Sunday, September 7, 2014

সবজিক্ষেত পানির নিচে বীজতলা তাই উঠানে:কালের কন্ঠ

বগুড়ার ধুনটের কালেরপাড়া গ্রামকে এখন একটি বদ্বীপের মতো দেখায়। চারদিকে বন্যার পানি। মাঝে দু-একটি ঘরবাড়ি। এখন শীতকালীন সবজি চাষ শুরুর ভরা মৌসুম। কিন্তু চারদিকে পানি থাকায় চাষিরা পড়েছে সংকটে। হাজার হাজার একর সবজিক্ষেত এখনো পানির নিচে। তাই যাদের বাড়ি ডোবেনি কিন্তু চারদিকে পানি, তারা এখন বাড়ির আঙিনায়, উঠানে তৈরি করেছে সবজির বীজতলা। তাদের মতে, এ বছর বাজারে শীতকালীন সবজির মূল্য বেড়ে যাবে। চাহিদার তুলনায় স
রবরাহও থাকবে অনেক কম। বন্যাকবলিত এসব সবজি-গ্রাম ঘুরে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এই তথ্য। স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার একটি বড় অংশে সবজির আবাদ হয়। সারা বছর সেখানে জমিতে সবজি থাকলেও শীতের আগে কৃষকদের বিশেষ প্রস্তুতি থাকে। তবে এবার সেই প্রস্তুতিতে বাদ সেধেছে বন্যা। প্রায় তিন হাজার হেক্টর সবজিক্ষেত এখনো পানির নিচে। যেসব সবজি ক্ষেতে ছিল, কৃষক তা তুলতে পারেনি। আবার নতুন সবজির জন্য বীজতলা তৈরি করতেও পারছে না। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক, যাদের বাড়ি ডোবেনি, তারা বাড়ির আঙিনায় বা উঠানে সবজির বীজতলা করেছে। বাড়িতে তৈরি করা এসব বীজতলায় অন্যান্য সবজির পাশাপাশি উচ্চফলনশীল জাতের ফসল, মিন্টু, মল্লিকা ও বারী-১ থেকে বারী-১৪ টমেটো রয়েছে। রবি মৌসুমে টমেটো চাষের উপযোগী সময় অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত। টমেটোর চারা লাগানোর মৌসুম সামনে রেখে কৃষক বীজতলা তৈরি করছে। কারণ আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত টমেটোর বীজতলা তৈরির শেষ সময়। এরপর জমিতে চারা লাগানোর পালা। কথা হয় কালেরপাড়া গ্রামের অবস্থাúন্ন কৃষক মনিরুল আলমের সঙ্গে। তিনি জানান, তাঁর মাঠের ২০ বিঘা জমির সবজি এখন পানির নিচে। হঠাৎ বন্যার পানি এসে পড়ায় ক্ষেত থেকে সবজি ওঠানোর সময় পাননি। এ ছাড়া তাঁর আরো পাঁচ বিঘা জমিতে যে সবজির বীজতলা ছিল তাও পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে এখন নিজের বাড়ির আঙিনায় স্বল্প পরিসরে টমেটো ও ফুলকপির বীজতলা তৈরি করেছেন। অদূরেই দেখা গেল আরো একজন কৃষক নিজের পটোলক্ষেতে কলার ভেলা নিয়ে গিয়ে গাছের অবস্থা দেখার চেষ্টা করছেন। জানালেন, একবুক পানির নিচে রয়েছে গাছের গোড়া। একটি পটোলও ক্ষেত থেকে তোলার সময় পাননি। এ বছর তাঁর শুধু বড় ধরনের লোকসানই নয়, হয়তো খেয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। কারণ এই ক্ষেতের সবজি বিক্রি করেই তাঁর সংসার চলে। বন্যা তাঁর সর্বনাশ করে দিয়েছে। দেখা গেছে, অনেক বাড়ির আঙিনায় তৈরি করা বীজতলার নিরাপত্তার জন্য চারদিকে মাছ ধরার জালের তৈরি বেড়া দেওয়া হয়েছে। আর বীজতলার ওপর পলিথিন দিয়ে ঝুপড়ি ঘরের মতো ছাউনি দেওয়া হয়েছে। মূলত পরিমিত রোদের তাপ ও পানিসেচের জন্য এ ছাউনির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাড়ির পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও বীজতলা পরিচর্যায় সহযোগিতা করছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যেকোনো সবজির বীজতলায় অধিক যত্নবান হতে হয়। কারণ চারায় এক ধরনের ভাইরাস আক্রমণ করে। সেই ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে বীজতলায় নেটিং পদ্ধতি করা প্রয়োজন। তিনি জানান, এই অঞ্চলে যে পরিমাণ সবজিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাতে এবার শীত মৌসুমে সবজির দাম বাড়ার আশঙ্কাই বেশি।

No comments:

Post a Comment