লনের অংশ হিসেবে গত বুধবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে প্রায় দেড় শ শিক্ষার্থী অনশন শুরু করেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সে সংখ্যাটি অর্ধশতে নেমে আসে। গতকাল পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫-৩০ জন। গতকাল রাত আটটা পর্যন্ত ৭৮ ঘণ্টায় অনশনরত শিক্ষার্থীদের মোট ২৮ জন অসুস্থ হয়েছেন। অসুস্থ ১২-১৫ জন শহীদ মিনারেই রয়েছেন। বাকিদের পরিবারের লোকজন এসে নিয়ে গেছেন। পাবনা থেকে এসে আসলাম শেখ গত বৃহস্পতিবার অনশনে যোগ দেন। গতকাল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক চিকিৎসক এসে তাঁকে দেখে গেছেন। শিক্ষার্থীরা জানান, ওই চিকিৎসক আসলামকে যে করেই হোক কিছু খাওয়াতে বলেছেন। তাঁর হাত দিয়ে স্যালাইন আর প্রবেশ করছে না। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপচারিতায় আসলাম শেখ বলেন, ‘অনশন যদি চলতে থাকে আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়কে আমার লাশটা উপহার দিয়ে যাব।’ তিনি দাবি করেন, চলতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন। ফলে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, বিশ্ববিদ্যালয় তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে। ছাত্রদের আন্দোলন কখনো বৃথা যায় না।’ সরকারি বাংলা কলেজের ইমদাদুল হক ৬০ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরাও দ্বিতীয় দফা ভর্তি পরীক্ষা না থাকার পক্ষে। কিন্তু এই রকম একটি সিদ্ধান্তের জন্য আমরা আগে থেকে প্রস্তুত ছিলাম না।’ শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে নিজেরা গান লিখে, গান গেয়ে, কবিতা আবৃত্তি করে, নিজেদের দাবির পক্ষে স্লোগান দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। বেশ কয়েকজনকে সেখানে ভর্তি প্রস্তুতির পড়াশোনাও করতে দেখা গেছে। দিনের বেলা অনশনকে ঘিরে শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত হন। আর রাতে শুধু অনশনরতরাই সেখানে অবস্থান করেন। গতকাল দুপুরে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক অধ্যাপক আবদুস সাত্তার। এই মোর্চায় রয়েছে বাসদ কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটি, কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন। বিকেলে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের একটি পদযাত্রা করতে গিয়ে সংগঠনের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। এ ছাড়া, সন্ধ্যায় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার অসুস্থদের দেখতে শহীদ মিনারে যান। সন্ধ্যায় প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন উদীচী, সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন, সমগীত, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিল্পীরা। এর মাঝে মাঝে চলে বক্তৃতাপর্ব। বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা ‘প্রগতিশীল ছাত্র জোট’ আজ রোববার বিকেল চারটায় অনশনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে।
Headlines from most popular newspapers of Bangladesh. বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শিরোনামগুলো এক নজরে দেখে নিন।
Sunday, November 16, 2014
অনশনের চতুর্থ দিনে অসুস্থ ৭:প্রথম অালো
লনের অংশ হিসেবে গত বুধবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে প্রায় দেড় শ শিক্ষার্থী অনশন শুরু করেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সে সংখ্যাটি অর্ধশতে নেমে আসে। গতকাল পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫-৩০ জন। গতকাল রাত আটটা পর্যন্ত ৭৮ ঘণ্টায় অনশনরত শিক্ষার্থীদের মোট ২৮ জন অসুস্থ হয়েছেন। অসুস্থ ১২-১৫ জন শহীদ মিনারেই রয়েছেন। বাকিদের পরিবারের লোকজন এসে নিয়ে গেছেন। পাবনা থেকে এসে আসলাম শেখ গত বৃহস্পতিবার অনশনে যোগ দেন। গতকাল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক চিকিৎসক এসে তাঁকে দেখে গেছেন। শিক্ষার্থীরা জানান, ওই চিকিৎসক আসলামকে যে করেই হোক কিছু খাওয়াতে বলেছেন। তাঁর হাত দিয়ে স্যালাইন আর প্রবেশ করছে না। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপচারিতায় আসলাম শেখ বলেন, ‘অনশন যদি চলতে থাকে আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়কে আমার লাশটা উপহার দিয়ে যাব।’ তিনি দাবি করেন, চলতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন। ফলে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, বিশ্ববিদ্যালয় তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে। ছাত্রদের আন্দোলন কখনো বৃথা যায় না।’ সরকারি বাংলা কলেজের ইমদাদুল হক ৬০ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরাও দ্বিতীয় দফা ভর্তি পরীক্ষা না থাকার পক্ষে। কিন্তু এই রকম একটি সিদ্ধান্তের জন্য আমরা আগে থেকে প্রস্তুত ছিলাম না।’ শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে নিজেরা গান লিখে, গান গেয়ে, কবিতা আবৃত্তি করে, নিজেদের দাবির পক্ষে স্লোগান দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। বেশ কয়েকজনকে সেখানে ভর্তি প্রস্তুতির পড়াশোনাও করতে দেখা গেছে। দিনের বেলা অনশনকে ঘিরে শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত হন। আর রাতে শুধু অনশনরতরাই সেখানে অবস্থান করেন। গতকাল দুপুরে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক অধ্যাপক আবদুস সাত্তার। এই মোর্চায় রয়েছে বাসদ কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটি, কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন। বিকেলে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের একটি পদযাত্রা করতে গিয়ে সংগঠনের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। এ ছাড়া, সন্ধ্যায় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার অসুস্থদের দেখতে শহীদ মিনারে যান। সন্ধ্যায় প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন উদীচী, সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন, সমগীত, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিল্পীরা। এর মাঝে মাঝে চলে বক্তৃতাপর্ব। বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা ‘প্রগতিশীল ছাত্র জোট’ আজ রোববার বিকেল চারটায় অনশনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment