্ড প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর মতো দুই দেশের চিকিৎসা পেশাজীবীদের সহযোগিতাবিষয়ক অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। জাপানের মেডিক্যাল পিএইচডির সমমান নির্ধারণের উদ্যোগকেও তাঁরা স্বাগত জানান। ১৪. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে বলেছেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ড প্রতিবেশী বা অন্য কারো বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে দেওয়া হবে না। সন্ত্রাস ও আন্তদেশীয় অপরাধ দমনে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারেও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। ১৫. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি জোরদারে জাপানের ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান। উভয় প্রধানমন্ত্রী অবাধ নৌ চলাচলের অধিকারের (ফ্রিডম অব নেভিগেশন) ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যেকোনো বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তির পক্ষে মত দেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গভীর সমুদ্রে বিমান ও বেসামরিক বিমানের নিরাপত্তার ওপরও তাঁরা জোর দেন। ১৬. বাংলাদেশে ‘পিস বিল্ডিং সেন্টার’ স্থাপনে জাপানের সহযোগিতার প্রস্তাবকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাগত জানান। ১৭. ফিলিস্তিনের গাজায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় প্রধানমন্ত্রী অস্ত্রবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানান। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিও তাঁরা সমর্থন জানান। ১৮. উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচিতে উভয় দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উভয় প্রধানমন্ত্রী উত্তর কোরিয়াকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার এবং অপহরণসহ অন্যান্য ইস্যু দেরি না করে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। ১৯. দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ায় জাপান বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে। আন্তর্জাতিক দায়ভাগের অংশ হিসেবে জাপান বাংলাদেশকে এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২০. উভয় প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতি ও মানুষে মানুষে যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপান স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রশংসা করেন তাঁরা। উভয় দেশের কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা-অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাবকে তাঁরা স্বাগত জানান। ২১. উভয় প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের থিংক ট্যাংক ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের ওপর জোর দেন। ২২. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২০ সালে টোকিও অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিক আয়োজনে জাপানের সাফল্য কামনা করেন। ২৩. উভয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। ২৪. জাপানের প্রতি কৃতজ্ঞতা হিসেবে বাংলাদেশ ২০১৬-১৭ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয় এবং জাপানের প্রতি সমর্থন জানায়। ২৫. উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। উভয় প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ঢাকায় লাল গালিচা সংবর্ধনা : জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে সস্ত্রীক গতকাল দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে বিশেষ বিমানে ঢাকায় পৌঁছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানবন্দর থেকেই জাপানের প্রধানমন্ত্রী সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর তিনি যান ঢাকার ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে। সেখান থেকে সোনারগাঁও হোটেলে ফিরে ‘জাপান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে’ বক্তব্য দেন। বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রথমে একান্ত বৈঠক করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুই দেশের দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর তাঁরা যৌথ বিবৃতি স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বঙ্গভবনে যান শিনজো আবে। সেখানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর তিনি সোনারগাঁও হোটেলে ফেরেন। এরপর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শিনজো আবে ওই হোটেলেই সন্ধ্যায় বৈঠকে বসেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে। এরপর রাতে তিনি সোনারগাঁও হোটেলে তাঁর সম্মানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আয়োজিত ভোজসভায় অংশ নেন। আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে যাবেন। সেখানে জয়নুল গ্যালারি ঘুরে দেখার পর যাবেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সকাল সাড়ে ১০টায় বিশেষ বিমানে করে তাঁর ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে শ্রীলঙ্কা যাবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment